গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: সাবিনা মা হতে যাচ্ছেন। তিনি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান।
দৃশ্যকল্প-২: মালিহা ৮৮ মাসের গর্ভবতী। হঠাৎ করে তার খিঁচুনি ও রক্তস্রাব দেখা দেয়।

  1. ক)

    ঝুঁকিপূর্ণ 'মা' কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    গর্ভাবস্থায় খনিজ লবণের চাহিদা বৃদ্ধি পায়— বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে সাবিনাকে যেসব স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত লক্ষণগুলো কোন ধরনের জটিলতাকে নির্দেশ করে তা ব্যাখ্যা করো এবং উক্ত জটিলতা রোধে করণীয় উল্লেখ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব গর্ভবতী মায়ের বয়স, শারীরিক অবস্থা বা কোনো পূর্ববর্তী জটিলতার কারণে গর্ভাবস্থায় ও প্রসবকালে মা এবং গর্ভস্থ শিশুর জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে, তাদের ঝুঁকিপূর্ণ মা বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গর্ভাবস্থায় গর্ভস্থ ভ্রূণের দৈহিক বৃদ্ধি, রক্তকণিকা তৈরি এবং অস্থির সুষম গঠনের জন্য অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে ভ্রূণের হাড় ও দাঁতের গঠনের জন্য পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস দরকার হয়, যা মায়ের শরীর থেকে সংগৃহীত হয়। এছাড়া মায়ের রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং শিশুর শরীরে আয়রন সঞ্চিত রাখার জন্য অতিরিক্ত লৌহের (আয়রন) চাহিদা সৃষ্টি হয়। এ কারণে গর্ভাবস্থায় ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন ও আয়োডিনের মতো খনিজ লবণের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১-এ সাবিনা একজন গর্ভবতী মা যিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে (প্রথম ট্রাইমিস্টার) মা ও গর্ভস্থ ভ্রূণের সুস্থতা নিশ্চিত করতে এবং জটিলতা এড়াতে কিছু অপরিহার্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা আবশ্যক।

    ১. সাধারণ শারীরিক পরীক্ষা: উচ্চতা, ওজন, রক্তচাপ ও নাড়ির স্পন্দন পরীক্ষা করা।
    ২. রক্তের পরীক্ষা: রক্তের গ্রুপ ও Rh ফ্যাক্টর নির্ণয়, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা (রক্তাল্পতা আছে কি না জানতে), ব্লাড সুগার এবং ভি.ডি.আর.এল (VDRL), এইচআইভি ও হেপাটাইটিস-বি পরীক্ষা।
    ৩. প্রস্রাব পরীক্ষা: প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা সুগারের উপস্থিতি এবং মূত্রনালির সংক্রমণ (UTI) আছে কি না তা নির্ধারণ করা।
    ৪. আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG): গর্ভধারণের সঠিক সময়কাল নির্ণয়, ভ্রূণ জরায়ুর ভেতরে সঠিকভাবে স্থাপিত হয়েছে কি না (এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি রোধে) এবং ভ্রূণের হৃদস্পন্দন পর্যবেক্ষণ করা।

    সাবিনার এই পরীক্ষাগুলো করার মাধ্যমে গর্ভাবস্থার সম্ভাব্য ঝুঁকি আগে থেকেই শনাক্ত ও নিরাময় করা সম্ভব।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২-এ মালিহার গর্ভকালীন শেষভাগে (৮ মাস) হঠাৎ খিঁচুনি ও রক্তস্রাব দেখা দেওয়া একটি গুরুতর ও প্রাণঘাতী চিকিৎসাগত জরুরি অবস্থা। খিঁচুনি মূলত একলাম্পশিয়া (Eclampsia) এবং শেষ ত্রৈমাসিকে রক্তস্রাব সাধারণত গর্ভফুল সংক্রান্ত জটিলতা (যেমন- প্লাসেন্টা প্রিভিয়া বা অ্যাব্রাপশিও প্লাসেন্টা)-কে নির্দেশ করে। এগুলো গর্ভাবস্থার প্রধান পাঁচটি বিপৎচিহ্নের অন্যতম।

    উক্ত জটিলতা রোধে ও জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয়:
    ১. দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর: রোগীকে অবিলম্বে জরুরি প্রসূতি সেবাসম্পন্ন (EOC) কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নিয়ে যেতে হবে।
    ২. জরুরি চিকিৎসা ও খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ: চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে দ্রুত রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ম্যাগনেসিয়াম সালফেট (খিঁচুনি নিয়ন্ত্রক ওষুধ) প্রদান করতে হবে।
    ৩. রক্ত প্রস্তুত রাখা: রক্তক্ষরণ সামাল দিতে এবং রক্তশূন্যতা রোধে জরুরি রক্তের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
    ৪. নিবিড় পরিচর্যা ও সিজারিয়ান সেকশন: মা ও শিশুর অবস্থা বিবেচনা করে দ্রুত জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রসব করাতে হবে।
    ৫. রোগীকে শান্ত পরিবেশে রাখা: খিঁচুনি আক্রান্ত রোগীকে কোনো শব্দ বা উজ্জ্বল আলো ছাড়া নিরাপদ ও খোলামেলা স্থানে পাশ ফিরিয়ে শুইয়ে দিতে হবে, যাতে শ্বাসকষ্ট না হয়।

    নিয়মিত প্রসবপূর্ব যত্ন (ANC) গ্রহণ করলে এ ধরনের মারাত্মক জটিলতা সময়মতো প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন