জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
রক্তের মধ্যে এক বিশেষ ধরনের রঞ্জক পদার্থ থাকে যা অক্সিজেন পরিবহণে ভূমিকা পালন করে। এছাড়া আমাদের প্রশ্বাস কার্যক্রমটি মস্তিষ্কের মেডুলা অবলংগ্যাটার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় ।
- ক)(1)
সাইনোসাইটিস কী?
- খ)(2)
যকৃতকে জৈব রসায়নাগার বলা হয় কেন?
- গ)(3)
রঞ্জক পদার্থটির কাজ উদ্দীপকের সাপেক্ষে ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের বর্ণিত হয় কার্যক্রমটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নাসাগহ্বরের চারপাশের প্যারানাসাল সাইনাসের মিউকাস পর্দার প্রদাহকে সাইনোসাইটিস বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যকৃতে বিভিন্ন প্রকার বিপাকীয় বিক্রিয়া (যেমন- কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, লিপিড বিপাক), গ্লাইকোজেন, ভিটামিন ও লৌহ সঞ্চয় এবং বিষাক্ত পদার্থকে ভেঙে অবিষাক্ত করার মতো অসংখ্য রাসায়নিক প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে সংঘটিত হয়। মানবদেহের অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় যকৃতে সর্বাধিক জৈবরাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় বলে যকৃতকে মানবদেহের 'জৈব রসায়নাগার' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত রক্তের রঞ্জক পদার্থটি হলো লোহিত রক্তকণিকায় অবস্থিত 'হিমোগ্লোবিন'। নিচে উদ্দীপকের সাপেক্ষে এর ভূমিকা ও কাজ ব্যাখ্যা করা হলো:
১. অক্সিজেন পরিবহন: হিমোগ্লোবিনের অন্যতম প্রধান কাজ হলো ফুসফুস থেকে দেহকোষে অক্সিজেন পরিবহন করা। হিমোগ্লোবিনের লৌহঘটিত অংশ (হিম) অক্সিজেনের সাথে অস্থায়ী ও শিথিল বন্ধনে যুক্ত হয়ে উজ্জ্বল লাল বর্ণের 'অক্সিজেন-হিমোগ্লোবিন যৌগ' বা 'অক্সিহিমোগ্লোবিন' গঠন করে:
Hb + 4O₂ ⇌ Hb(O₂)₄
রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে এই অক্সিহিমোগ্লোবিন দেহকোষ ও কলাপ্রান্তে পৌঁছায়, যেখানে অক্সিজেনের আংশিক চাপ কম থাকায় এটি সহজেই বিয়োজিত হয়ে মুক্ত অক্সিজেন কোষে সরবরাহ করে। রক্তের মাধ্যমে মোট পরিবাহিত অক্সিজেনের প্রায় ৯৮% হিমোগ্লোবিনের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।২. কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহন: দেহকোষে বিপাকীয় কার্যাবলীর ফলে উৎপন্ন CO₂-এর প্রায় ২৭% হিমোগ্লোবিনের গ্লোবিন অংশের সাথে যুক্ত হয়ে 'কার্বামিনো-হিমোগ্লোবিন' যৌগ গঠন করে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়।
৩. বাফার হিসেবে কাজ: রক্তরসের pH-এর সমতা রক্ষায় হিমোগ্লোবিন অম্ল-ক্ষারক বাফার হিসেবে কাজ করে রক্তের অম্লত্ব বা ক্ষারত্ব নির্দিষ্ট মাত্রায় বজায় রাখে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত কার্যক্রমটি হলো মস্তিষ্কের মেডুলা অবলংগাটা দ্বারা মানুষের প্রশ্বাস (বা শ্বাসক্রিয়া) নিয়ন্ত্রণের স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।
শ্বাসক্রিয়া মূলত একটি অনৈচ্ছিক প্রক্রিয়া, যা মস্তিষ্কের শ্বাসকেন্দ্র দ্বারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। মস্তিষ্কের পশ্চাৎভাগে অবস্থিত মেডুলা অবলংগাটা ও পনসে প্রধান চারটি শ্বাসকেন্দ্র থাকে। মেডুলা অবলংগাটায় অবস্থিত কেন্দ্র দুটি হলো:
ক) প্রশ্বাস কেন্দ্র (Inspiratory center): এটি মেডুলার অঙ্কীয়দেশে অবস্থিত।
খ) নিঃশ্বাস কেন্দ্র (Expiratory center): এটি মেডুলার পৃষ্ঠীয়দেশে অবস্থিত।প্রশ্বাস কার্যক্রমের স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া:
১. উদ্দীপনা সৃষ্টি: মেডুলার প্রশ্বাস কেন্দ্র থেকে স্বাভাবিক ছন্দে উদ্দীপনা তৈরি হয়। এই কেন্দ্রটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্নায়ু-আবেগ উৎপন্ন করে।
২. স্নায়ুর মাধ্যমে সংকেত প্রেরণ: প্রশ্বাস কেন্দ্র থেকে স্নায়ু-উদ্দীপনা ফ্রেনিক স্নায়ুর (Phrenic nerve) মাধ্যমে মধ্যচ্ছদা বা ডায়াফ্রামে এবং ইন্টারকোস্টাল স্নায়ুর (Intercostal nerve) মাধ্যমে পাঁজরের ইন্টারকোস্টাল পেশিতে পৌঁছায়।
৩. পেশির সংকোচন ও বক্ষগহ্বরের প্রসারণ: এই স্নায়ু উদ্দীপনার ফলে ডায়াফ্রাম সংকুচিত হয়ে নিচের দিকে নেমে সমতল হয় এবং বহিস্থ ইন্টারকোস্টাল পেশি সংকুচিত হয়ে পাঁজরগুলোকে ওপরের ও বাইরের দিকে টেনে তোলে। ফলে বক্ষগহ্বরের আয়তন সবদিক থেকেই বৃদ্ধি পায়।
৪. বায়ুর প্রবেশ: বক্ষগহ্বরের প্রসারণের সাথে সাথে ফুসফুসও প্রসারিত হয়, যার ফলে ফুসফুসের অভ্যন্তরীণ বায়ুর চাপ বায়ুমণ্ডলীয় চাপের তুলনায় কমে যায়। তখন চাপের সমতা বজায় রাখতে নাসারন্ধ্র ও শ্বাসনালির মধ্য দিয়ে বাইরের অক্সিজেনযুক্ত বায়ু দ্রুত ফুসফুসে প্রবেশ করে। এভাবেই প্রশ্বাস সম্পন্ন হয়।একই সাথে হিয়ারিং-ব্রুয়ের (Hering-Breuer) প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মাধ্যমে ফুসফুস অতিরিক্ত প্রসারিত হলে ফুসফুসের প্রাচীরের প্রসারণ গ্রাহক থেকে ভেগাস স্নায়ু দ্বারা উদ্দীপনা মেডুলায় গিয়ে প্রশ্বাস কেন্দ্রকে বাধাগ্রস্ত করে, যার ফলে প্রশ্বাস সমাপ্ত হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিঃশ্বাস শুরু হয়। এভাবে মেডুলা অবলংগাটা প্রশ্বাস ও সামগ্রিক শ্বাসক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও