বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
বৈশাখী উৎসব আমাদের প্রাণের উৎসব। সব পেশা, শ্রেণি ও ধর্মের মানুষ এ উৎসব পালন করে। ঐদিন আপামর বাঙালি তাদের ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও ভেদাভেদ ভুলে একই মাঠে নেচে গেয়ে নতুন বছরকে ধারণ করে। বৈশাখী মেলা, পান্তা-ইলিশ, একতারা, নাগরদোলা, পুতুল নাচ ইত্যাদি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে পুরো জাতি তাদের হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে স্মরণ করে। এ দিনে বাঙালি জাতি সাম্প্রদায়িক চেতনা ভুলে একাকার হয়ে যায়।
- ক)(1)
চার্বাক কে?
- খ)(2)
"তোমাতে রয়েছে সকল কিতাব, সকল কালের জ্ঞান'- চরণটিতে কবি কী বোঝত চেয়েছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের বৈশাখী উৎসবের সাথে 'সাম্যবাদী' কবিতার সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্য নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
এ দিনে বাঙালি জাতি সাম্প্রদায়িক চেতনা ভুলে একাকার হয়ে যায়'- উক্তিটির আলোকে 'সাম্যবাদী' কবিতার মূলভাব আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চার্বাক হলেন প্রাচীন ভারতের একজন বিখ্যাত জড়বাদী ও বস্তুবাদী দার্শনিক।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"তোমাতে রয়েছে সকল কিতাব, সকল কালের জ্ঞান"— চরণটিতে কবি মানুষের অন্তর্নিহিত অনন্ত সম্ভাবনা, অন্তরের পবিত্রতা ও মানবহৃদয়ের শ্রেষ্ঠত্বকে বোঝাতে চেয়েছেন।
কাজী নজরুল ইসলামের মতে, বাহ্যিক ধর্মগ্রন্থ, মন্দির বা মসজিদে যে জ্ঞান বা সত্যের সন্ধান করা হয়, তার চেয়েও বড় সত্য মানুষের নিজের হৃদয়ে বিদ্যমান। পবিত্র মানবহৃদয়ই হলো সমস্ত জ্ঞান, সত্য ও বোধের আধার। মানুষের অন্তরে ডুব দিলেই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের পরম সত্যকে উপলব্ধি করা যায়— কবি এখানে সে কথাই প্রকাশ করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বৈশাখী উৎসবের সাথে 'সাম্যবাদী' কবিতার ভাবগত দিক থেকে সুগভীর সাদৃশ্য বিদ্যমান।
'সাম্যবাদী' কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ধর্ম, বর্ণ, জাতপাত ও সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে সকল মানুষকে এক ও অভিন্ন মানবীয় মর্যাদায় দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। সেখানে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই, সাম্য ও ভালোবাসাই মূল কথা।
উদ্দীপকে বৈশাখী উৎসবের যে রূপ তুলে ধরা হয়েছে, সেখানেও সব শ্রেণি, পেশা, ধর্ম ও বর্ণের মানুষ তাদের ক্ষুদ্র ভেদরেখা ভুলে এক কাতারে দাঁড়িয়ে প্রাণের আনন্দে মেতে ওঠে। এটি কোনো বিশেষ ধর্মের উৎসব নয়, বরং এটি এক অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন মানবিক মিলনমেলা। বৈশাখী উৎসবের এই সার্বজনীনতা ও ভেদাভেদহীন মিলনের সুর 'সাম্যবাদী' কবিতার জাত-পাত ও ধর্মীয় ব্যবধানহীন সাম্যের চেতনার সাথেই সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"এ দিনে বাঙালি জাতি সাম্প্রদায়িক চেতনা ভুলে একাকার হয়ে যায়"— উক্তিটি 'সাম্যবাদী' কবিতার মূলভাব ও দর্শনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে।
'সাম্যবাদী' কবিতার মূল সুর হলো ধর্মীয় গোঁড়ামি, বর্ণপ্রথা এবং সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ও মানবতাকে প্রতিষ্ঠা করা। কবি নজরুল ঘোষণা করেছেন যে, মানুষের চেয়ে মহীয়ান বা শ্রেষ্ঠ আর কিছু নেই। কিন্তু মানুষ প্রায়শই ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কৃত্রিম পরিচয়ে বিভাজিত হয়ে সাম্প্রদায়িক হিংসায় লিপ্ত হয়। কবি এই ভেদাভেদ দূর করে একটি অখণ্ড মানবিক সমাজ গড়ার ডাক দিয়েছেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত বৈশাখী উৎসব যেভাবে ধর্ম-বর্ণের প্রাচীর গুঁড়িয়ে দিয়ে সমগ্র জাতিকে এক অনন্য মিলনের মোহনায় এনে দাঁড় করায়, তা সাম্যবাদী চেতনারই বাস্তব প্রতিফলন। উৎসবের দিনে বাঙালি তার ক্ষুদ্র সাম্প্রদায়িক সত্তা বিসর্জন দিয়ে অভিন্ন মানবিক ও সাংস্কৃতিক সত্তায় মিলিত হয়। এই মিলন ও ঐক্যের মধ্যেই নিহিত রয়েছে নজরুলের কাঙ্ক্ষিত 'সাম্যবাদী' চেতনা, যেখানে ধর্মের চেয়ে মানুষ বড় এবং ভেদাভেদের চেয়ে ঐক্যই সত্য।
সুতরাং, উদ্দীপকের উক্তিটিতে যে অসাম্প্রদায়িক সর্বজনীন মানবিক মিলনের আহ্বান প্রতিফলিত হয়েছে, তা কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কবিতার চিরন্তন মূলভাবকে যথার্থভাবে ধারণ ও প্রকাশ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও