পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব 'ক' একটি সাংবিধানিক সংস্থার প্রধান। তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা হিসেবে আদালতে সরকারের বক্তব্য তুলে ধরেন। জনাব 'খ' রাষ্ট্রের সরকারি হিসাব নিরীক্ষা করার জন্য সাংবিধানিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত।
- ক)(1)
সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্যদের কার্যকাল কত বছর?
- খ)(2)
সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যানকে কীভাবে অপসারণ করা যায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'ক' বাংলাদেশের কোন সাংবিধানিক সংস্থাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'খ'-এর কার্যাবলির গুরুত্ব মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্যদের কার্যকাল ৫ (পাঁচ) বছর অথবা তাঁর ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত (যেটি আগে ঘটে)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশ সংবিধানের ১৩৯(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারক যেভাবে অপসারিত হতে পারেন, কেবল সেই পদ্ধতি ও কারণে সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান বা সদস্যদের অপসারণ করা যায়। অর্থাৎ, অসদাচরণ বা শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে সংবিধান নির্ধারিত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বা সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির আদেশে তাঁকে অপসারণ করা যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'ক' বাংলাদেশের সাংবিধানিক পদ 'অ্যাটর্নি জেনারেল' বা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়কে নির্দেশ করে।
বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা। উদ্দীপকে উল্লিখিত হয়েছে যে, জনাব 'ক' একটি সাংবিধানিক পদের অধিকারী এবং তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা হিসেবে আদালতে সরকারের বক্তব্য তুলে ধরেন। সংবিধান অনুযায়ী অ্যাটর্নি জেনারেল সরকারের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টসহ যেকোনো আদালতে মামলা পরিচালনা করেন এবং সরকারকে প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শ প্রদান করেন। তিনি রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী পদে বহাল থাকেন। সুতরাং, উদ্দীপকের বক্তব্যটি সুস্পষ্টভাবে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ ও দায়িত্বকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'খ' হলেন বাংলাদেশের 'মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক' (Comptroller and Auditor General বা CAG)। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ও রাষ্ট্রীয় আর্থিক শৃঙ্খলায় তাঁর কার্যাবলির গুরুত্ব অপরিসীম।
সংবিধানের ১২৭ ও ১২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব নির্ধারিত রয়েছে। তাঁর মূল কাজ রাষ্ট্রের সরকারি হিসাবের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিয়মানুবর্তিতা নিশ্চিত করা। নিচে তাঁর কার্যাবলির গুরুত্ব আলোচনা করা হলো:
১. আর্থিক জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ: সরকারের সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর এবং স্বায়ত্তশাসিত বা সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব পুঙ্খানুপুঙ্খ নিরীক্ষা করা তাঁর প্রধান দায়িত্ব। এর ফলে জনগণের করের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
২. সংসদীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা: তিনি সরকারি আয়-ব্যয় নিরীক্ষা করে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতিবেদন পেশ করেন এবং রাষ্ট্রপতি তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করেন। সংসদের সরকারি হিসাব কমিটি (Public Accounts Committee) এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকারের আর্থিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখে, যা আইনসভার কাছে প্রশাসনের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করে।
৩. দুর্নীতি প্রতিরোধ ও অপচয় রোধ: তাঁর নিরপেক্ষ নিরীক্ষার মাধ্যমে আর্থিক অনিয়ম, অপচয় ও দুর্নীতির তথ্য উন্মোচিত হয়, যা আর্থিক সুশাসন বজায় রাখতে অপরিহার্য।সুতরাং, জাতীয় রাজস্বের অভিভাবক হিসেবে সরকারের আর্থিক স্বচ্ছতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও