ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
'প্রত্যয়' ক্রিকেট অঙ্গনে একটি উদীয়মান ও শক্তিশালী ক্রীড়া 'সংঘ। সম্প্রতি তালাত আজিজ ক্রীড়া সংঘের নেতৃত্ব লাভ করেছে। তার নেতৃত্বে প্রত্যয় ক্রীড়া সংঘ দেশে ও দেশের বাইরে একের পর এক শিরোপা অর্জন করে চলছে। তালাত আজিজের দলে আছে বিশ্ব বরেণ্য কিছু ক্রিকেটার। তালাত আজিজের দূরদর্শী নেতৃত্বে ও বিশ্বখ্যাত খেলোয়াড়দের চোখ ধাঁধানো নৈপুণ্যে প্রত্যয় ক্রীড়া সংঘটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের হারিয়ে মূল্যবান ও মর্যাদা সম্পন্ন শিরোপা ছিনিয়ে আনছে। অবশ্য সংঘের পূববর্তী অধিনায়ক রাহাত আলীর অবদানও এক্ষেত্রে কম নয়। তিনি একটি প্রশিক্ষিত, সুসংগঠিত ও সুনিপুণ দল এবং অনুকূল পরিবেশ তালাত আজিজের হাতে তুলে দিয়ে যান।
- ক)(1)
উমাইয়া সাধু কে?
- খ)(2)
আবদুল মালিককে রাজেন্দ্র বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত-তালাত আজিজের সাথে উমাইয়া শাসক আল ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিকের মিলের ক্ষেত্র কোনটি? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
‘সময় ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের রাহাত আলী এবং উমাইয়া শাসক আবদুল মালিকের অবদান অভিন্ন'- উক্তিটির যথার্থতা নির্ণয় করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উমাইয়া খলিফা উমর বিন আবদুল আজিজকে 'উমাইয়া সাধু' বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উমাইয়া খেলাফতের অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসন এবং একে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার অসাধারণ রাজনৈতিক দক্ষতার জন্য খলিফা আবদুল মালিককে 'রাজেন্দ্র' (Monarch of the Umayyads) বা প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
মুয়াবিয়া (রা.)-এর মৃত্যুর পর এবং দ্বিতীয় ফিতনাকালে উমাইয়া সাম্রাজ্যে চরম রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। আবদুল মালিক খলিফা হয়ে অত্যন্ত কঠোর ও দূরদর্শী হাতে আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের, শিয়া ও খাওয়ারিজদের বিদ্রোহ দমন করেন। তিনি সাম্রাজ্যের অখণ্ডতা ফিরিয়ে আনেন, আরবিকে দাপ্তরিক ভাষা করেন, খাঁটি আরবি মুদ্রা চালু করেন এবং শক্তিশালী শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলেন। তাঁর এই অনন্য সাফল্য ও শাসনদক্ষতার কারণে ঐতিহাসিকরা তাঁকে উমাইয়া বংশের 'রাজেন্দ্র' হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত তালাত আজিজের সাথে উমাইয়া খলিফা প্রথম আল-ওয়ালিদের সাম্রাজ্য বিস্তার, গৌরবোজ্জ্বল সামরিক বিজয় এবং যোগ্য সেনাপতিদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে গভীর মিল রয়েছে।
খলিফা আল-ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিকের শাসনামল (৭০৫-৭১৫ খ্রি.) উমাইয়া খেলাফতের সর্বাপেক্ষা গৌরবময় ও সাম্রাজ্য বিস্তারের স্বর্ণযুগ ছিল। আল-ওয়ালিদ নিজে দূরদর্শী শাসক ছিলেন এবং তাঁর অধীনে মুহাম্মদ বিন কাসিম (সিন্ধু বিজয়ী), কুযাইবা বিন মুসলিম (মধ্য এশিয়া বিজয়ী) এবং মূসা বিন নুসায়ের ও তারিক বিন জিয়াদ (স্পেন বিজয়ী)-এর মতো বিশ্বখ্যাত ও দক্ষ সেনাপতিরা ছিলেন। তাঁদের অসাধারণ নৈপুণ্যে মুসলিম সাম্রাজ্য আটলান্টিক মহাসাগর থেকে সিন্ধু উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
উদ্দীপকের তালাত আজিজ যেমন দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে এবং দলের বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটারদের চোখ ধাঁধানো নৈপুণ্য কাজে লাগিয়ে দেশে-বিদেশে মর্যাদা সম্পন্ন শিরোপা ছিনিয়ে আনেন, তেমনি খলিফা আল-ওয়ালিদও তাঁর বিখ্যাত সেনাপতিদের রণকৌশল ও নিজের সফল নেতৃত্বে উমাইয়া খেলাফতকে বিশ্বদরবারে এক অপরাজেয় শক্তিরূপে প্রতিষ্ঠিত করেন। সুতরাং বিজয়ের গৌরব ও যোগ্য সহকর্মীদের ব্যবহারের দিক থেকে তালাত আজিজের সাথে আল-ওয়ালিদের স্পষ্ট মিল রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘সময় ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের রাহাত আলী এবং উমাইয়া শাসক আবদুল মালিকের অবদান অভিন্ন'— উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
উমাইয়া খেলাফতের ইতিহাসে খলিফা আবদুল মালিক বিন মারওয়ান এক অস্থিতিশীল ও চরম গৃহযুদ্ধপূর্ণ পরিস্থিতিতে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বিদ্রোহীদের দমন করে একটি সুশৃঙ্খল, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। তিনি তাঁর উত্তরসূরি পুত্র আল-ওয়ালিদের জন্য একটি বিশাল সেনাবহর, শক্তিশালী কোষাগার এবং সংহত রাষ্ট্রব্যবস্থা রেখে যান, যার ওপর ভিত্তি করেই আল-ওয়ালিদ ব্যাপক দিগ্বিজয় ও সমৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছিলেন। আবদুল মালিকের প্রস্তুত করা মজবুত ভিত্তি ছাড়া আল-ওয়ালিদের স্বর্ণযুগ সম্ভব ছিল না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রত্যয় ক্রীড়া সংঘের পূর্ববর্তী অধিনায়ক রাহাত আলী একটি প্রশিক্ষিত, সুসংগঠিত দল এবং অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে তালাত আজিজের হাতে তুলে দিয়ে যান। রাহাত আলীর এই দূরদর্শী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই তালাত আজিজ একের পর এক শিরোপা জয় করে দলকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে নিতে পেরেছেন।
সুতরাং দেখা যায়, রাহাত আলী যেমন তালাত আজিজের সাফল্যের পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন, একইভাবে খলিফা আবদুল মালিকও খেলাফতকে সুসংহত করে আল-ওয়ালিদের সাফল্যের মঞ্চ তৈরি করেছিলেন। অতএব, প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও যোগ্য উত্তরসূরির বিজয়ের পথ সুগম করে ভিত্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে রাহাত আলী ও খলিফা আবদুল মালিকের অবদান সম্পূর্ণ অভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও