ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
সর্বোত্তম অনুমানভিত্তিক উত্তর — আনুষ্ঠানিক উত্তর নয়: মূল তথ্য বা উত্তরে অস্পষ্টতা/অসম্পূর্ণতা রয়েছে। প্রদত্ত উত্তরটি নিশ্চিত নয়; যাচাই করে ব্যবহার করো।
ইরাকি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাকি জনমতকে অগ্রাহ্য করে ইরাক দখলের পরিকল্পনা করে। প্রেসিডেন্ট বুশের নির্দেশে রাতের অন্ধকারে মার্কিন বাহিনী বাগদাদের নিরীহ জনগণের ওপর নির্বিচারে বোমা বর্ষণ করে এবং গণহত্যা চালায়। আমেরিকানরা এই অপারেশনের নাম দেয় 'অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম'। দীর্ঘদিনের যুদ্ধে ইরাক আজ বিধ্বস্ত ও বিপর্যন্ত। সাদ্দাম হোসেন পরবর্তী সরকারগুলো মূলত পরাধীন এবং বৃৎশক্তির আজ্ঞাবহ মাত্র। জাতি হিসেবে ইরাক আজ নেতৃত্বহীন ও গভীর সংকটে পতিত এক জনপদ।
- ক)(1)
কত সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
- খ)(2)
কত সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত 'অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম' এর সাথে পূর্ব পাকিস্তানে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক পরিচালিত কোন আক্রমণের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত 'অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম' পরবর্তী ইরাকের যুদ্ধাবস্থার সাথে বাংলাদেশের যুদ্ধাবস্থার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।
স্পষ্ট অনুমান: উৎস প্রশ্নপত্রে 'খ' অংশে 'ক' অংশের প্রশ্নই হুবহু প্রতিলিপিত হয়েছে, তাই অনুধাবন স্তরের মান বজায় রেখে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য ও সময়সীমার ওপর ভিত্তি করে উত্তর প্রদান করা হয়েছে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- খ)
AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।
স্পষ্ট অনুমান: উৎস প্রশ্নপত্রে 'খ' অংশে 'ক' অংশের প্রশ্নই হুবহু প্রতিলিপিত হয়েছে, তাই অনুধাবন স্তরের মান বজায় রেখে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য ও সময়সীমার ওপর ভিত্তি করে উত্তর প্রদান করা হয়েছে।
উৎসগত ত্রুটির কারণে 'খ' অংশে 'ক' অংশের প্রশ্নটিই পুনরাবৃত্তি হয়েছে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কে ব্যাখ্যা নিম্নরূপ:
১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম গণহত্যা ও শোষণের বিরুদ্ধে আপামর বাঙালি দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে ১৬ই ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে এবং বিশ্বমানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। - গ)
AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।
স্পষ্ট অনুমান: উৎস প্রশ্নপত্রে 'খ' অংশে 'ক' অংশের প্রশ্নই হুবহু প্রতিলিপিত হয়েছে, তাই অনুধাবন স্তরের মান বজায় রেখে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য ও সময়সীমার ওপর ভিত্তি করে উত্তর প্রদান করা হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম'-এর সাথে ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক পরিচালিত 'অপারেশন সার্চলাইট'-এর মিল রয়েছে।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা নিরীহ ও নিরস্ত্র বাঙালিদের স্বাধীনতার দাবিকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য এক পরিকল্পিত ও বর্বরোচিত সামরিক আক্রমণ চালায়, যার সাংকেতিক নাম ছিল 'অপারেশন সার্চলাইট'।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রাজনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাতের অন্ধকারে বাগদাদের নিরীহ জনসাধারণের ওপর আকস্মিক বোমাবর্ষণ ও গণহত্যা চালায় এবং এই অভিযানের নাম দেয় 'অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম'। পূর্ব পাকিস্তানেও ঠিক একইভাবে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতের অন্ধকারে অতর্কিত আক্রমণ ও গণহত্যা শুরু হয়েছিল। অতএব, রাতের অন্ধকারে আকস্মিক ও বর্বরোচিত সামরিক অভিযানের দিক থেকে উদ্দীপকের ঘটনাটি 'অপারেশন সার্চলাইট'-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।
স্পষ্ট অনুমান: উৎস প্রশ্নপত্রে 'খ' অংশে 'ক' অংশের প্রশ্নই হুবহু প্রতিলিপিত হয়েছে, তাই অনুধাবন স্তরের মান বজায় রেখে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য ও সময়সীমার ওপর ভিত্তি করে উত্তর প্রদান করা হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম' পরবর্তী ইরাক এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধকালীন ও যুদ্ধপরবর্তী বাংলাদেশের পরিস্থিতির মধ্যে প্রকৃতিগত ও ফলাফলভিত্তিক ব্যাপক বৈসাদৃশ্য ও তুলনামূলক চিত্র বিদ্যমান।
প্রথমত, যুদ্ধের প্রকৃতি ও প্রেক্ষাপটের দিক থেকে ইরাকে মার্কিন আক্রমণ ছিল পরাশক্তির ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রিক বহিঃশত্রুর আগ্রাসন। অন্যদিকে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল পশ্চিম পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শোষণ, স্বৈরাচার ও গণহত্যার বিরুদ্ধে একটি সমগ্র জাতির অস্তিত্ব রক্ষা ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার গণসংগ্রাম।
দ্বিতীয়ত, যুদ্ধপরবর্তী পরিণতির ক্ষেত্রে উদ্দীপকে দেখা যায়, দীর্ঘ যুদ্ধে ইরাক অবকাঠামো ও অর্থনীতি হারিয়ে চরমভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। সাদ্দাম পরবর্তী সময়ে দেশটি নেতৃত্বহীন, পরনির্ভরশীল ও বৃহৎ শক্তির আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রে পরিণত হয়ে গভীর জাতীয় সংকটে নিমজ্জিত হয়েছে।
বিপরীতভাবে, বাংলাদেশ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ তারিখে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাস্ত করে আনুষ্ঠানিক বিজয় লাভ করে। যুদ্ধবিধ্বস্ত হলেও বাঙালি জাতি একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করতে সক্ষম হয়।
সুতরাং, ইরাকের যুদ্ধের পরিণতি যেখানে জাতীয় পরাজয়, পরমুখাপেক্ষিতা ও দীর্ঘস্থায়ী সংকট, সেখানে বাংলাদেশের যুদ্ধাবস্থার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল গৌরবোজ্জ্বল জাতীয় মুক্তি ও স্বাধীনতার লাল সূর্য অর্জন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও