গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • উত্তরা কলেজ, ঢাকা • উত্তরা কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

রিতা তার পরিবারের দৈনন্দিন আহারে বিভিন্ন শ্রেণির খাদ্যের সমাবেশ ঘটানোর চেষ্টা করে। এছাড়াও রিতা মনে করে সুষ্ঠু আহার পরিকল্পনায় বয়স, লিঙ্গ ইত্যাদি কতগুলো বিষয় অনুসরণ করা জরুরি।

  1. ক)

    শ্রমজীবী ব্যক্তির দৈনিক কতগ্রাম শক্তি প্রদানকারী খাদ্য প্রয়োজন?

    (1)
  2. খ)

    একক খাদ্যে যথার্থ পুষ্টি সম্ভব নয় - ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভিন্ন শ্রেণির খাদ্যের সমাবেশ কোন নামে অভিহিত? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রিতার মতে আহার পরিকল্পনায় যে বিষয়গুলো অনুসরণ করা জরুরি সেগুলো বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শ্রমজীবী ব্যক্তির দৈহিক পরিশ্রম অনুযায়ী দৈনিক প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট বা শক্তি প্রদানকারী খাদ্য প্রয়োজন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবনের জন্য খাদ্যের ছয়টি মৌলিক পুষ্টি উপাদান (কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি) নির্দিষ্ট অনুপাতে গ্রহণ করা জরুরি। কোনো একক খাদ্যের মধ্যে এই ছয়টি উপাদানের সবগুলোই সঠিক অনুপাতে উপস্থিত থাকে না; যেমন- চালে শর্করা বেশি থাকলেও প্রোটিন ও ভিটামিন খুব কম থাকে, আবার মাংসে প্রোটিন থাকলেও আঁশ বা ভিটামিন 'সি' থাকে না। তাই একক কোনো খাদ্যের ওপর নির্ভর করে শরীরের প্রয়োজনীয় সব পুষ্টিচাহিদা মেটানো এবং সার্বিক স্বাস্থ্য রক্ষা করা সম্ভব নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভিন্ন শ্রেণির খাদ্যের সমাবেশকে 'সুষম খাদ্য' (Balanced Diet) বা খাদ্যের মৌলিক দলসমূহের সমন্বয়ে গঠিত খাদ্যতালিকা বলা হয়।

    যে খাদ্যে প্রধান ছয়টি পুষ্টি উপাদান নির্দিষ্ট অনুপাতে এবং শরীরের প্রয়োজনীয় ক্যালরি ও চাহিদা অনুযায়ী উপস্থিত থাকে, তাকে সুষম খাদ্য বলে। কোনো একটি খাদ্যদল থেকে শরীরের সব চাহিদা মেটানো যায় না। তাই প্রতিটি মৌলিক খাদ্য শ্রেণি (যেমন- শস্যজাতীয় খাদ্য, শাকসবজি ও ফলমূল, মাছ-মাংস-ডিম-ডাল, দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য এবং তেল-চর্বি) থেকে পরিমাণমতো খাদ্য বেছে নিয়ে খাদ্যতালিকা প্রস্তুত করলে তা দেহে শক্তির জোগান দেয়, দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপনের জন্য সঠিক আহার পরিকল্পনা করা অপরিহার্য। উদ্দীপকে রিতার মতে আহার পরিকল্পনায় যে বিষয়গুলো অনুসরণ করা জরুরি, সেগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বয়স: বয়সের পার্থক্যে পুষ্টির চাহিদা ভিন্ন হয়। যেমন- ক্রমবর্ধমান শিশুর জন্য প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম বেশি দরকার, পক্ষান্তরে বৃদ্ধদের সহজে পরিপাকযোগ্য ও কম ক্যালরিযুক্ত খাদ্যের প্রয়োজন।
    ২. লিঙ্গভেদ: পেশিবহুল গঠন ও শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে পুরুষের শক্তি বা ক্যালরির চাহিদা বেশি থাকে। অন্যদিকে নারীদের বিশেষ শারীরবৃত্তীয় অবস্থায় (যেমন- গর্ভকালীন ও স্তন্যদানকালীন) আয়রন, ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের বাড়তি চাহিদা থাকে।
    ৩. পরিশ্রমের প্রকৃতি: শারীরিক পরিশ্রমের ধরনের ওপর ক্যালরির চাহিদা নির্ভর করে। একজন অধিক পরিশ্রমী শ্রমিকের দেহে অলস বা হালকা পরিশ্রমে নিয়োজিত ব্যক্তির চেয়ে অনেক বেশি শক্তিদায়ী খাদ্য প্রয়োজন।
    ৪. ঋতু বা আবহাওয়া: শীতকালে শরীরকে উষ্ণ রাখতে বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়, আবার গ্রীষ্মকালে পানির শূন্যতা পূরণে রসালো ফল ও তরল খাবারের চাহিদা বাড়ে।
    ৫. পারিবারিক বাজেট ও খাদ্যাভ্যাস: আহার পরিকল্পনায় পরিবারের অর্থনৈতিক সামর্থ্য, খাদ্যের প্রাপ্যতা এবং সদস্যদের পছন্দ-অপছন্দ বিবেচনায় রাখা উচিত যাতে কম খরচে পুষ্টিকর খাদ্যের সংস্থান হয়।

    সুতরাং, উল্লিখিত বিষয়গুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করে আহার পরিকল্পনা করলে তা পরিবারের প্রতিটি সদস্যের পুষ্টিচাহিদা পূরণ করে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন