সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
সহপাঠ প্রশ্ন
কেউতো জানে না প্রাণের আকুতি বারে বারে সে কি চায় স্বার্থের টানে প্রিয়জন কেন দূরে সরে চলে যায় ধরনীর বুকে পাশাপাশি তবু কেউ বুঝি কারো নয়।।
- ক)(1)
নবাবের গোলন্দাজ বাহিনী কোন খাল পেরিয়ে ছুটে এসেছিল?
- খ)(2)
"আমরা এমন কিছু করলাম যা ইতিহাস হবে।"-উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের দ্বিতীয় লাইনটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কোন চরিত্রের কার্যকলাপের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে হয়? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের স্বার্থপরতার বিষয়টি একসূত্রে গাঁথা।" মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নবাবের গোলন্দাজ বাহিনী 'মরহট্টা' বা মারাঠা খাল পেরিয়ে ছুটে এসেছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"আমরা এমন কিছু করলাম যা ইতিহাস হবে"—উক্তিটি দ্বারা সিরাজউদ্দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত করার গোপন ও ঐতিহাসিক চক্রান্ত সফল করার আত্মতৃপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ত্বরান্বিত করতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে রবার্ট ক্লাইভ এবং নবাবের প্রধান সেনাপতি মীর জাফরসহ এদেশীয় কুচক্রী মহল একটি গোপন ষড়যন্ত্রমূলক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। সেই দলিল বা চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর রাজবল্লভ বা চক্রান্তকারীরা নবাবকে ক্ষমতাচ্যুত করে ব্রিটিশদের সহায়তায় ক্ষমতা দখলের এই অভূতপূর্ব ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হতে দেখে দম্ভ ও তৃপ্তিভরে উক্তিটি করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দ্বিতীয় লাইন—"স্বার্থের টানে প্রিয়জন কেন দূরে সরে চলে যায়"—'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের প্রধান সেনাপতি মীর জাফর ও ঘসেটি বেগম চরিত্রের কার্যকলাপের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, ঘসেটি বেগম সিরাজউদ্দৌলার আপন বড় খালা এবং মীর জাফর ছিলেন সিরাজের আত্মীয় ও বিশ্বাসভাজন প্রধান সেনাপতি। কিন্তু ব্যক্তিগত ক্ষমতা, নবাব হওয়ার চরম মোহ এবং সম্পদের লোভে তারা নবাব সিরাজউদ্দৌলার সবচেয়ে বড় শত্রুতে পরিণত হন। দেশের স্বাধীনতা ও আত্মীয়তার টানকে পদদলিত করে তারা বিদেশি ইংরেজদের সাথে ষড়যন্ত্রে হাত মেলান। পলাশীর যুদ্ধে মীর জাফরের নিষ্ক্রিয়তা এবং ঘসেটি বেগমের চরম বিদ্বেষ প্রমাণ করে কীভাবে স্বার্থের টানে মানুষ আপনজনকে ত্যাগ করে চরম ক্ষতিসাধন করে।
উদ্দীপকে ঠিক এ কথাই বলা হয়েছে যে, স্বার্থপরতার টানে প্রিয়জনও দূরে সরে যায় ও বৈরী আচরণ করে। মীর জাফর ও ঘসেটি বেগমের বিশ্বাসঘাতকতা ঠিক এই স্বার্থান্ধ কার্যকলাপেরই সুস্পষ্ট প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের স্বার্থপরতার বিষয়টি একসূত্রে গাঁথা"—মন্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।
মানুষ যখন নিজের ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ, মোহ এবং লোভকে প্রাধান্য দেয়, তখন মানবিক সম্পর্ক, দেশপ্রেম এবং নৈকট্য অর্থহীন হয়ে পড়ে। উদ্দীপকের চরণগুলোতে ব্যক্তিস্বার্থের নিষ্ঠুর প্রভাবে আপনজনের পর হয়ে যাওয়া এবং মানুষের মধ্যকার মানসিক দূরত্বের বেদনা প্রকাশ পেয়েছে।
সিকান্দার আবু জাফরের 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে এই স্বার্থপরতার রূপটি চরম ঐতিহাসিক বিপর্যয় হিসেবে চিত্রিত হয়েছে। নবাব সিরাজউদ্দৌলা যখন বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য দরবারে উপস্থিত সবাইকে একত্রিত করার আকুল আবেদন জানান, তখন মীর জাফর, রায়দুর্লভ, উমিচাঁদ, জগৎশেঠ ও ঘসেটি বেগমরা দেশের সার্বভৌমত্মকে বলি দিয়ে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে মত্ত ছিল। নবাবের আত্মীয় হয়েও ঘসেটি বেগম সিরাজের ধ্বংস কামনা করেছেন, প্রধান সেনাপতি হয়েও মীর জাফর নবাব হওয়ার লোভে দেশের স্বাধীনতা বিকিয়ে দিয়েছেন, আর উমিচাঁদ টাকার লোভে চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। এদের প্রত্যেকেই অন্ধ স্বার্থের বশবর্তী হয়ে নবাব তথা নিজের জন্মভূমির সাথে বেইমানি করেছে।
উদ্দীপকে মানুষের প্রাণের নিঃসঙ্গ আকুতি এবং স্বার্থের কারণে প্রিয়জন দূরে সরে গিয়ে কেউ কারো না হওয়ার যে বাস্তব রূপ ফুটে উঠেছে, নাটকের চক্রান্তকারীদের আচরণ তারই ঐতিহাসিক প্রতিফলন। সুতরাং স্বার্থপরতার স্বরূপ বিশ্লেষণে উদ্দীপক ও নাটকের মূল সুর একই সূত্রে গাঁথা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও