সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

১৯৭৬ সালে আমাদের দেশে যেটিকে এক নম্বর সমস্যা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সেটির প্রতিকার ও প্রতিরোধের ক্ষেত্রে যেকোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হোক না কেন তা. কোনো সুফল বয়ে আনছে না বলে মনে হচ্ছে। ভয়ানক এ সমস্যাটি একদিকে যেমন নতুন নতুন সমস্যার জন্ম দিচ্ছে অপরদিকে তেমনি বিদ্যমান প্রায় সব সমস্যার পিছনে ইন্ধন যোগাচ্ছে।

  1. ক)

    এইডস কী?

    (1)
  2. খ)

    সামাজিক সমস্যা সমাজ থেকে উদ্ভূত"- বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে যে বিশেষ সমস্যাটিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আমাদের সামাজিক জীবনে তার কু-প্রভাব বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে সমস্যাটির সমাধান করা গেলে অনেক সমস্যারই। সমাধান করা সম্ভব- পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    এইডস (AIDS) হলো হিউম্যান ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (HIV) দ্বারা সৃষ্ট মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংসকারী একটি মরণঘাতী রোগ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক সমস্যা প্রাকৃতিকভাবে বা সমাজের বাইরের কোনো শক্তির কারণে হঠাৎ তৈরি হয় না, বরং সমাজের অভ্যন্তরীণ অসঙ্গতি, পরিবর্তন এবং মানুষের বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপের মধ্য থেকেই এর উৎপত্তি ঘটে। সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্য, ত্রুটিপূর্ণ সমাজব্যবস্থা, মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো মানব সমাজেই সৃষ্টি হয় এবং তা সামগ্রিক সামাজিক জীবনকে ব্যাহত করে। তাই বলা হয় "সামাজিক সমস্যা সমাজ থেকেই উদ্ভূত"।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ১৯৭৬ সালে জাতীয়ভাবে এক নম্বর সমস্যা হিসেবে ঘোষিত ‘জনসংখ্যা সমস্যা’ বা ‘জনসংখ্যা স্ফীতি’র কথা ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    আমাদের সামাজিক জীবনে এর কু-প্রভাব অত্যন্ত মারাত্মক। প্রথমত, অধিক জনসংখ্যার চাপে খাদ্যঘাটতি ও চরম পুষ্টিহীনতা দেখা দেয়। দ্বিতীয়ত, আবাসন সংকটের কারণে বস্তি এলাকার বিস্তার ঘটে এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়। তৃতীয়ত, দেশে বেকারত্ব দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যার ফলশ্রুতিতে অপরাধপ্রবণতা, দারিদ্র্য ও ভিক্ষাবৃত্তির মতো সামাজিক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবার অপ্রতুলতা দেখা দেয় এবং জীবনযাত্রার সামগ্রিক মান হ্রাস পায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মূল সমস্যাটি হলো জনসংখ্যা সমস্যা। এই জনসংখ্যা সমস্যার সমাধান করতে পারলে সমাজের অন্যান্য অধিকাংশ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    সমাজকর্মের পাঠ্যপুস্তকের আলোকে দেখা যায়, জনসংখ্যা সমস্যা হলো অন্যান্য বহু সমস্যার মূল উৎস। জনসংখ্যার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রিত হলে দেশে বিদ্যমান সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমে আসবে। ফলে পরিবারে প্রতিটি সদস্যের মৌল মানবিক চাহিদা যেমন—অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুষ্ঠু সংস্থান নিশ্চিত হবে। দারিদ্র্য হ্রাস পাবে, বেকারত্বের হার কমে আসবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা, নিরক্ষরতা, শিশুশ্রম ও পরিবেশ দূষণের হারও বহুলাংশে হ্রাস পাবে।

    সুতরাং, জনসংখ্যা সমস্যার টেকসই ও কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে পারলে তা ক্রমান্বয়ে অন্যান্য সকল আর্থ-সামাজিক সমস্যার প্রতিকার ও নিরসনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন