‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান জনাব 'ক' বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জন শেষে একটি উচ্চপদে চাকরি পেয়ে রাতারাতি বদলে যান। বিত্তবান বন্ধুদের সাথে পাল্লা দিয়ে অতি অল্প সময়েই বাড়ি- গাড়ির মালিক হয়ে যান। হঠাৎ করে বিপুল বৃত্ত বৈভবের মালিক হয়ে যাওয়ায় সমাজের অনেকেই তাকে নিয়ে সমালোচনা করতে শুরু করেন।

  1. ক)

    মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে জনাব 'ক'- এর কর্মকাণ্ড কোন কারনটিকে নির্দেশ করে তা ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "উক্ত কারণই দুর্নীতির একমাত্র কারণ নয়" বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে প্রদেশের অভ্যন্তরীণ শাসনকাজে নিজস্ব ক্ষমতা ও স্বাধীনতা ভোগ করাকে বোঝায়। এ ব্যবস্থায় প্রদেশগুলোর আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক বিষয়ে সংবিধান অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারের অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ ছাড়া নিজস্ব মন্ত্রিসভা ও আইনসভার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে পূর্ণ কর্তৃত্ব বজায় থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জনাব 'ক'-এর কর্মকাণ্ড দুর্নীতির অন্যতম কারণ হিসেবে 'উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বিলাসী জীবনযাপনের মোহ'-কে নির্দেশ করে।

    দুর্নীতি হলো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা অতিরিক্ত অর্থবিত্ত অর্জনের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার করা। সমাজে অনেকেই নিজের বৈধ আয়ের সীমাবদ্ধতা ভুলে রাতারাতি ধনী হওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান জনাব 'ক' একটি উচ্চপদে চাকরি পেয়ে বিত্তবান বন্ধুদের সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে অতি অল্প সময়ে বাড়ি-গাড়ির মালিক হন। বৈধ আয়ে রাতারাতি এত বিপুল বিত্ত-বৈভব অর্জন করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ, বন্ধুদের সাথে পাল্লা দিয়ে অতিরিক্ত বিলাসিতা ও দ্রুত ধনী হওয়ার লোভ বা সামাজিক মর্যাদার মিথ্যা প্রতিযোগিতাই তাকে দুর্নীতির মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে বাধ্য করেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উক্ত কারণই দুর্নীতির একমাত্র কারণ নয়"—উক্তিটি যথার্থ। বিলাসী জীবনের মোহ বা অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষা দুর্নীতির একটি প্রধান কারণ হলেও এর পেছনে আরও বহুবিধ আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কারণ বিদ্যমান রয়েছে।

    দুর্নীতির অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো:
    ১. নৈতিক অবক্ষয় ও মূল্যবোধের অভাব: মানুষের সততা ও ধর্মীয় অনুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বিস্তার লাভ করে।
    ২. দারিদ্র্য ও নিম্ন বেতন কাঠামো: সরকারি বা বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বল্প বেতন জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় অনেকে দুর্নীতির আশ্রয় নেন।
    ৩. আইনের শাসনের অভাব ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি: অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ না থাকা দুর্নীতি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
    ৪. রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা: রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ ও দুর্নীতিগ্রস্তদের রক্ষা করার প্রবণতা দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে।
    ৫. জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাব: প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক নজরদারির দুর্বলতা থাকলে অনিয়ম বাড়তে থাকে।

    সুতরাং, শুধু বিলাসী মনোভাব বা উচ্চাকাঙ্ক্ষাই নয়, বরং সামাজিক, অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও নৈতিক বহুমুখী সংকটের সমন্বিত ফল হলো দুর্নীতি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন