পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার • চট্টগ্রাম কলেজ • চট্টগ্রাম কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
মেজবাহ ও বিলকিছ চাচাতো ভাই-বোন। তাদের উভয়ের ভোট প্রদান, পেশা বাছাই ও ধর্মাচারের সমান অধিকার রয়েছে। তারা একই অফিসে কাজ করে। তাদের কাজের ধরন একই। কিন্তু মেজবাহর মজুরি বিলকিছের চেয়ে বেশি।
- ক)(1)
রাজনৈতিক অধিকার কী?
- খ)(2)
মানবাধিকার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত অধিকার ছাড়া নাগরিকের আর কী রাজনৈতিক অধিকার রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
বিলকিছ যে ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে তা সমাধানের উপায় বর্ণনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাষ্ট্র পরিচালনা ও শাসনকার্যে অংশগ্রহণের জন্য নাগরিকদের যেসব সুযোগ-সুবিধা বা অধিকার প্রদান করা হয়, তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানবাধিকার হলো মানুষের জন্মগত ও অবিচ্ছেদ্য অধিকার, যা মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার এবং পূর্ণ আত্মবিকাশের জন্য অপরিহার্য। বর্ণ, লিঙ্গ, জাতীয়তা, ভাষা বা ধর্মের কোনো ভেদাভেদ ছাড়াই প্রতিটি মানুষ এ অধিকারগুলো পাওয়ার অধিকারী। জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রে (১৯৪৮) এই অধিকারসমূহের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত অধিকারগুলোর মধ্যে কেবল 'ভোট প্রদান'-এর বিষয়টি রাজনৈতিক অধিকার (পেশা বাছাই ও ধর্মাচার যথাক্রমে অর্থনৈতিক ও সামাজিক/নাগরিক অধিকার)। ভোটদান অধিকার ছাড়াও নাগরিকের আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অধিকার রয়েছে।
নাগরিকের অন্যান্য প্রধান রাজনৈতিক অধিকারগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. নির্বাচিত হওয়ার অধিকার: যোগ্যতা অনুযায়ী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার।
২. সরকারি চাকরি লাভের অধিকার: মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার সমান সুযোগ।
৩. আবেদন করার অধিকার: অভাব-অভিযোগ দূরীকরণ বা ন্যায়বিচারের জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানোর অধিকার।
৪. রাজনৈতিক দল ও সংগঠন গঠনের অধিকার: রাজনৈতিক মতাদর্শ চর্চা ও সমিতি গঠনের স্বাধীনতা।
৫. সমালোচনা করার অধিকার: সরকারের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করার অধিকার।এসব অধিকার নাগরিককে রাষ্ট্রে সক্রিয় ও সচেতনভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বিলকিছ মূলত অর্থনৈতিক অধিকার বা 'সমান কাজের জন্য সমান মজুরি' পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এটি সমাধানের উপায় নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. শ্রম আইনের কঠোর বাস্তবায়ন: রাষ্ট্রে বিদ্যমান শ্রম আইনে লিঙ্গ নির্বিশেষে 'একই কাজের জন্য সমান মজুরি' প্রদান বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং তা কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে।
২. বৈষম্যবিরোধী নীতি ও তদারকি: প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত শ্রম তদারকি জোরদার করতে হবে যাতে কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো বেতন বা সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য না ঘটে।
৩. সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন: নারীর শ্রমকে পুরুষের তুলনায় কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করার মানসিকতা দূর করতে সচেতনতা বৃদ্ধি ও গণমাধ্যমে প্রচার চালাতে হবে।
৪. আইনি সহায়তা ও ট্রেড ইউনিয়ন: বৈষম্যের শিকার হলে বিলকিছের মতো কর্মীরা যেন সহজেই শ্রম আদালত বা আইনি সংস্থার সহায়তা পেতে পারেন তা নিশ্চিত করা এবং শক্তিশালী ট্রেড ইউনিয়নের মাধ্যমে ন্যায্য অধিকার দাবি করা।
৫. শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ: যেসব প্রতিষ্ঠান লিঙ্গভেদে বৈষম্যমূলক মজুরি দেবে, তাদের জরিমানা ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।এসব পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই কর্মক্ষেত্রে মজুরি বৈষম্য দূর করে বিলকিছের মতো বঞ্চিত কর্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও