জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    qRh ফ্যাক্টর কী?

    (1)
  2. খ)

    সমসংস্থ অঙ্গ বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে F2F_2 জনু চেকার বোর্ডের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ঘটনাটি মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের ব্যতিক্রম— বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    Rh ফ্যাক্টর হলো রেসাস বানরের (Rhesus macaque) লোহিত রক্তকণিকার ঝিল্লিতে উপস্থিত এক ধরনের বিশেষ অ্যাগ্লুটিনোজেন (অ্যান্টিজেন), যা মানুষের রক্তেও বিদ্যমান থাকতে পারে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব অঙ্গ উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ কাঠামোর দিক থেকে এক বা অভিন্ন, কিন্তু বাহ্যিক রূপ এবং কাজের দিক থেকে ভিন্ন, সেগুলোকে সমসংস্থ অঙ্গ (Homologous organs) বলা হয়।
    যেমন— পাখির ডানা, তিমির ফ্লিপার, বাদুড়ের ডানা এবং মানুষের হাত। এদের প্রত্যেকের অভ্যন্তরীণ অস্থিবিন্যাস (হিউমেরাস, রেডিয়াস, আলনা, কার্পাল, মেটাকার্পাল ও ফ্যালাঞ্জেসবিন্যাস) একই ধরনের এবং এদের ভ্রূণীয় উৎপত্তিও এক, কিন্তু তারা যথাক্রমে ওড়া, সাঁতার কাটা, ওড়া এবং ধরার মতো ভিন্ন ভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সাদা লেগহর্ন এবং সাদা ওয়াইনডট মুরগির ক্রসের ঘটনাটি প্রকট এপিস্ট্যাসিস (Dominant Epistasis) নির্দেশ করে।

    ধরি,
    রঙিন পালকের জন্য দায়ী প্রকট জিন = C
    বর্ণহীন বা সাদার জন্য দায়ী প্রচ্ছন্ন জিন = c
    রঙিন বৈশিষ্ট্যের প্রকাশে বাধাদানকারী প্রকট এপিস্ট্যাটিক জিন = I
    অকার্যকর প্রচ্ছন্ন জিন = i

    সুতরাং,
    পুরুষ সাদা লেগহর্নের জিনোটাইপ = CCII
    স্ত্রী সাদা ওয়াইনডটের জিনোটাইপ = ccii

    তাদের ক্রস থেকে F1F_1 জনুর জিনোটাইপ পাওয়া যায় CcIi (ফেনোটাইপ: সাদা, কারণ I জিন C জিনের কার্যকারিতা বাধা দেয়)।

    F1F_1 জনুর নিজেদের মধ্যে ক্রস ঘটালে (CcIi×CcIiCcIi \times CcIi):
    উভয়ের থেকে ৪ ধরণের গ্যামিট উৎপন্ন হয়: CI, Ci, cI, ci।

    F2F_2 জনুর চেকারবোর্ড:

    গ্যামিটCICicIci
    CICCII (সাদা)CCIi (সাদা)CcII (সাদা)CcIi (সাদা)
    CiCCIi (সাদা)CCii (রঙিন)CcIi (সাদা)Ccii (রঙিন)
    cICcII (সাদা)CcIi (সাদা)ccII (সাদা)ccIi (সাদা)
    ciCcIi (সাদা)Ccii (রঙিন)ccIi (সাদা)ccii (সাদা)

    ফলাফল বিশ্লেষণ:
    এখানে যেখানে প্রকট I জিন উপস্থিত রয়েছে, সেখানে C জিনের উপস্থিতি সত্ত্বেও কোনো রং প্রকাশ পায় না অর্থাৎ সাদা হয়। আবার যেখানে I নেই কিন্তু C উপস্থিত (যেমন: CCii এবং Ccii), সেখানে পালকের বর্ণ রঙিন হয়। জিনোটাইপ ccii-তে কোনো রঙিন জিন না থাকায় এটিও সাদা হয়।

    অতএব, F2F_2 জনুর ফেনোটাইপিক অনুপাত:
    সাদা : রঙিন = ১৩ : ৩।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ক্রসটিতে সাদা লেগহর্ন ও সাদা ওয়াইনডটের মিলনে F1F_1 জনুতে সাদা পালকযুক্ত মুরগি পাওয়া যায় এবং F2F_2 জনুতে সাদা ও রঙিন মুরগির অনুপাত দাঁড়ায় ১৩:৩, যা মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের একটি সুস্পষ্ট ব্যতিক্রম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র বা স্বাধীন সঞ্চারণ সূত্রানুসারে, দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের মধ্যে সংকরায়ন ঘটালে F2F_2 জনুতে বৈশিষ্ট্যগুলোর অনুপাত ৯:৩:৩:১ হওয়ার কথা। কিন্তু উদ্দীপকের ক্ষেত্রে অনুপাতটি পরিবর্তিত হয়ে ১৩:৩ হয়েছে।

    এই ব্যতিক্রান্ত অনুপাতের কারণ হলো ‘প্রকট এপিস্ট্যাসিস’ (Dominant Epistasis)। যখন একটি প্রকট জিন অন্য একটি নন-অ্যালিলিক প্রকট জিনের প্রকাশে বাধা দেয়, তখন তাকে প্রকট এপিস্ট্যাসিস বলে। এখানে রঙিন পালক সৃষ্টির জন্য দায়ী প্রকট জিন C থাকা সত্ত্বেও অন্য একটি লোকাসের প্রকট এপিস্ট্যাটিক জিন I-এর উপস্থিতির কারণে C জিনটি তার বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করতে পারে না। ফলে যেসব ক্ষেত্রে I জিনটি প্রকট অবস্থায় থাকে (যেমন: C-I- এবং ccI-), পালকের বর্ণ সাদা হয়। কেবল যেখানে প্রকট জিন C থাকে কিন্তু দমনকারী জিন I থাকে না (অর্থাৎ C-ii জিনোটাইপ), সেখানে ৩টি রঙিন মুরগি সৃষ্টি হয়। আবার কোনো প্রকট C জিন না থাকলে (ccii) ১টি সাদা মুরগি উৎপন্ন হয়।

    এর ফলে সাধারণ ৯:৩:৩:১ অনুপাতের ৯টি (C-I-), ৩টি (ccI-) এবং ১টি (ccii) একত্রিত হয়ে মোট ১৩টি সাদা মুরগি এবং বাকি ৩টি (C-ii) রঙিন মুরগি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

    অতএব, দেখা যাচ্ছে যে এপিস্ট্যাটিক জিনের আন্তঃক্রিয়ার কারণে মেন্ডেলীয় অনুপাত ৯:৩:৩:১-এর পরিবর্তে ১৩:৩ অনুপাত পাওয়া যায়। সুতরাং উদ্দীপকের ঘটনাটি নিশ্চিতভাবেই মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের একটি অন্যতম ব্যতিক্রম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন