বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
নাগর ফকিরের মৃত্যুর পর অনুসারীর সংখ্যা রাতারাতি বাড়তে লাগল। তার মৃত্যুর খবরে আশেপাশের অনেকেই হাজির না হলেও তার গায়েবি মাজার উঠার খবরে বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষ এসে ভিড় জমাতে লাগল। সবার নজরানায় নাগর কবিরের ছেলে সাগরের সুনাম ও সম্পদ বৃদ্ধি পেতে থাকল। গায়েবি মাজার উঠার প্রচারণা অনেকেই বিশ্বাস করলো না। তবে তারা এ বেদাতি কাজে বাঁধাও দিল না। এতে মাজার বিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে সাগরের প্রভাব ও পয়সা দুটোই বাড়তে লাগল।
- ক)(1)
মজিদ কোন মাসে মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করল?
- খ)(2)
"মাটিরে কষ্ট দেওন গুনাহ" - এ উক্তিটির প্রেক্ষাপট লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকটি 'লালসালু' উপন্যাসের কোন ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়? - বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের গায়েবি মাজারের অনুসারীরা যেন মহব্বতনগর গ্রামেরই বাসিন্দা” - উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মজিদ শ্রাবণ মাসের শেষাশেষি মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করেছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"মাটিরে কষ্ট দেওন গুনাহ"—উক্তিটি দ্বারা মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন এবং খোদার নেয়ামত মাটির প্রতি সম্মান ও সংবেদনশীলতা প্রকাশের প্রেক্ষাপট বোঝানো হয়েছে।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' উপন্যাসে খালেক ব্যাপারীর প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবি যখন সন্তান কামনায় ব্যাকুল হয়, তখন মজিদ তাকে মাজারে এনে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেয়। আমেনা বিবির প্রতি সমবেদনা ও ধর্মীয় মনোভাব প্রকাশ করতে গিয়ে এবং মাটির জীবিকা নির্বাহকারী শক্তির প্রতি ইঙ্গিত করে খালেক ব্যাপারীর সাথে আলাপের আবহে মজিদ এই অনুভূতি ব্যক্ত করে যে, মাটি মানুষের অন্ন দেয় এবং সৃষ্টির মূল উৎস, তাই মাটিকে অকারণে কষ্ট দেওয়া গুনাহ বা পাপের শামিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ কর্তৃক মোদাচ্ছের পীরের ভুয়া মাজার প্রতিষ্ঠা এবং তাকে কেন্দ্র করে নিজের প্রভাব ও প্রতিপত্তি গড়ে তোলার ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়।
'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, ভাগ্যান্বেষী নিঃস্ব মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে এসে একটি পুরোনো জঙ্গলঘেরা অজ্ঞাত কবরকে 'মোদাচ্ছের পীরের মাজার' বলে ঘোষণা করে। সে গ্রামবাসীকে ভর্ৎসনা করে এবং মানুষের ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস ও সরলতাকে পুঁজি করে মাজারে লালসালু বিছিয়ে দেয়। ধীরে ধীরে মাজারের নামে মানুষের দান-খয়রাত ও নজরানা আসতে থাকে এবং মজিদ সমাজে অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রভাবশালী ও বিত্তশালী ব্যক্তিতে পরিণত হয়।
উদ্দীপকেও নাগর ফকিরের মৃত্যুর পর একটি গায়েবি মাজারের গুজব রটানো হয়। সাধারণ মানুষ না জেনে অন্ধবিশ্বাসে সেখানে ভিড় করে এবং নজরানা দিতে থাকে। এর ফলে সাগরের সুনাম, প্রভাব ও সম্পদ বেড়ে যায়। ধর্মকে ঢাল বানিয়ে মাজারকেন্দ্রিক প্রতারণার মাধ্যমে প্রভাব-প্রতিপত্তি অর্জনের এই দিকটি উপন্যাসের মজিদের মাজার প্রতিষ্ঠার ঘটনার হুবহু প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকের গায়েবি মাজারের অনুসারীরা যেন মহব্বতনগর গ্রামেরই বাসিন্দা”—মন্তব্যটি অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার এবং ধর্মীয় অজ্ঞতার নিরিখে সম্পূর্ণরূপে সত্য।
'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের মানুষেরা সহজ-সরল এবং ধর্ম সম্পর্কে তাদের জ্ঞান অগভীর। তাদের মধ্যে যুক্তি ও বিচারবুদ্ধির চেয়ে খোদাভীতি ও অন্ধবিশ্বাসই ছিল প্রবল। মজিদ যখন নাটকীয়ভাবে তাদের জানায় যে তারা পীরের মাজার অবহেলা করে পাপ করেছে, তখন তারা কোনো প্রশ্ন বা যাচাই ছাড়াই তা নির্দ্বিধায় মেনে নেয়। মাজারকে কেন্দ্র করে তারা মানত করে, নজরানা দেয় এবং মজিদের সব শোষণকে অলৌকিক ক্ষমতা ভেবে বরণ করে নেয়। এমনকি যারা বিষয়টি কিছুটা বুঝতে পারে, তারাও সমাজের ভয়ে বা সংস্কারের কারণে কোনো প্রতিবাদ করে না।
উদ্দীপকের পরিবেশেও একই মানসিকতার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। সেখানে নাগর ফকিরের মৃত্যুর পর একটি অমূলক গায়েবি মাজারের খবর শুনে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ অন্ধের মতো এসে জড়ো হয় ও নজরানা দেয়। যদিও কেউ কেউ এ ঘটনা অবিশ্বাস করেছিল, কিন্তু অন্যায় ও বেদাতি জেনেও তারা কোনো বাধা দেয়নি। ফলে সাগরের ব্যবসা ও শোষণ নির্বিঘ্নে চলে।
উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সাধারণ মানুষের ধর্মান্ধতা, ভীতি এবং বিবেকহীন নীরবতাই মাজার ব্যবসায়ী স্বার্থান্বেষীদের প্রতিষ্ঠা পাওয়ার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। তাই উদ্দীপকের অন্ধ অনুসারী এবং মহব্বতনগর গ্রামের বাসিন্দাদের মানসিকতা ও ভূমিকা একই সূত্রে গাঁথা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও