ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের অধিকারী প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন বিভিন্ন গুণাবলির অধিকারী হলেও তার মধ্যে প্রবল সন্দেহ প্রবণতা ছিল। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য অনেক ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বীকে তিনি নির্মমভাবে সরিয়ে দেন। আসলে ইরাকের জটিল রাজনৈতিক অবস্থা, জাতিগত বিদ্বেষ, বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের আত্মকলহ তাকে কঠোর হতে বাধ্য করেছিল। সাদ্দাম হোসেন বিভিন্ন কৌশলে শতধাবিভক্ত ইরাকিদের একত্রিত করে দীর্ঘমেয়াদি শাসন করতে সক্ষম হন।
- ক)(1)
আল মনসুর শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
সালাউদ্দিন আইয়ুবীকে গাজী বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি আচরণ খলিফা আল মনসুর এর কোন কর্মকাণ্ডের অনুরূপ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দীর্ঘমেয়াদী শাসন কায়েমে সাদ্দাম হোসেন এর চেয়ে আল মনসুর আরও দূরদর্শী ছিলেন- উক্তিটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আল-মনসুর' শব্দের অর্থ 'আল্লাহর সাহায্যপ্রাপ্ত' বা 'বিজয়ী'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুলতান সালাউদ্দিন আইয়ুবী খ্রিষ্টান ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে পবিত্র যুদ্ধ পরিচালনা করে জেরুজালেম পুনর্দখল করার কারণে তাঁকে 'গাজী' বলা হয়।
ইসলামের ইতিহাসে যারা অমুসলিম শত্রুদের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধে বীরত্বের সাথে লড়াই করে বিজয়ী হয়ে জীবিত ফিরে আসেন, তাঁদের 'গাজী' উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ১১৮৭ খ্রিস্টাব্দে হিত্তিনের যুদ্ধে সালাউদ্দিন আইয়ুবী অসাধারণ বীরত্ব প্রদর্শন করে ক্রুসেডারদের পরাজিত করেন এবং দীর্ঘ ৮৮ বছর পর মুসলমানদের প্রথম কিবলা 'বায়তুল মুকাদ্দাস' (জেরুজালেম) উদ্ধার করেন। এ বীরত্বপূর্ণ বিজয়ের জন্য তিনি 'গাজী' হিসেবে সম্মানিত হন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি সাদ্দাম হোসেনের কঠোর আচরণ খলিফা আবু জাফর আল-মনসুরের প্রতিদ্বন্দ্বী ও রাজনৈতিক বিরোধীদের কঠোর হস্তে দমনের কর্মকাণ্ডের অনুরূপ।
আব্বাসীয় খিলাফতকে সুসংহত করতে খলিফা আল-মনসুর চরম নির্মমতার নীতি গ্রহণ করেছিলেন। আব্বাসীয় বংশ প্রতিষ্ঠার মূল কারিগর ও অত্যন্ত প্রভাবশালী সেনাপতি আবু মুসলিমকে তিনি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও ক্ষমতার জন্য হুমকি মনে করে কৌশলে প্রাসাদে ডেকে এনে হত্যা করেন। একইভাবে তিনি তাঁর চাচা আব্দুল্লাহ ইবনে আলীর বিদ্রোহ কঠোর হস্তে দমন করে তাঁকে কারারুদ্ধ ও পরে হত্যা করেন।
উদ্দীপকে প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনও ক্ষমতার স্বার্থে ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্মমভাবে সরিয়ে দেন এবং কঠোর মনোভাব প্রদর্শন করেন। এই আচরণ খলিফা আল-মনসুর কর্তৃক আবু মুসলিম ও আব্দুল্লাহর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্মূল করার সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দীর্ঘমেয়াদী শাসন কায়েমে সাদ্দাম হোসেনের চেয়ে খলিফা আল-মনসুর অধিক দূরদর্শী ও সফল ছিলেন— উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
সাদ্দাম হোসেন অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও উপদলীয় রাজনীতি দমন করে ইরাকে নিজের দীর্ঘমেয়াদী শাসন বজায় রাখলেও তাঁর গৃহীত পররাষ্ট্রনীতি, সামরিক আগ্রাসন এবং একনায়কতান্ত্রিক কৌশল শেষ পর্যন্ত ইরাককে এক ভয়াবহ যুদ্ধের মুখে ঠেলে দেয় এবং তাঁর শাসনব্যবস্থার করুণ পতন ঘটে। তিনি স্থায়ী কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপন করে যেতে পারেননি।
অন্যদিকে, আব্বাসীয় খলিফা আল-মনসুর কেবল কঠোর হস্তে প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমনই করেননি, বরং তিনি আব্বাসীয় খিলাফতের ভিত মজবুত করার জন্য অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নেন। তিনি নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের কৌশলগত দিক বিবেচনা করে নতুন রাজধানী 'বাগদাদ' প্রতিষ্ঠা করেন, দক্ষ গুপ্তচর ও ডাক ব্যবস্থা চালু করেন, নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলেন। তাঁর এই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার কারণে আব্বাসীয় খিলাফত প্রায় পাঁচ শতাব্দী ধরে স্থায়ী হয়েছিল। এ কারণে তাঁকে আব্বাসীয় বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
অতএব, কেবল বিরোধীদের দমনেই নয়, বরং স্থায়ী রাষ্ট্রকাঠামো নির্মাণ ও দীর্ঘস্থায়ী বংশীয় শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে খলিফা আল-মনসুর সাদ্দাম হোসেনের চেয়ে বহুগুণে দূরদর্শী ও সফল ছিলেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও