‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

১৮৬৩ সালে আমেরিকা যখন গৃহযুদ্ধের কারণে রক্তাক্ত, শোকে ক্ষুব্ধ এবং রাজনৈতিকভাবে দিশাহীন, ঠিক এমনই সময় গেটিসবার্গে আব্রাহাম লিংকন তার ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। আমেরিকার স্বাধীনতা বজায় রাখা, গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামো প্রদান, শোসনমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে এ ভাষন অবিস্মরণীয়। তিনি তার জীবদ্দশায় এবং এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতির জনক হিসেবে পরিচিত।

  1. ক)

    তিতুমীরের প্রকৃত নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    মুসলমানদের কুসংস্কার দূরীকরণে ফরায়েজী আন্দোলনের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত ভাষণের সাথে তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন ঐতিহাসিক ভাষণের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ক্ষণজন্মা মহাপুরুষের সাথে আমাদের যে মহান নেতার মিল খুঁজে পাওয়া যায় ; স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তার অবদান বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তিতুমীরের প্রকৃত নাম সৈয়দ মীর নিসার আলী।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফরায়েজী আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন বাংলার মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত অনৈসলামিক রীতি-নীতি, বিদআত ও কুসংস্কার দূর করে ইসলামের মৌলিক ফরজ কার্যাবলি পালনে উদ্বুদ্ধ করা। হাজী শরীয়তুল্লাহর নেতৃত্বে এ আন্দোলন মুসলিম সমাজের পীরপূজা, কবরপূজা, মহররমের তাজিয়া এবং বিভিন্ন কুপ্রথা ও কুসংস্কার বর্জন করার ডাক দেয়। এর ফলে মুসলমানরা ধর্মীয় শুদ্ধতার পাশাপাশি নিজেদের আত্মমর্যাদা ও অধিকার সচেতন হয়ে ওঠে এবং শোষণ-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত আব্রাহাম লিংকনের গেটিসবার্গ ভাষণের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের 'ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ'-এর মিল রয়েছে।

    ১৮৬৩ সালে আব্রাহাম লিংকন গেটিসবার্গের মাত্র দুই মিনিটের সংক্ষিপ্ত ভাষণে গণতন্ত্রের চিরন্তন রূপরেখা প্রদান করেন এবং জাতির ঐক্য ও শোষণমুক্তির স্বপ্ন দেখান। একইভাবে, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাষণে বাঙালি জাতিকে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্ত করার চূড়ান্ত ডাক দেন।

    উভয় ভাষণই সংকটময় মুহূর্তে জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত এবং জনমানুষের মুক্তি ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে চিরস্মরণীয়। বঙ্গবন্ধুর "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"— এই বজ্রকণ্ঠের আহ্বান গেটিসবার্গ ভাষণের মতোই রাজনৈতিক দিশাহীন জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার পথে পরিচালিত করেছিল। তাই ঐতিহাসিক দিক ও তাৎপর্যের বিচারে উদ্দীপকের ভাষণের সাথে ৭ই মার্চের ভাষণের গভীর মিল বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ আব্রাহাম লিংকনের সাথে আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর অবদান ছিল অবিসংবাদিত ও মুখ্য।

    ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলার ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শোষণ চাপিয়ে দেয়। বঙ্গবন্ধু শুরু থেকেই এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। ১৯৪৮ ও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন এবং ১৯৬৬ সালের বাঙালির মুক্তিসনদ ঐতিহাসিক 'ছয় দফা' আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি স্বাধিকারের দাবিকে স্বাধীনতার দাবিতে রূপ দেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত হন এবং অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন।

    ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানি জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে কালক্ষেপণ ও ষড়যন্ত্র শুরু করলে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তিনি ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার সর্বাত্মক প্রস্তুতি ও অসহযোগের ডাক দেন। ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরীহ বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু করলে বঙ্গবন্ধু ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তাঁর নাম ও নেতৃত্বেই দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

    অতএব, আব্রাহাম লিংকন যেমন আমেরিকাকে ঐক্যবদ্ধ ও সুদৃঢ় করেছিলেন, তেমনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অপরিসীম আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দিয়ে ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন