ব্যবসায় উদ্যোগ • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন

জনাব আরিফ একজন উদ্ভাবক। তিনি দীর্ঘদিন গবেষণা করে এমন একটি সৌরশক্তি চালিত পানি সেচের যন্ত্র আবিষ্কার করেন যেটি বাজারে প্রচলিত অন্যান্য সেচ যন্ত্র থেকে আলাদা। জাতীয় বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণ করে এটি প্রথম স্থান অধিকার করে। তিনি এটি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন করে নিজের নাম ছাড়াই বাজারে ছাড়েন এবং ব্যাপক সাড়া পান। কিছুদিনের মধ্যেই অন্য একটি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি তার এ যন্ত্র নকল করে বাজারজাত করে। কিন্তু তিনি ঐ কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেও আইনগত কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি।

  1. ক)

    কত সালের ট্রেডমার্ক আইন বাংলাদেশে চালু আছে?

    (1)
  2. খ)

    একমালিকানা ব্যবসায়ে 'মালিকের দায় অসীম'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    জনাব আরিফের পানি সেচ যন্ত্রটি কোন সম্পদের অন্তর্ভুক্ত? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে জনাব আরিফ কোনো আইনি সহায়তা না পাওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বাংলাদেশে ২০০৯ সালের ট্রেডমার্ক আইন চালু আছে।

  2. খ)

    একমালিকানা ব্যবসায়ের পৃথক কোনো সত্তা নেই। মালিক ও ব্যবসায় অভিন্ন। তাই ব্যবসায়ের সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব মালিকের। ব্যবসায়ের সম্পদ দিয়ে দেনা পরিশোধ না হলে মালিককে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করেও তা শোধ করতে হয়। এজন্য এ ব্যবসায়ে মালিকের দায় অসীম।

  3. গ)

    জনাব আরিফের সৌরশক্তিচালিত পানি সেচ যন্ত্রটি মেধাসম্পদের অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে এটি পেটেন্ট সম্পদ।

    মনন ও মেধা দ্বারা সৃষ্ট কাজই মেধাসম্পদ। ব্যবসায়ে প্রয়োগযোগ্য আবিষ্কার, সাহিত্য ও শিল্পকর্ম, নকশা, প্রতীক, নাম ইত্যাদি এর অন্তর্ভুক্ত। পেটেন্টের মাধ্যমে আবিষ্কারককে তার আবিষ্কারের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের একচেটিয়া মালিকানা দেওয়া হয়। আরিফ দীর্ঘ গবেষণা করে এমন যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন, যা বাজারের অন্য যন্ত্র থেকে আলাদা। তাই এটি মেধাসম্পদ, বিশেষত পেটেন্টযোগ্য আবিষ্কার।

  4. ঘ)

    জনাব আরিফ কোনো আইনি সহায়তা না পাওয়ার কারণ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।

    ১. পেটেন্ট নিবন্ধন না করা: আরিফ তার আবিষ্কারের পেটেন্ট নিবন্ধন করেননি। নিবন্ধিত পেটেন্টের মালিকের অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ ঐ যন্ত্র তৈরি, ব্যবহার বা বিক্রি করতে পারে না। কিন্তু নিবন্ধন না থাকায় আইনি সুরক্ষা পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশে ১৯১১ সালের পেটেন্ট ও ডিজাইন আইন চালু আছে।
    ২. ট্রেডমার্ক নিবন্ধন না থাকা: তিনি নিজের নাম বা প্রতীক ছাড়াই পণ্য বাজারে ছেড়েছেন। ট্রেডমার্ক নিবন্ধিত থাকলে একচ্ছত্র অধিকার পেতেন এবং নকলের বিরুদ্ধে মামলা করে প্রতিকার পেতেন।
    ৩. সচেতনতার অভাব: মেধাসম্পদ সংরক্ষণের আইনগত বিধান সম্পর্কে উদ্যোক্তার সচেতনতার অভাব ছিল।

    সুতরাং, পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক নিবন্ধন না করায় আরিফ আইনি সহায়তা পাননি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন