অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
রাজিব শীতের ছুটিতে নানাবাড়ি বেড়াতে গেলো। সেখানে সে লক্ষ করলো নাজমা বেগম ও তার দুই মেয়ে বাড়িতে বাঁশ ও বেত দিয়ে বিভিন্ন দ্রব্য তৈরি করেন। তাদের উৎপাদিত দ্রব্যসামগ্রী শহরের বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করেন। এতে নাজমা বেগমের পরিবারের আয় ও সচ্ছলতা বাড়ছে। স্বল্প পুঁজি, স্থানীয় কাঁচামাল ও কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ না লাগার কারণে গ্রামের অনেক মহিলা এই কাজে এগিয়ে আসছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
- ক)(1)
শিল্প কী?
- খ)(2)
পাট শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা উজ্জ্বল- বুঝিয়ে বলো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে নাজমা বেগমের কার্যক্রমের সাথে সম্পর্কিত শিল্পের বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের নির্দেশিত শিল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কী ভূমিকা রাখছে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণত ব্যাপক মূলধন, উন্নত প্রযুক্তি ও বহুসংখ্যক শ্রমিকের সমন্বয়ে কারখানাভিত্তিক ব্যবস্থায় কাঁচামালকে প্রক্রিয়াজাত করে চূড়ান্ত ভোগ্যপণ্য বা মাধ্যমিক দ্রব্যে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে শিল্প বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃত্রিম পলিথিন ও প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ও পচনশীল প্রাকৃতিক তন্তু পাটের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে বহুমুখী পাটজাত পণ্য যেমন—ব্যাগ, জুতা, পোশাক, গৃহসজ্জা সামগ্রী ইত্যাদির বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাই কাঁচামালের সহজলভ্যতা ও আন্তর্জাতিক চাহিদার কারণে বাংলাদেশের পাট শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নাজমা বেগমের কার্যক্রমটি 'কুটির শিল্প'-এর অন্তর্ভুক্ত।
যে শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রধানত পরিবারের সদস্যদের শ্রমের ওপর ভিত্তি করে স্বল্প পুঁজি ও সাধারণ যন্ত্রপাতির সাহায্যে স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে গৃহে পরিচালিত হয়, তাকে কুটির শিল্প বলে। জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী, কুটির শিল্পে পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্যসহ সর্বোচ্চ জনবল ১৫ জনের নিচে থাকে এবং জমি ও কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, নাজমা বেগম ও তাঁর দুই মেয়ে নিজেদের বাড়িতে বাঁশ ও বেত দিয়ে বিভিন্ন দ্রব্য তৈরি করেন। এতে স্বল্প পুঁজি লাগে, স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহৃত হয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পূর্ণভাবে কুটির শিল্পের সাথে মিলে যায়। সুতরাং, নাজমা বেগমের এই উদ্যোগটি একটি ঐতিহ্যবাহী ও আত্মকর্মসংস্থানমূলক কুটির শিল্প।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের নির্দেশিত শিল্পটি হলো 'কুটির শিল্প'। বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে কুটির শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রথমত, বাংলাদেশ একটি শ্রমঘন ও জনবহুল দেশ, যেখানে বেকারত্ব ও ছদ্মবেশী বেকারত্ব একটি বড় সমস্যা। কুটির শিল্প স্বল্প মূলধনে বিশাল জনগোষ্ঠীর, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। উদ্দীপকেও দেখা যায়, স্থানীয় কাঁচামাল ও স্বল্প পুঁজিতে গ্রামের অনেক নারী এই কাজে সম্পৃক্ত হয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, এটি পারিবারিক আয় বৃদ্ধি করে দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহায়তা করে। নাজমা বেগমের পরিবারের মতো প্রান্তিক পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা আসার মাধ্যমে সামগ্রিক সঞ্চয় ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি পায়।
তৃতীয়ত, কুটির শিল্প স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদ ও কাঁচামালের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করে। এছাড়া বাঁশ-বেতের মতো তৈরি কুটির শিল্পজাত পণ্য শহরের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করেও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
অতএব, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে উদ্দীপকে নির্দেশিত কুটির শিল্পের অবদান অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও