ব্যবসায় উদ্যোগ • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২

ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন

বান্দরবানের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মিজান উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে তার মামার সহায়তায় চট্টগ্রাম শহরের একটি মোবাইল সার্ভিসিং প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করে। বেতন বাবদ প্রাপ্ত অর্থ জমা করে তিন বছর পর ছোট পরিসরে নিজে একটি মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টার গড়ে তোলে। শহরের নানান জায়গা থেকে পুরনো এবং নষ্ট মোবাইল কম দামে সংগ্রহ করে তা মেরামতপূর্বক সাতকানিয়া, লোহাগড়া, চকরিয়ার বিভিন্ন দোকানে অপেক্ষাকৃত বেশি দামে বিক্রয় করে। মাঠ পর্যায়ে পুরনো মোবাইল বিক্রির জন্য কলেজপড়ুয়া ৬ জন শিক্ষার্থীকে খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ তৈরি করে দেয়। তার সার্ভিসিং সেন্টারে ৪ জন পূর্ণকালীন কাজ করে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্প্রতি স্নাতক পাস করা মিজান তার এলাকায় একটি সংগঠনের পক্ষ হয়ে সপ্তাহে একদিন মোবাইল সার্ভিসিং-এর ওপর ফ্রি প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এতে অনেকে অনুপ্রাণিত হচ্ছে।

  1. ক)

    প্রশিক্ষণ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    সঠিক কর্মী নির্বাচন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    মিজানের কোন কাজটি উদ্বুদ্ধকরণমূলক? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকের মিজানের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডই প্রশংসনীয়" বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    প্রশিক্ষণ হলো সর্বস্তরের কর্মীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানসিকতা বিকাশের অবিরাম ও নিয়মিত প্রচেষ্টা।

  2. খ)

    ব্যবসায় পরিচালনার জন্য যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়, তাদের অবশ্যই যোগ্যতাসম্পন্ন ও নিজ কাজে দক্ষ হতে হয়। কর্মী নিয়োগের সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা, বিশ্বস্ততা ইত্যাদি মানদণ্ডে যাচাই করে কর্মী বাছাই করাকে সঠিক কর্মী নির্বাচন বলে। এতে আবেগের বশে কাউকে নিয়োগ দেওয়া উচিত নয়। সঠিক কর্মী নির্বাচন ব্যবসায়ের সাফল্যের অন্যতম পূর্বশর্ত।

  3. গ)

    মিজানের এলাকায় একটি সংগঠনের পক্ষ হয়ে সপ্তাহে একদিন মোবাইল সার্ভিসিংয়ের ওপর বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজটি উদ্বুদ্ধকরণমূলক।

    আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধকরণের একটি উপায় হলো সফল ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অন্যদের সাথে ভাগ করে নেওয়া এবং যুবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। মিজান নিজে সফল হয়ে অন্যদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এতে তার এলাকার যুবকেরা অনুপ্রাণিত হচ্ছে এবং নিজ দক্ষতা বাড়িয়ে আত্মকর্মসংস্থানে এগিয়ে আসছে। তাই এটি উদ্বুদ্ধকরণমূলক কাজ।

  4. ঘ)

    আমি একমত যে মিজানের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড প্রশংসনীয়। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে এর মূল্যায়ন নিচে দেওয়া হলো।

    ১. আত্মকর্মসংস্থান: মিজান চাকরি করে সঞ্চিত অর্থ দিয়ে নিজের মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টার গড়েছেন। নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়া দেশের বেকার সমস্যার সমাধানে আদর্শ।
    ২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: তার সেন্টারে ৪ জন পূর্ণকালীন এবং ৬ জন শিক্ষার্থী খণ্ডকালীন কাজ করছে। এতে বেকারত্ব কমছে এবং শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করার সুযোগ পাচ্ছে।
    ৩. সম্পদের সদ্ব্যবহার: পুরনো ও নষ্ট মোবাইল মেরামত করে পুনরায় বিক্রি করায় সম্পদের অপচয় কমছে এবং কম দামে ক্রেতারা মোবাইল পাচ্ছে।
    ৪. সামাজিক দায়বদ্ধতা: বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে তিনি এলাকার যুবকদের দক্ষ করছেন ও অনুপ্রাণিত করছেন।

    সুতরাং, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সম্পদের সদ্ব্যবহার ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে মিজানের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রশংসনীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন