সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
প্রথা কী?
- খ)(2)
কাব্য ও কাব্যগ্রন্থ কোন ধরনের সংস্কৃতি? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
ছক-১-এ সমাজবিজ্ঞানের কোন মৌল প্রত্যয়ের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ছক-১ ও ছক-২-এর মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্যসমূহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজে দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত এবং অলিখিতভাবে স্বীকৃত আচার-আচরণ ও কার্যপ্রণালীকে প্রথা (Custom) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাব্য ও কাব্যগ্রন্থ যথাক্রমে অভৌতিক এবং ভৌতিক সংস্কৃতির অন্তর্গত।
মানুষের চিন্তা, ভাবনা, কল্পনা, সাহিত্যিক অনুভূতি বা সৃষ্টিশীলতা হলো কাব্যের মূল বিষয়, যা চোখে দেখা বা স্পর্শ করা যায় না কিন্তু উপলব্ধি করা যায়—তাই কাব্য হলো অভৌতিক সংস্কৃতি। অন্যদিকে, কাব্য যখন লিখিত বা মুদ্রিত হয়ে বই বা গ্রন্থের রূপ লাভ করে এবং স্পর্শযোগ্য বস্তুগত সত্তা ধারণ করে, তখন তাকে কাব্যগ্রন্থ বলা হয়। ফলে কাব্যগ্রন্থ হলো বস্তুগত বা ভৌতিক সংস্কৃতি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছক-১-এ সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম মৌল প্রত্যয় 'সমিতি' বা 'সঙ্ঘ' (Association)-এর কথা বলা হয়েছে।
নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য যখন কিছু ব্যক্তি সুসংগঠিত হয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করে, তখন তাকে সমিতি বা সঙ্ঘ বলে। ম্যাকাইভার ও পেজের মতে, কোনো বিশেষ স্বার্থ বা স্বার্থসমূহ হাসিলের জন্য একত্রিত জনসমষ্টিই হলো সমিতি।
উদ্দীপকের ছক-১-এ 'পাঠাগার', 'ফুটবল ক্লাব' এবং 'ক্রিকেট ক্লাব'-এর উল্লেখ রয়েছে। এগুলোর প্রত্যেকটিই সুনির্দিষ্ট কিছু উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছে। যেমন- জ্ঞানচর্চা ও বই পড়ার সুবিধার জন্য পাঠাগার এবং খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য ফুটবল ক্লাব ও ক্রিকেট ক্লাব গঠিত হয়। এসকল সংগঠন মানুষের নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণে সংগঠিত হয় এবং এগুলোর সদস্যপদ ঐচ্ছিক। সুতরাং, বৈশিষ্ট্য ও উদ্দেশ্যের দিক থেকে ছক-১-এর উদাহরণগুলো সমাজবিজ্ঞানের 'সমিতি' প্রত্যয়টিকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছক-১-এ সমাজবিজ্ঞানের মৌল প্রত্যয় 'সমিতি' এবং ছক-২-এ 'সম্প্রদায়' নির্দেশ করা হয়েছে। নিম্নে এদের মধ্যকার বিদ্যমান পার্থক্যসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ধারণাগত পার্থক্য: নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য গঠিত সুসংগঠিত দল হলো সমিতি। অন্যদিকে, একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় বসবাসকারী 'আমরা' বোধে উদ্বুদ্ধ সমজাতীয় জীবনধারার জনসমষ্টি হলো সম্প্রদায়।
২. উৎপত্তিগত পার্থক্য: সমিতি সচেতনভাবে ও কৃত্রিমভাবে মানুষ নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তৈরি করে। কিন্তু সম্প্রদায় প্রাকৃতিকভাবে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে দীর্ঘদিনের সামাজিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গড়ে ওঠে।
৩. উদ্দেশ্যের পার্থক্য: সমিতির উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট ও সীমিত (যেমন- ক্লাব বা পাঠাগার নির্দিষ্ট প্রয়োজন মেটায়)। পক্ষান্তরে, সম্প্রদায়ের কোনো একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে না; এর সদস্যদের সামগ্রিক জীবনযাপনই সম্প্রদায়ের পরিধির অন্তর্গত।
৪. ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা: ছক-২-এর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সম্প্রদায়ের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা অপরিহার্য। কিন্তু সমিতির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার সীমারেখা সবসময় আবশ্যক নয়; আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সমিতি হতে পারে।
৫. সদস্যপদ: সমিতির সদস্যপদ ঐচ্ছিক; মানুষ ইচ্ছে করলে যুক্ত হতে পারে বা ত্যাগ করতে পারে। অন্যদিকে সম্প্রদায়ের সদস্যপদ সাধারণত বাধ্যতামূলক বা জন্মসূত্রে নির্ধারিত হয়।
৬. স্থায়িত্ব: সমিতি সাধারণত অস্থায়ী বা উদ্দেশ্য অর্জিত হলে বিলুপ্ত হতে পারে। তবে সম্প্রদায় তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি স্থায়ী।
সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনার মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় যে, ছক-১ (সমিতি) ও ছক-২ (সম্প্রদায়) সমাজবিজ্ঞানের দুটি ভিন্ন মৌল প্রত্যয় এবং উভয়ের মধ্যে গঠন, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রমে স্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও