ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

মি X, মি Y ও মি Z একটি অংশীদারি ব্যবসারের সদস্য। মি. X ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করেন ও ব্যবসায় পরিচালনায় ও অংশগ্রহণ করেন। মি. Y মূলধন বিনিয়োগ করেন কিন্তু পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেন না। মি. Z মূলধন বিনিয়োগ করেন না আবার পরিচালনায় ও অংশগ্রহণ করেন না, তবে ব্যবসায়ে তার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। হঠাৎ করে মি. X মস্তিষ্ক বিকৃতির কারণে কর্তব্য পালনে স্থায়িভাবে অসমর্থ হন।

  1. ক)

    অংশীদারি চুক্তিপত্র কি?

    (1)
  2. খ)

    নাবালক অংশীদার হতে পারে না কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    মি. Z কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অংশীদারি ব্যবসায়টি টিকে থাকার সম্ভাবনা কতটুকু? যুক্তিসহ ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অংশীদারদের মধ্যকার পারস্পরিক চুক্তি বা সমঝোতার লিখিত দলিলকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চুক্তি সম্পাদনের আইনগত যোগ্যতা না থাকার কারণে নাবালক কোনো অংশীদারি ব্যবসায়ে পূর্ণাঙ্গ অংশীদার হতে পারে না।

    চুক্তি আইন ১৮৭২ অনুযায়ী, নাবালক (১৮ বছরের কম বয়সী ব্যক্তি) চুক্তি করার অযোগ্য। আর চুক্তি হলো অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি। তবে ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৩০ ধারা অনুযায়ী, সকল অংশীদারের সম্মতিতে নাবালককে কেবল ব্যবসায়ের মুনাফার সুবিধার্থে বা অংশীদারিত্বের সুবিধার অংশ হিসেবে গ্রহণ করা যায়, কিন্তু সে কখনো ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হয় না এবং সাধারণ অংশীদার হিসেবে গণ্য হয় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মি. Z হলেন একজন 'নামমাত্র অংশীদার' (Nominal Partner)।

    যে ব্যক্তি ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করে না এবং ব্যবসায়ের পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে না, কিন্তু চুক্তির শর্তানুযায়ী বা সুনামের বিনিময়ে নিজের নাম বা সুনাম ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তাকে নামমাত্র অংশীদার বলা হয়। তবে তৃতীয় পক্ষের নিকট তিনি নিজেকে অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করলে বা সম্মতি দিলে সাধারণ অংশীদারের মতোই দায়বদ্ধ হন।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. Z অংশীদারি ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করেননি এবং পরিচালনায়ও অংশ নেন না। তবে ব্যবসায়ে তাঁর যথেষ্ট সুনাম রয়েছে এবং ব্যবসায়টিতে তাঁর সুনাম বা পরিচিতি ব্যবহৃত হচ্ছে। অংশীদারি ব্যবসায়ের প্রকৃতি অনুযায়ী এ ধরনের অংশীদারকে নামমাত্র অংশীদার বলা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অংশীদারি ব্যবসায়টি টিকে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ; বরং আদালত কর্তৃক বা অংশীদারদের সিদ্ধান্তে ব্যবসায়টি বিলোপসাধনের মুখে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি।

    ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৪৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো অংশীদার মস্তিষ্ক বিকৃত হলে বা স্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে যেকোনো অংশীদার আদালতে আবেদন করে ব্যবসায়ের বিলোপসাধন ঘটাতে পারেন। এছাড়া কোনো অংশীদারি ব্যবসায় অংশীদারের সংখ্যা সর্বনিম্ন দুজন হতে হয়।

    উদ্দীপকে অংশীদার ছিলেন তিনজন—মি. X, মি. Y ও মি. Z। মি. X মস্তিষ্ক বিকৃতির কারণে স্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়ে পড়েছেন এবং তিনিই একমাত্র সক্রিয় পরিচালক ছিলেন। অন্যদিকে মি. Y নিষ্ক্রিয় বা ঘুমন্ত অংশীদার (পরিচালনায় অংশ নেন না) এবং মি. Z নামমাত্র অংশীদার (মূলধন ও পরিচালনাবিহীন)। এখন মি. X অসুস্থ হওয়ায় ব্যবসায়ের সক্রিয় পরিচালনা বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া অবশিষ্ট অংশীদারদের মধ্যে পরিচালনা ও মূলধনের যে ভারসাম্য দরকার, তা অনুপস্থিত। এমন পরিস্থিতিতে অংশীদারগণ নিজেরা একমত হয়ে কিংবা ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৪৪(ক) ধারা অনুসারে আদালতের মাধ্যমে ব্যবসায়টি বিলোপ করতে পারেন। সুতরাং, ব্যবসায়টি কার্যকরভাবে টিকে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন