ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
আদর্শগত বিরোধ থাকলে অনেক সময় বন্ধুর সাথে কন্ধুর হয় লেগে যায়। স্বপন ও সুদীপ্তর ক্ষেত্রে সেটাই ঘটেছিল। স্বপন সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের অনুসারী, অপরদিকে সুদীপ্ত এটাকে অপছন্দ করে। ফলে তাদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।
- ক)(1)
কত সালে SEATO গঠিত হয়?
- খ)(2)
চেকোশ্লোভাকিয়ায় কমিউনিস্ট শাসন কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন দুটি দেশের আদর্শের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত দুটি দেশের আদর্শগত স্বন্দ্বের কারণে পৃথিবীতে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে- তোমার যুক্তি দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর SEATO (Southeast Asia Treaty Organization) গঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর চেকোশ্লোভাকিয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থনে কমিউনিস্ট প্রভাব বাড়তে থাকে। ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কমিউনিস্টরা প্রধানমন্ত্রী ক্লেমেন্ট গটওয়াল্ডের নেতৃত্বে অন্যান্য গণতান্ত্রিক মন্ত্রীদের পদত্যাগে বাধ্য করে এবং একটি রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের (Coup d'état) মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে দেশে কমিউনিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের স্বপন ও সুদীপ্তর মধ্যকার আদর্শগত ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের সাথে পাঠ্যবইয়ের স্নায়ুযুদ্ধকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) ও সোভিয়েত ইউনিয়ন (USSR)-এর আদর্শের মিল রয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বে পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক দুটি ভিন্ন আদর্শিক শিবিরের সৃষ্টি হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী প্রভাব বিস্তারের অনুসারী, অপরদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে ছিল এবং পুঁজিবাদী আধিপত্যের বিরোধিতা করেছিল। ফলে তাদের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ না হলেও একটি তীব্র আদর্শিক ও মনস্তাত্ত্বিক সংঘাত তৈরি হয়, যা 'স্নায়ুযুদ্ধ' (Cold War) নামে পরিচিত। উদ্দীপকে স্বপন ও সুদীপ্তর মধ্যকার আদর্শগত অমিল ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব মূলত তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের এই স্নায়ুযুদ্ধেরই প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের আদর্শগত দ্বন্দ্ব অর্থাৎ স্নায়ুযুদ্ধের কারণে সমগ্র বিশ্বে বহুবিধ জটিল রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
১. সামরিক জোট গঠন ও অস্ত্র প্রতিযোগিতা: স্নায়ুযুদ্ধের ফলে বিশ্ব ন্যাটো (NATO) এবং ওয়ারশ (Warsaw Pact) নামে দুটি সামরিক ব্লকে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং পারমাণবিক মারণাস্ত্র তৈরির এক বিধ্বংসী প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
২. আঞ্চলিক যুদ্ধ ও বিভাজন: এ দুই পরাশক্তির দ্বন্দ্বের বলি হয়ে কোরিয়া যুদ্ধ (১৯৫০-১৯৫৩), ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং কিউবান মিসাইল সংকট (১৯৬২)-এর মতো বিশ্ব কাঁপানো সংকট তৈরি হয়, যার ফলে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
৩. উন্নয়নশীল দেশসমূহের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া: তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো এই পরাশক্তিদ্বয়ের আধিপত্য বিস্তার ও চক্রান্তের শিকার হয়ে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সামরিক শাসনের কবলে পড়ে।
সুতরাং দেখা যায়, পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের মধ্যকার এই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও আদর্শগত লড়াই দীর্ঘদিন পৃথিবীকে এক চরম অস্থিরতা ও ধ্বংসের মুখে ফেলে রেখেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও