অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার "রূপকল্প-২০২১" নামে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে। উক্ত পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করার জন্য (২০১১-২০১৫) সাল সময়সীমার ভিত্তিতে আরেকটি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই উন্নয়ন পরিকল্পনায় চালিকাশক্তি হিসেবে 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ২০১৫ সালের মধ্যে শতভাগ শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নীটভর্তি নিশ্চিতকরণ, সুপেয় পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণসহ পদ্মা সেতু নির্মাণ, ই-গভর্ন্যান্স চালুকরণ ইত্যাদি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে।
- ক)(1)
উন্নয়ন পরিকল্পনা কী?
- খ)(2)
বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনাকে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে ২০১১-২০১৫ সালের জন্য গৃহীত পরিকল্পনার প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ কী কী?
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিকল্পনায় বর্ণিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়া আর কোন কোন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে পারে বলে তুমি মনে কর?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সম্পদের কাম্য ব্যবহার নিশ্চিত করতে পূর্বনির্ধারিত সুচিন্তিত ও ধারাবাহিক নীতি বা কর্মসূচির রূপরেখাকে উন্নয়ন পরিকল্পনা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব উন্নয়ন পরিকল্পনা সাধারণত এক বছর মেয়াদের জন্য প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়, সেগুলোকে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা বলা হয়। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP) জাতীয় বাজেটের অংশ হিসেবে মাত্র এক অর্থবছরের জন্য প্রস্তুত করা হয় এবং এর লক্ষ্যমাত্রাগুলো এক বছরের মধ্যেই অর্জনের চেষ্টা করা হয়। এর বাস্তবায়নকাল দীর্ঘমেয়াদি না হয়ে এক বছর মেয়াদে সীমাবদ্ধ থাকায় বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনাকে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ২০১১-২০১৫ সাল সময়সীমার পরিকল্পনাটি হলো বাংলাদেশের ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, যা রূপকল্প-২০২১ অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছিল। এর প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং অতিদারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা।
২. শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন: ২০১৫ সালের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিশুর নীটভর্তি নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করা।
৩. অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সেবা নিশ্চিতকরণ: পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সুপেয় পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন সুবিধা নিশ্চিত করা।
৪. প্রযুক্তি ও সুশাসন: 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' কার্যক্রমের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার এবং প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ই-গভর্ন্যান্স চালু করা। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত লক্ষ্যমাত্রাগুলো ছাড়াও ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে হলে নিম্নলিখিত আর্থসামাজিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন জরুরি:
১. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (GDP) বৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা: বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার অন্তত ৭-৮ শতাংশে উন্নীত করা এবং তা দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখা।
২. মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি: মধ্যম আয়ের দেশের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দেশের জনগণের মাথাপিছু জাতীয় আয় কাঙ্ক্ষিত স্তরে বৃদ্ধি করা।
৩. শিল্পায়ন ও কাঠামোগত রূপান্তর: অর্থনীতিতে কৃষির চেয়ে উৎপাদনশীল শিল্প ও সেবা খাতের অবদান বৃদ্ধি করা এবং রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণ (যেমন- আইসিটি, চামড়া ও ওষুধ শিল্প)।
৪. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা: নিরবচ্ছিন্ন শিল্প উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আধুনিক ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সংস্থান করা।
৫. স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন: মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমানো, পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং গড় আয়ু বৃদ্ধি করে সার্বিক মানব উন্নয়ন সূচকে (HDI) উন্নয়ন ঘটানো।
৬. আয়বৈষম্য হ্রাস ও সামাজিক নিরাপত্তা: ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমিয়ে কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা।অতএব, উদ্দীপকের লক্ষ্যমাত্রার পাশাপাশি টেকসই প্রবৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শিল্পায়নের সার্বিক অগ্রগতিই বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে সহায়ক হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও