জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
মামুন চিড়িয়াখানায় বেড়াতে গিয়ে জিরাফের খাঁচার সামনে এসে প্রাণীটির লম্বা গলা দেখে বিস্ময়াভিভূত হলো। কিছুক্ষণ পর সে একটি ডাইনোসরের প্রতিকৃতি দেখতে পেল।
- ক)(1)
সমসংস্থ অঙ্গ কী?
- খ)(2)
দ্বি-পদ নামকরণ বলতে কী বোঝ ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রথমোক্ত প্রাণীটির উক্ত বিশেষ গঠন যে বিশেষ বিবর্তন মতবাদের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায় তার প্রস্তাবনাসমূহ লেখো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শেষোক্ত প্রাণীটি যে বিবর্তনগত সাক্ষ্য-প্রমাণের ইঙ্গিত দান করে তার ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব অঙ্গের উৎপত্তি ও অন্তর্গঠন একই রকম কিন্তু বাহ্যিক রূপ এবং কাজ ভিন্ন, তাদেরকে সমসংস্থ অঙ্গ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইসিজেডএন (ICZN) বা আইসিবিএন (ICBN)-এর নিয়ম অনুসারে দুটি পদের (গণ ও প্রজাতি) সমন্বয়ে কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম নির্ধারণের পদ্ধতিকে দ্বি-পদ নামকরণ বলে। সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস ১৭৫৩ সালে এই পদ্ধতির প্রবর্তন করেন। যেমন— মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রথমোক্ত প্রাণীটি হলো জিরাফ, যার লম্বা গলা ল্যামার্কের অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ মতবাদ (ল্যামার্কবাদ)-এর সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায়।
ল্যামার্ক তাঁর 'Philosophie Zoologique' (১৮০৯) গ্রন্থে এই মতবাদের চারটি প্রধান প্রস্তাবনা তুলে ধরেন:
১. বৃদ্ধির প্রবণতা: অভ্যন্তরীণ শক্তির প্রভাবে প্রতিটি জীবের আকার ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অবিরাম বৃদ্ধি পাওয়ার একটি সাধারণ প্রবণতা থাকে।
২. পরিবেশের প্রভাব এবং নতুন চাহিদার সৃষ্টি: পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলার জন্য জীবের মধ্যে নতুন চাহিদার জন্ম হয় এবং এর ফলে নতুন অঙ্গের উৎপত্তি ঘটে।
৩. অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহার সূত্র: কোনো অঙ্গের ক্রমাগত ব্যবহারে তা অধিক শক্তিশালী ও সুগঠিত হয়। পক্ষান্তরে, যে অঙ্গের ব্যবহার কমে যায় তা ক্রমশ অকেজো ও বিলুপ্ত হয় (যেমন- জিরাফ উঁচু গাছের পাতা খাওয়ার প্রয়োজনে বারবার গলা ব্যবহার করায় তা লম্বা হয়েছে)।
৪. অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ ও নতুন প্রজাতির উৎপত্তি: পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে জীবদ্দশায় অর্জিত নতুন বৈশিষ্ট্যসমূহ পরবর্তী বংশধরে সঞ্চারিত হয়। ক্রমাগত এই সঞ্চারণের ফলে নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব ঘটে এবং একসময় নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষোক্ত প্রাণীটি হলো ডাইনোসর। এটি বিলুপ্ত একটি সরীসৃপ এবং এটি বিবর্তনের অন্যতম প্রত্যক্ষ প্রমাণ হিসেবে 'জীবাশ্মঘটিত প্রমাণ' বা প্রত্নতাত্ত্বিক সাক্ষ্যের ইঙ্গিত দান করে।
জীবাশ্মঘটিত সাক্ষ্যের গুরুত্ব ও ব্যাখ্যা নিম্নরূপ:
১. প্রাচীনকালের জীবের অস্তিত্বের প্রমাণ: মেসোজোয়িক যুগে ডাইনোসররা পৃথিবীতে রাজত্ব করত। তাদের কঙ্কাল, পদচিহ্ন, ডিম ইত্যাদি পাললিক শিলাস্তরে সংরক্ষিত জীবাশ্ম হিসেবে আবিষ্কারের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে কোটি কোটি বছর আগে তাদের অস্তিত্ব ছিল।
২. কালানুক্রমিক বিবর্তন: ভূতাত্ত্বিক সময়পঞ্জি অনুসারে ভূ-পৃষ্ঠের প্রাচীন শিলাস্তরে সরল প্রকৃতির জীবের এবং অপেক্ষাকৃত নতুন শিলাস্তরে জটিল জীবের জীবাশ্ম পাওয়া যায়। ডাইনোসরের জীবাশ্ম পর্যালোচনা করে জানা যায় সরীসৃপের প্রাচীন অবস্থা থেকে আধুনিক স্তন্যপায়ী ও পাখির উৎপত্তি কীভাবে ঘটেছে।
৩. সংযোগকারী সূত্রের ব্যাখ্যা: ডাইনোসরের জীবাশ্ম পরীক্ষা করে পাখিদের সাথে তাদের গভীর সংযোগ আবিষ্কৃত হয়েছে। যেমন- আর্কিওপটেরিক্সের জীবাশ্মে ডাইনোসরীয় সরীসৃপের বৈশিষ্ট্য (দাঁতযুক্ত চোয়াল, লম্বা লেজ) এবং পাখির বৈশিষ্ট্য (পালক, ডানা) উভয়ই উপস্থিত, যা নির্দেশ করে সরীসৃপ থেকেই পাখির উৎপত্তি ঘটেছে।
৪. বিলুপ্তির প্রমাণ: ডাইনোসরের জীবাশ্ম প্রমাণ করে যে পরিবেশের চরম পরিবর্তনের সাথে অভিযোজিত হতে না পেরে কীভাবে একটি বিশালাকার প্রভাবশালী প্রজাতি পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।সুতরাং, ডাইনোসরের প্রতিকৃতি ও জীবাশ্ম বিবর্তনের ধারাক্রম এবং জীবের উৎপত্তি ও বিলুপ্তির প্রত্যক্ষ ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে কাজ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও