সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
সহপাঠ প্রশ্ন
ত্রিপুরা রাজ মন্দিরের পুরোহিত রঘুপতি মিথ্যা ধর্মবোধ ও অন্ধসংস্কারের ধারক। মন্দিরে বলিদান প্রথার বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিবাদের বাণী ধ্বনিত হয় অপর্ণার মধ্যে। তার ছাগ-শিশু বলির বিচার দাবি 'বিসর্জন' নাটকের বিরোধের বীজ। এ বীজ প্রথন রোপিত হয় রাজার হৃদয়ে। আর এ রোপিত বীজের কারণে রাজার বিরুদ্ধে বিরোধ, জয়সিংহের আত্মবিসর্জন, রঘুপতির প্রতিমা বিসর্জন এবং পরিণতিতে মাতৃরূপে অপর্ণার নিকট রঘুপতির দর্প চূর্ণ হয়।
- ক)(1)
'লালসালু' উপন্যাসে তানুবিবি কে?
- খ)(2)
গ্রাম আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন কীভাবে ভেঙে যায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের অপর্ণার সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের জমিলার সাদৃশ্য কতটুকু।- ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'প্রচলিত প্রথা ও কুসংস্কার কখনো ব্যক্তি ও সমাজের জন্য সহায়ক নয় বরং অন্তরায়'- উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'লালসালু' উপন্যাসে তানুবিবি হলো মাতব্বর খালেক ব্যাপারীর নিঃসন্তান প্রথম স্ত্রী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মজিদের চক্রান্ত এবং ধর্মীয় অনুশাসনের ভয় দেখিয়ে গ্রামবাসীকে প্রভাবিত করার কারণে আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ভেঙে যায়।
আক্কাস গ্রামে শিক্ষার আলো ছড়াতে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। কিন্তু মজিদ বুঝতে পারে যে মানুষ শিক্ষিত হলে তার ভণ্ডামি ও ধর্মীয় কর্তৃত্ব ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। তাই সে কূটকৌশলে আক্কাসকে দাড়ি না রাখা ও ইসলামি অনুশাসন না মানার অপবাদ দেয় এবং একটি নতুন মসজিদের প্রয়োজন বড় করে তোলে। ফলে ধর্মান্ধ গ্রামবাসীদের বিরোধিতার মুখে আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের অপর্ণার সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের জমিলার অন্ধ সংস্কার ও কুপ্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মনোভাবের দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের অপর্ণা একজন প্রতিবাদী চরিত্র, যে মন্দিরের বলিদান প্রথার মতো প্রচলিত নিষ্ঠুর প্রথার বিরুদ্ধে একা আওয়াজ তোলে এবং পুরোহিত রঘুপতির অন্ধ বিশ্বাসের ভিত নাড়িয়ে দেয়।
'লালসালু' উপন্যাসের জমিলাও প্রচলিত ধর্মীয় অনুশাসন ও মজিদের চাপিয়ে দেওয়া ভণ্ড আধিপত্যের বিরুদ্ধে নীরব অথচ দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সে মজিদের কর্তৃত্বকে অস্বীকার করে, নামাজ না পড়ে ঘুমিয়ে থাকে এবং সবশেষে মজিদের মুখে থুথু নিক্ষেপ করে নিজের চরম ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানায়। অপর্ণা যেখানে প্রকাশ্য প্রতিবাদের মাধ্যমে প্রচলিত সংস্কারের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, জমিলা সেখানে নিজের অবাধ্যতা ও সাহসিকতার মাধ্যমে মজিদের ভণ্ডামীপূর্ণ আধিপত্যকে অগ্রাহ্য করে। এই অবাধ্যতা ও কুসংস্কারের সামনে নতি স্বীকার না করার দিক থেকে অপর্ণার সাথে জমিলার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'প্রচলিত প্রথা ও কুসংস্কার কখনো ব্যক্তি ও সমাজের জন্য সহায়ক নয় বরং অন্তরায়'—উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের প্রেক্ষাপটে মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ত্রিপুরা রাজমন্দিরের পুরোহিত রঘুপতির অন্ধ সংস্কার ও বলিদান প্রথা সমাজের শান্তি নষ্ট করে এবং রক্তপাত ও বিসর্জনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটি মানবিক বোধকে রুদ্ধ করে এক অন্ধ ধর্মান্ধতার বিস্তার ঘটায়।
একইভাবে 'লালসালু' উপন্যাসে মজিদের চাপিয়ে দেওয়া মাজারকেন্দ্রিক অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার ও ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা সমাজকে পশ্চাৎপদ করে রাখে। এর ফলে আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার মতো প্রগতিশীল উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়, রহিমা ও জমিলার মতো নারীরা মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয় এবং মানুষ সত্য-মিথ্যার বিচারবোধ হারিয়ে ফেলে। কুসংস্কার মানুষকে যুক্তিবোধহীন ক্রীড়নকে পরিণত করে, যা ব্যক্তিজীবনের স্বাভাবিক বিকাশ ও সমাজের সামগ্রিক অগ্রগতিকে প্রতিহত করে।
অতএব, উদ্দীপকের বলিদান প্রথা এবং 'লালসালু'র মাজারকেন্দ্রিক কুসংস্কার উভয়ই প্রমাণ করে যে, প্রচলিত অন্ধ সংস্কার কখনোই সমাজের কল্যাণ বয়ে আনে না, বরং তা মানবতা ও প্রগতির প্রধান অন্তরায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও