মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১:আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসের এক আলোচনা সভায় আরিফ বলেন, "অভিজ্ঞতা ও অনুশীলনের ফলে আচরণের যে অপেক্ষাকৃত স্থায়ী পরিবর্তন হয় তা জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।" জ্যাকলিনের মতে, "ব্যক্তি যা করে তাই জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।" দৃশ্যকল্প-২:লাল বাতি দেখে জহির তার গাড়ি থামিয়ে দেয়।
- ক)(1)
স্মৃতি কী?
- খ)(2)
শিক্ষণে প্রেষণা গুরুত্বপূর্ণ কেন?
- গ)(3)
জহিরের ক্ষেত্রে শিক্ষণের যে উপাদানটি কাজ করেছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
আরিফ ও জ্যাকলিন যে'দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন তার তুলনামূলক আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পূর্বে অর্জিত কোনো অভিজ্ঞতা বা শিক্ষণকে মনের মধ্যে ধরে রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা স্মরণ বা পুনরুদ্রেক করার মানসিক প্রক্রিয়াকে স্মৃতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রেষণা হলো এমন এক অভ্যন্তরীণ অবস্থা যা ব্যক্তিকে কোনো লক্ষ্য অর্জনে নির্দিষ্ট আচরণ করতে চালিত ও অনুপ্রাণিত করে। শিক্ষণের ক্ষেত্রে প্রেষণা শিক্ষার্থীর মনোযোগ আকর্ষণ করে, শেখার প্রতি আগ্রহ ও সক্রিয়তা বজায় রাখে এবং দীর্ঘক্ষণ অনুশীলনে সহায়তা করে। প্রেষণা ছাড়া কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী শিক্ষণ সম্ভব নয় বলেই শিক্ষণে প্রেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ লাল বাতি দেখে জহিরের গাড়ি থামিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষণের 'উদ্দীপক-প্রতিক্রিয়া সংযোগ' বা 'সংকেত শিক্ষণ' (Signal Learning / Conditioning) উপাদানটি কাজ করেছে।
শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় কোনো একটি উদ্দীপক (Stimulus) কোনো নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়ার (Response) সাথে অনুষঙ্গ স্থাপন করে। এখানে ট্রাফিক সংকেতের 'লাল বাতি' হলো একটি কৃত্রিম বা শর্তযুক্ত উদ্দীপক এবং গাড়ি 'থামিয়ে দেওয়া' হলো তার প্রতি একটি নির্দিষ্ট আচরণ বা প্রতিক্রিয়া। পূর্বে অনুশীলন ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জহির লাল বাতির অর্থ অনুধাবন করেছে এবং সেই অনুযায়ী নির্দিষ্ট আচরণ করতে শিখেছে। এই ধরনের শিক্ষণে একটি নির্দিষ্ট উদ্দীপকের সাথে নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়ার দৃঢ় সংযোগ বা অনুষঙ্গ কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ আরিফের বক্তব্যে 'শিক্ষণ' (Learning) এবং জ্যাকলিনের বক্তব্যে 'আচরণ' (Behavior)-এর বিষয়টি ফুটে উঠেছে। মনোবিজ্ঞানে এ দুটি প্রত্যয় পরস্পরের সাথে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত হলেও এদের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। নিম্নে উভয়ের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:
১. সংজ্ঞা ও প্রকৃতি: আরিফের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিজ্ঞতা ও অনুশীলনের ফলে আচরণের অপেক্ষাকৃত স্থায়ী পরিবর্তনই হলো শিক্ষণ। অন্যদিকে জ্যাকলিনের মতে, ব্যক্তি যা করে তাই তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যা মনোবিজ্ঞানে আচরণের সংজ্ঞা বহন করে। অর্থাৎ পরিবেশের কোনো উদ্দীপকের প্রতি প্রাণীর যেকোনো প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য শারীরিক ও মানসিক প্রতিক্রিয়াই আচরণ।
২. স্থায়িত্ব: শিক্ষণ সবসময় আচরণের অপেক্ষাকৃত স্থায়ী পরিবর্তন নির্দেশ করে। ক্লান্তি, অসুস্থতা বা মাদকের প্রভাবে আচরণের যে পরিবর্তন হয় তা সাময়িক এবং তা শিক্ষণ নয়। অপরদিকে, আচরণ স্থায়ী বা সাময়িক উভয় ধরনেরই হতে পারে।
৩. সম্পর্ক ও নির্ভরতা: আচরণ হলো শিক্ষণের বহিঃপ্রকাশ। শিক্ষণ সরাসরি দেখা যায় না, তবে ব্যক্তির আচরণের পরিবর্তনের মাধ্যমেই শিক্ষণ পরিমাপ করা যায়। আবার সব আচরণের পেছনে শিক্ষণ থাকে না; কিছু আচরণ সহজাত (যেমন: চোখের পলক ফেলা) এবং কিছু আচরণ শিক্ষালব্ধ।
৪. পরিধি: আচরণ প্রত্যয়টির পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত, কারণ প্রাণীর সকল বাহ্যিক অঙ্গসঞ্চালন, কথাবার্তা, চিন্তন সবই আচরণের অন্তর্ভুক্ত। শিক্ষণ হলো আচরণেরই একটি রূপান্তর প্রক্রিয়া।পরিশেষে বলা যায়, আচরণ হলো ব্যক্তির ক্রিয়াকলাপের সামগ্রিক রূপ এবং শিক্ষণ হলো অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সেই আচরণের ইতিবাচক ও দীর্ঘস্থায়ী রূপান্তর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও