বাংলা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
11.
(ক) খাদ্যে ভেজাল ও তার প্রতিকার বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর।অথবা,(খ) "রক্ত দেই জীবন বাঁচাই" শিরোনামে একটি খুদে গল্প লেখ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
(ক) খাদ্যে ভেজাল ও তার প্রতিকার বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ:
স্থান: একটি পার্কের বেঞ্চ
চরিত্র: আবীর ও ফাহিম
আবীর: কেমন আছিস ফাহিম? তোকে খুব চিন্তিত দেখাচ্ছে!
ফাহিম: ভালো নেই রে আবীর। আমার ছোট ভাইটা কয়েক দিন ধরে পেটের তীব্র সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি। ডাক্তার বললেন, বিষাক্ত ও ভেজাল খাবার খাওয়ার ফলেই নাকি এমনটা হয়েছে।
আবীর: অত্যন্ত দুঃখজনক! বর্তমানে খাদ্যে ভেজাল আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলমূল, শাকসবজি, দুধ, মিষ্টি—এমন কোনো খাবার নেই যেখানে বিষাক্ত রাসায়নিক বা ফরমালিন মেশানো হচ্ছে না।
ফাহিম: ঠিক বলেছিস। কিছু অসাধু ও অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ী মানুষের জীবন নিয়ে নির্লজ্জভাবে ছিনিমিনি খেলছে। এই ভেজাল খাবার খেয়ে মানুষ ক্যানসার, কিডনি বিকল ও লিভারের জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
আবীর: এর প্রতিকারে আমাদের দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। আইনের যথাযথ প্রয়োগ ছাড়া এই অপরাধ থামানো অসম্ভব। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান আরও জোরদার করতে হবে।
ফাহিম: শুধু অভিযানই যথেষ্ট নয়, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক কঠিন শাস্তি দিতে হবে, যাতে অন্যরা ভয় পায়। সেই সাথে বিএসটিআই (BSTI)-এর মতো তদারকি সংস্থাগুলোকে আরও সৎ ও কার্যকর হতে হবে।
আবীর: একমত। তাছাড়া সাধারণ মানুষের মাঝেও ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। অনিরাপদ ও অস্বাস্থ্যকর খাবার কেনা এবং খাওয়া বর্জন করতে হবে।
ফাহিম: একদম ঠিক। সরকার, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সোচ্চার হতে হবে।
আবীর: নিশ্চয়ই। তুই এখন হাসপাতালে যা, কাকার পাশে থাক। তোর ভাইয়ের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি।
ফাহিম: ধন্যবাদ আবীর, সাবধানে থাকিস।
অথবা,
(খ) খুদে গল্প: "রক্ত দেই জীবন বাঁচাই"
সন্ধ্যায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। শুভ যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি থেকে ফিরছিল, তখন তার ফোনের রিংটোন বেজে উঠল। স্ক্রিনে ভেসে উঠল অচেনা একটি নম্বর। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে এক তরুণের ব্যাকুল ও অশ্রুভেজা কণ্ঠ ভেসে এল, "ভাইয়া, আমার মা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে আছেন। হঠাৎ ইন্টারনাল ব্লিডিং শুরু হয়েছে। অবিলম্বে ‘ও নেগেটিভ’ (O-) রক্ত লাগবে। শহরের সব ব্লাড ব্যাংকে খুঁজেছি, কোথাও রক্ত পাচ্ছি না। ফেসবুকের একটি রক্তদাতা গ্রুপে আপনার নম্বর পেলাম। আপনি কি দয়া করে রক্ত দিয়ে আমার মাকে বাঁচাবেন?"
কথাগুলো শুনে শুভর শরীর হিম হয়ে গেল। সে নিজেও ‘ও নেগেটিভ’ রক্তের অধিকারী, যা অত্যন্ত দুর্লভ। বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, শহরের যানবাহনও প্রায় বন্ধ। তাছাড়া পরদিনই শুভর সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা। এক মুহূর্তের জন্য দ্বিধা তার মনে উঁকি দিল। কিন্তু পরক্ষণেই এক অসহায় সন্তানের আর্তনাদ শুভর মানবিক সত্তাকে নাড়া দিয়ে উঠল। সে ভাবল, পরীক্ষার প্রস্তুতি পরে নেওয়া যাবে, কিন্তু একটি জীবন চলে গেলে তা আর কখনোই ফিরে পাওয়া যাবে না।
দেরি না করে শুভ একটি রিকশা নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হলো। প্রতিকূল আবহাওয়া পেরিয়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে তার প্রায় ঘণ্টাখানেক লেগে গেল। হাসপাতালের করিডোরে গিয়ে দেখে এক তরুণ অসহায়ের মতো মাথায় হাত দিয়ে বসে কাঁদছে। শুভ এগিয়ে গিয়ে তার কাঁধে হাত রাখল।
রক্তদানের প্রক্রিয়া শেষ হতে হতে রাত দশটা বাজল। ডাক্তার এসে জানালেন, ঠিক সময়ে রক্ত পাওয়ায় রোগীর অবস্থা এখন শঙ্কামুক্ত। তরুণের চোখ দিয়ে তখন আনন্দের অশ্রু ঝরছে। সে শুভর হাত দুটো শক্ত করে চেপে ধরে বলল, "ভাইয়া, আজ আপনি শুধু রক্ত দেননি, আমার মাকে নতুন জীবন ফিরিয়ে দিয়েছেন। আপনার এই ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারব না।"
হাসপাতাল থেকে বের হয়ে বৃষ্টিভেজা শীতল বাতাসে শুভর মন এক স্বর্গীয় প্রশান্তিতে ভরে উঠল। ক্লান্ত শরীরেও তার মনে হচ্ছিল, নিজের ক্ষুদ্র ত্যাগে একটি জীবন রক্ষা করার আনন্দের চেয়ে বড় কোনো আনন্দ পৃথিবীতে হতে পারে না। প্রকৃত অর্থেই—রক্ত দিলে জীবন বাঁচে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও