ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে কে 'অসহযোগ আন্দোলন' এর ডাক দেন?

    (1)
  2. খ)

    ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের কারণ সংক্ষেপে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের চিত্রটি কোন ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উত্ত ঐতিহাসিক ঘটনার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'অসহযোগ আন্দোলন'-এর ডাক দেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের প্রধান কারণ ছিল বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ। পাকিস্তান রাষ্ট্রের দীর্ঘ চব্বিশ বছরের রাজনৈতিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে বাঙালি জনগণ ছয় দফাকে নিজেদের মুক্তির সনদ হিসেবে গ্রহণ করে। এছাড়া আওয়ামী লীগের সুসংগঠিত নেতৃত্ব এবং ১৯৭০ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চরম অবহেলার বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ব্যালটের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রটি ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের সাক্ষী।

    ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে এবং ১ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করে। এর প্রতিবাদে পূর্ব বাংলায় তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে লাখ লাখ জনতার সমাবেশে বঙ্গবন্ধু এক ঐতিহাসিক ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু লক্ষ লক্ষ মুক্তিকামী জনতার উদ্দেশ্যে হাত তুলে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, যা মূলত ৭ই মার্চের ভাষণেরই দৃশ্য। এ ভাষণে তিনি বাঙালির সার্বিক মুক্তির রূপরেখা তুলে ধরেন এবং ঘোষণা করেন, "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।"

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত ঐতিহাসিক ঘটনাটি হলো ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, যার তাৎপর্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অপরিসীম।

    প্রথমত, এই ভাষণ ছিল কার্যত বাংলাদেশের স্বাধীনতার অপ্রকাশ্য অথচ সুস্পষ্ট ঘোষণা। বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁর "তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো" এবং "ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো" আহ্বান জাতিকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে তৈরি করে।

    দ্বিতীয়ত, এ ভাষণের পর পূর্ব বাংলায় পাকিস্তানি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কার্যত ভেঙে পড়ে এবং বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই দেশ পরিচালিত হতে থাকে। এটি ছিল এক অনন্য গণ-অসহযোগ আন্দোলনের সূচনা।

    তৃতীয়ত, এই ভাষণ বাঙালি জাতিকে একতাবদ্ধ করে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্দীপ্ত করেছিল। পরবর্তীতে ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরীহ বাঙালির ওপর গণহত্যা চালালে জাতি বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণের প্রেরণাতেই বীরদর্পে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

    আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অসাধারণ। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে 'বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য' (Memory of the World International Register) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

    সুতরাং বলা যায়, ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণই ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মূল চালিকাশক্তি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন