বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
রহিম উদ্দীন মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে অনেক টাকা উপার্জন করেন। এলাকায় তাঁর দানে রাস্তা, সেতু, মসজিদ, মন্দির নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু তাঁর মনে সুখ নেই। তিনি নিঃসন্তান। অনেকেই তাঁকে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য পরামর্শ দেন। কিন্তু তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেননি।
- ক)(1)
'লালসালু' কোন ধরনের উপন্যাস?
- খ)(2)
“গ্রামের লোকেরা যেন রহিমারই অন্য সংস্করণ।”—ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের রহিম উদ্দীনের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারী চরিত্রের কতটুকু মিল ও অমিল আছে বলে তুমি মনে কর? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকে প্রতিফলিত ইতিবাচক জীবন-চেতনা ‘লালসালু' উপন্যাসে অনুপস্থিত।”—উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'লালসালু' একটি সামাজিক সমস্যাপ্রধান ও মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রহিমার মতোই গ্রামের সব মানুষ মজিদের অলৌকিক ক্ষমতা ও মাজারের প্রতি অন্ধবিশ্বাসী এবং গভীরভাবে অনুগত ছিল বলে তাদের রহিমার 'অন্য সংস্করণ' বলা হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে রহিমা যেমন মজিদকে একাধারে ভক্তি ও ভয় করত এবং তার আদেশকে প্রশ্নাতীতভাবে মেনে চলত, মহব্বতনগর গ্রামের সাধারণ মানুষের মনোভাবও ছিল ঠিক একই রকম। গ্রামের লোকেরাও মজিদের প্রতি সংশয়হীন বিশ্বাস এবং ভয়ের শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিল, যা রহিমার অন্ধ আনুগত্যের অনুরূপ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রহিম উদ্দীনের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারী চরিত্রের আংশিক মিল থাকলেও দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণে গভীর অমিল রয়েছে।
মিল: রহিম উদ্দীন ও খালেক ব্যাপারী উভয়ই সমাজের প্রভাবশালী ও ধনী ব্যক্তি। দুজনের জীবনেই একটি বড় সংকট বা শূন্যতা হলো নিঃসন্তান হওয়া। এই পারিবারিক সমস্যায় দুজনের জীবনেই কিছুটা অতৃপ্তি বা দুঃখ বিদ্যমান ছিল।
অমিল: খালেক ব্যাপারী ছিল স্বার্থপর, কুসংস্কারাচ্ছন্ন এবং মজিদের ধর্মের হাতিয়ার দ্বারা পরিচালিত। নিঃসন্তান হওয়ার কারণে মজিদের প্ররোচনায় সে তার প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবিকে তালাক দেয়। অন্যদিকে, রহিম উদ্দীন জনকল্যাণমূলক কাজে অর্থ ব্যয় করেন এবং সমাজের মানুষ পরামর্শ দেওয়া সত্ত্বেও স্ত্রীকে ভালোবেসে দ্বিতীয় বিয়ে করেননি। রহিম উদ্দীনের মধ্যে যে নৈতিক দৃঢ়তা ও মানবিকতা রয়েছে, খালেক ব্যাপারীর চরিত্রে তা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকে প্রতিফলিত ইতিবাচক জীবন-চেতনা ‘লালসালু’ উপন্যাসে অনুপস্থিত”—উক্তিটি সামগ্রিক পর্যালোচনার প্রেক্ষিতে অত্যন্ত যথার্থ।
উদ্দীপকের রহিম উদ্দীন মধ্যপ্রাচ্যে উপার্জিত অর্থ নিজের ভোগবিলাসে না রেখে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে রাস্তা, সেতু, মসজিদ ও মন্দির নির্মাণে দান করেন, যা অসাম্প্রদায়িক ও পরোপকারী মনোভাবের প্রকাশ। নিঃসন্তান হওয়া সত্ত্বেও স্ত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত থেকে দ্বিতীয় বিয়ে না করা তাঁর ইতিবাচক ও মানবিক জীবনদর্শনের সাক্ষ্য দেয়।
বিপরীতে, 'লালসালু' উপন্যাসে ধর্মীয় ভণ্ডামি, অন্ধবিশ্বাস, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নারীদের ওপর নিপীড়নের এক অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজচিত্র ফুটে উঠেছে। সেখানে মাতব্বর খালেক ব্যাপারী নিঃস্বার্থ সমাজসেবা না করে মজিদের কূটকৌশলের দোসর হয়েছে এবং সন্তানের প্রত্যাশায় প্রথম স্ত্রী আমেনাকে নির্মমভাবে পরিত্যাগ করেছে। পুরো উপন্যাসে শোষণ ও ভয়ের রাজত্ব বিদ্যমান, যেখানে রহিম উদ্দীনের মতো নিঃস্বার্থ মানবপ্রেম বা সম্প্রীতির প্রকাশ নেই।
সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকে যেখানে নৈতিকতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও দায়িত্বশীল ইতিবাচক জীবন-চেতনা প্রকাশিত হয়েছে, 'লালসালু' উপন্যাসের সমাজব্যবস্থায় তা অনুপস্থিত। তাই উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও