অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
স্থূল জন্মহার কি?
- খ)(2)
জলবায়ু পরিবর্তন জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে - ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী তত্ত্বের নাম উল্লেখ পূর্বক চিত্রে উপস্থাপন কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের তত্ত্ব ও কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বের মধ্যে তুমি বাংলাদেশের জন্য কোনটি অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করো ও কেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো নির্দিষ্ট বছরে প্রতি হাজার জনসংখ্যায় মোট যতজন জীবিত শিশু জন্মগ্রহণ করে, তাকে স্থূল জন্মহার (Crude Birth Rate - CBR) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জলবায়ু একটি দেশের মানুষের জীবনধারা, প্রজনন ক্ষমতা এবং স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। সাধারণত ক্রান্তীয় ও উষ্ণমণ্ডলীয় জলবায়ুর দেশে অল্প বয়সেই ছেলেমেয়েরা প্রজনন সক্ষমতা অর্জন করে, যার ফলে জন্মহার বৃদ্ধি পায়। পক্ষান্তরে, চরমভাবাপন্ন বা অতি শীতপ্রধান অঞ্চলে জীবনধারণ প্রতিকূল হওয়ায় সেখানে জন্মহার তুলনামূলক কম থাকে। এছাড়া অনুকূল জলবায়ু রোগব্যাধি কমিয়ে মৃত্যুহার হ্রাস করে, যার ফলে সামগ্রিকভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তথ্যে প্রতি ২৫ বছর পর পর জনসংখ্যা দ্বিগুণ (২ থেকে ৪, এরপর ৪ থেকে ৮) হতে দেখা যাচ্ছে, যা গুণোত্তর বা জ্যামিতিক প্রগমন ধারা (১, ২, ৪, ৮...)। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত তত্ত্বটি হলো অর্থনীতিবিদ থমাস রবার্ট ম্যালথাস-এর 'ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব'।
চিত্রাঙ্কন ও উপস্থাপন:
ভূমি অক্ষে (X-অক্ষে) সময় বা বছর (১৯৫০, ১৯৭৫, ২০০০) এবং লম্ব অক্ষে (Y-অক্ষে) জনসংখ্যা (২, ৪, ৮ একক) নির্ধারণ করা হয়।
১. ১৯৫০ সালের জন্য জনসংখ্যা সূচক বিন্দু (১৯৫০, ২) চিহ্নিত করি।
২. ১৯৭৫ সালের জন্য জনসংখ্যা সূচক বিন্দু (১৯৭৫, ৪) চিহ্নিত করি।
৩. ২০০০ সালের জন্য জনসংখ্যা সূচক বিন্দু (২০০০, ৮) চিহ্নিত করি।
এখন এই বিন্দুগুলো ক্রমান্বয়ে যোগ করলে একটি ঊর্ধ্বগামী বক্ররেখা পাওয়া যায়, যা সময়ের সাথে সাথে জ্যামিতিক হারে জনসংখ্যার দ্রুত ও উল্লম্ফন বৃদ্ধি নির্দেশ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ম্যালথাসীয় তত্ত্ব এবং কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বের মধ্যে বাংলাদেশের বাস্তবতায় 'কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বটি' অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য।
ম্যালথাসের তত্ত্বে কেবল জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদনের জ্যামিতিক ও গাণিতিক সম্পর্ককে বিবেচনা করা হয়েছে। ম্যালথাস জনসংখ্যাকে কেবল একটি বোঝা বা খাদ্য গ্রহণকারী হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু আধুনিক যুগে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লবের ফলে খাদ্য উৎপাদন জ্যামিতিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করেছে।
অন্যদিকে, এডউইন ক্যানান প্রবর্তিত কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বে দেশের মোট প্রাকৃতিক সম্পদ ও শ্রমশক্তির এমন একটি ভারসাম্য বিবেচনা করা হয়, যেখানে মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ হয়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে জনসংখ্যাকে কেবল খাদ্য গ্রহণকারী না ভেবে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের সুযোগ রয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে জনসংখ্যাকে বোঝা থেকে সম্পদে রূপান্তর করার মাধ্যমে সর্বোচ্চ কল্যাণ ও মাথাপিছু আয় অর্জন সম্ভব।
অতএব, নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনসংখ্যাকে নিছক খাদ্য সংকটের কারণ হিসেবে দেখার চেয়ে মানবসম্পদ ও মাথাপিছু আয়ের সমন্বয়ে বিশ্লেষণকারী কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বটিই বাংলাদেশের জন্য অধিক বাস্তবসম্মত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও