হিন্দু ধর্ম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

নরেশ পাশের বাড়ির অসুস্থ একটি ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে। সে ছেলেটির সাথে কয়েকদিন হাসপাতালে থাকে। তাকে আর্থিকভাবেও সাহায্য করে। অন্যদিকে নিলয় বাবু নিজ জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও সমাজ ও দেশের মঙ্গলের জন্য বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করে। এরূপ ব্যক্তি দেশ ও জাতির অহংকার।

  1. ক)

    রাবণ সীতাকে কোন বনে বন্দি করে রেখেছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    শ্রীরামচন্দ্র মিত্র বিভীষণকে ভর্ৎসনা করেছিলেন কেন?

    (2)
  3. গ)

    নরেশের মধ্যে পাঠের কোন নৈতিক গুণ প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের নিলয় বাবুর মতো লোক বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় প্রয়োজন আছে কি? পাঠের আলোকে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    রাবণ সীতাকে অশোক বনে বন্দি করে রেখেছিলেন।

  2. খ)

    বিভীষণের পুত্র তরণীসেন রাবণের পক্ষে যুদ্ধ করতে এসে ‘জয়রাম’ ধ্বনি দিচ্ছিল। রাম তার পরিচয় জানতে চাইলে বিভীষণ আসল পরিচয় গোপন করেন এবং তাকে দুরন্ত রাক্ষস বলে বৈষ্ণব অস্ত্র নিক্ষেপ করতে বলেন। রামের বাণে তরণীর মৃত্যু হলে বিভীষণ ‘হা পুত্র তরণীসেন’ বলে কেঁদে ওঠেন। তখন সত্য প্রকাশ পায়। পরিচয় গোপন করে ভুল পথে চালিত করার কারণে রাম মিত্র বিভীষণকে ভর্ৎসনা করেন।

  3. গ)

    নরেশের মধ্যে পাঠ্যবইয়ের মানবতা নামক নৈতিক গুণ প্রকাশ পেয়েছে।

    মানবতার ধারণা: মানুষের প্রতি মানুষের যে দরদ, ভালোবাসা ও মমত্ববোধ, তাকে মানবতা বলে। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ক্রোধ, হিংসা প্রভৃতি পশুরও আছে। শুধু মানবতা গুণের জন্যই মানুষ অন্য প্রাণী থেকে শ্রেষ্ঠ। অপরের দুঃখে প্রাণ কেঁদে ওঠা, ক্ষুধার্তকে অন্ন, রুগ্ণকে ওষুধ ও বিপন্নকে আশ্রয় দেওয়া মানবতারই রূপ। জীবসেবাও মানবতার অঙ্গ।

    উপাখ্যানের দৃষ্টান্ত: রাজা রন্তিবর্মা আটচল্লিশ দিন অনাহারে থাকার পর উনপঞ্চাশতম দিনে পাওয়া খাবার ক্ষুধার্ত ভিক্ষুক ও তার কুকুরকে দিয়ে দেন। নিজে কষ্ট সহ্য করে অন্যের ক্ষুধা মেটানোই প্রকৃত মানবতা।

    উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: নরেশ পাশের বাড়ির অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। সে কয়েকদিন হাসপাতালে ছেলেটির সাথে থেকেছে এবং আর্থিকভাবেও সাহায্য করেছে। নিজের সময় ও অর্থ ব্যয় করে অন্যের বিপদে এভাবে এগিয়ে আসা মানবতাবোধের পরিচায়ক।

    সুতরাং, নরেশের আচরণে মানবতা গুণটি প্রকাশ পেয়েছে।

  4. ঘ)

    হ্যাঁ, উদ্দীপকের নিলয় বাবুর মতো লোক বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় অবশ্যই প্রয়োজন আছে। নিলয় বাবু জীবনের ঝুঁকি জেনেও সমাজ ও দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করেন। তাঁর মধ্যে সৎসাহস গুণটি প্রকাশ পেয়েছে।

    সৎসাহসের ধারণা: ন্যায় ও ধর্ম রক্ষার জন্য ভয় না করে সাহসের সাথে এগিয়ে যাওয়াই সৎসাহস। পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, ধর্ম রক্ষার জন্য যুদ্ধ করা বীরের ধর্ম। বালক তরণীসেন ঠিক এ সৎসাহসের পরিচয় দিয়েছিল। সে বিপদ জেনেও দ্বাদশ বছর বয়সে রাবণের পক্ষে যুদ্ধে গিয়েছিল। উপাখ্যানের শিক্ষা হলো, আমরা দেশের জন্য জীবন বিসর্জন দিতে পিছপা হব না।

    নিলয় বাবুর মতো মানুষের প্রয়োজনীয়তা:
    ১. অন্যায় ও দুর্নীতি প্রতিরোধ: বর্তমান সমাজে অন্যায়, অবিচার ও সামাজিক অনাচার বেড়েছে। সৎসাহসী মানুষ ভয় না পেয়ে এর প্রতিবাদ করতে পারেন।
    ২. দেশ ও সমাজের কল্যাণ: নিলয় বাবুর মতো মানুষ নিজের ক্ষতি মেনে নিয়েও সমাজের উন্নয়নে এগিয়ে আসেন। ফলে সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকে।
    ৩. অনুপ্রেরণা: এমন ব্যক্তিরা আদর্শ স্থাপন করেন। তাঁদের দেখে তরুণ প্রজন্ম সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস পায়।
    ৪. দেশের স্বাধীনতা ও সম্মান রক্ষা: যুগে যুগে দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় সৎসাহসী মানুষের ত্যাগই প্রধান শক্তি। তাই তিনি দেশ ও জাতির অহংকার।

    সুতরাং, সমাজে অন্যায় দূর করে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নিলয় বাবুর মতো সৎসাহসী মানুষ অবশ্যই প্রয়োজন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন