জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২১

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

অ্যানজাইনা, হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিওর হলো করোনারি হৃদরোগ। অসুস্থ হৃৎপিণ্ডে স্বাভাবিক স্পন্দন হার ফিরিয়ে আনার জন্য দেহে কম্পিউটারাইজড বৈদ্যুতিক যন্ত্র স্থাপন করা হয়।

  1. ক)

    করোনারি সংবহন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    লিঙ্গ জড়িত জটিলতা বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত রোগগুলোর লক্ষণ বর্ণনা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    উল্লিখিত বৈদ্যুতিক যন্ত্র উক্ত অসুস্থ অঙ্গকে নজরদারির মধ্যে রাখে- বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হৃৎপিণ্ডের নিজস্ব প্রাচীর বা মায়োকার্ডিয়ামে রক্ত সরবরাহ এবং সেখান থেকে রক্ত হৃৎপিণ্ডের অলিন্দে ফিরিয়ে আনার রক্তসংবহন পদ্ধতিকে করোনারি সংবহন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সেক্স ক্রোমোজোমে (সাধারণত X ক্রোমোজোমে) অবস্থিত জিনের মিউটেশন বা ত্রুটির কারণে যেসব বংশগত অস্বাভাবিকতা বা রোগ সৃষ্টি হয় এবং বংশপরম্পরায় নির্দিষ্ট লিঙ্গে বিশেষভাবে সঞ্চারিত হয়, সেগুলোকে সেক্স-লিংকড ডিসঅর্ডার বা লিঙ্গ জড়িত জটিলতা বলে। যেমন- বর্ণান্ধতা (কালার ব্লাইন্ডনেস), হিমোফিলিয়া এবং ডুশেন মাসকুলার ডিস্ট্রফি। এ ধরনের বৈশিষ্ট্যের অ্যালিলগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রচ্ছন্ন হওয়ায় হোমোজাইগাস স্ত্রী বা হেমিজাইগাস পুরুষের মধ্যে তা বেশি প্রকাশ পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত রোগগুলো হলো অ্যানজাইনা, হার্ট অ্যাটাক এবং হার্ট ফেইলিওর। এগুলোর লক্ষণ নিচে বর্ণনা করা হলো:

    ১. অ্যানজাইনা (Angina Pectoris):

    • স্টার্নামের পেছনে বা বুকের মধ্যভাগে তীব্র চাপ, পিষে ফেলার মতো ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হওয়া।
    • এই ব্যথা সাধারণত কাঁধ, বাম বাহু, গলা, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
    • শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ ইত্যাদিতে ব্যথার তীব্রতা বৃদ্ধি পায় এবং বিশ্রাম নিলে বা নাইট্রেট জাতীয় ওষুধ ব্যবহারে উপশম হয়। এর সাথে শ্বাসকষ্ট, ঘাম ও বমি বমি ভাব হতে পারে।

    ২. হার্ট অ্যাটাক (Myocardial Infarction):

    • বুকের মাঝখানে অত্যন্ত তীব্র ও মারাত্মক ব্যথা, যা ৩০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় এবং বিশ্রাম বা ওষুধে সারে না।
    • ব্যথার সাথে প্রচুর ঠাণ্ডা ঘাম হওয়া, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা অত্যন্ত দুর্বল বোধ করা।
    • তীব্র শ্বাসকষ্ট, অস্থিরতা এবং মৃত্যুর ভয় বা আতঙ্ক তৈরি হওয়া।

    ৩. হার্ট ফেইলিওর (Heart Failure):

    • সামান্য পরিশ্রমে বা শোয়া অবস্থায় তীব্র শ্বাসকষ্ট হওয়া (ডিসপনিয়া)।
    • দেহে তরল জমে যাওয়ার কারণে হাত, পা, পায়ের গোড়ালি ও পেটে পানি আসা বা ফুলে যাওয়া (এডিমা)।
    • সার্বক্ষণিক ক্লান্তি, দুর্বলতা, ক্ষুধা হ্রাস পাওয়া এবং একটানা কাশি বা সাঁসাঁ শব্দসহ কফ বের হওয়া।
  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বৈদ্যুতিক যন্ত্রটি হলো কৃত্রিম পেসমেকার (Pacemaker), যা অসুস্থ হৃৎপিণ্ডের ছন্দ বা স্পন্দন হার স্বাভাবিক রাখতে দেহে স্থাপন করা হয়। এটি হৃৎপিণ্ডকে নজরদারির মধ্যে রাখে—নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সার্বক্ষণিক সংবেদন ও পর্যবেক্ষণ (Sensing): পেসমেকারের লিথিয়াম ব্যাটারি, কম্পিউটারাইজড মাইক্রোপ্রোসেসরযুক্ত জেনারেটর এবং তারযুক্ত সেন্সর বা ইলেকট্রোড হৃৎপিণ্ডের প্রাচীরে যুক্ত থাকে। এই সেন্সরগুলো সার্বক্ষণিকভাবে হৃৎপিণ্ডের নিজস্ব প্রাকৃতিক বৈদ্যুতিক সংকেত এবং সংকোচন-প্রসারণের ছন্দকে নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ (sense) করে।

    ২. স্পন্দন হারের বিচ্যুতি শনাক্তকরণ: হৃৎপিণ্ডের প্রাকৃতিক পেসমেকার (SA নোড) বা সংবহন কলা যদি অসুস্থতার কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে, বন্ধ হয়ে যায় কিংবা অনিয়মিত বা অস্বাভাবিক ধীরগতিতে স্পন্দিত হয় (যেমন- ব্র্যাডিকার্ডিয়া বা হার্ট ব্লক), তখন যন্ত্রটি তাৎক্ষণিকভাবে সেই ত্রুটি শনাক্ত করে।

    ৩. স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা প্রদান (Pacing): যখনই হৃদস্পন্দন নির্ধারিত স্বাভাবিক সীমার নিচে নেমে যায় বা কোনো স্পন্দন বাদ পড়ে, তখন পেসমেকারের সার্কিট অবিলম্বে ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক তরঙ্গ পাঠিয়ে মায়োকার্ডিয়ামকে উদ্দীপিত করে এবং সঠিক ছন্দ ফিরিয়ে আনে।

    ৪. চাহিদামাফিক নিয়ন্ত্রণ (Demand/Rate-responsive Pacemaker): আধুনিক পেসমেকারগুলো শারীরিক কার্যক্রম, রক্তচাপ ও চলাফেরার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করে। বিশ্রামের সময় এটি হৃদস্পন্দন কম রাখে এবং পরিশ্রমের সময় হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি করে রক্তপ্রবাহ বজায় রাখে।

    সুতরাং, পেসমেকার সার্বক্ষণিকভাবে হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ ও স্পন্দন পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজনমতো উদ্দীপনা দিয়ে হৃৎপিণ্ডকে স্বাভাবিক কার্যক্রমে সচল ও নজরদারির মধ্যে রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন