গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
ছক- 'A': উচ্চ ভলিউমে TV দেখা, এক প্রশ্নের অন্য উত্তর দেয়া, ইশারায় ভাব প্রকাশ করা।
ছক- 'B': বুদ্ধ্যঙ্ক ৭০৭০ এর কম, শিক্ষা গ্রহণে অক্ষমতা, আচরণগত সামঞ্জস্য বিধানের অভাব।
- ক)(1)
অটিজম কী?
- খ)(2)
সকল বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু প্রতিবন্ধী নয়— বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
ছক- 'A' এ কোন ধরনের প্রতিবন্ধিতাকে নির্দেশ করে? এর শ্রেণিবিভাগ করো।
- ঘ)(4)
ছক- 'A' এবং ছক- 'B' এর প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী শিক্ষাব্যবস্থার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অটিজম হলো শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশজনিত বা স্নায়বিক বিকাশগত একটি জটিল প্রতিবন্ধকতা, যার ফলে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয় এবং সামাজিক যোগাযোগ, ভাববিনিময় ও আচরণে অস্বাভাবিকতা প্রকাশ পায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু বলতে বোঝায় যাদের দৈহিক, মানসিক, বুদ্ধিভিত্তিক বা আচরণগত বৈশিষ্ট্য স্বাভাবিকের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে পৃথক, ফলে তাদের জন্য বিশেষ যত্ন বা শিক্ষার প্রয়োজন হয়।
প্রতিবন্ধী শিশুরা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর অন্তর্ভুক্ত হলেও অতি মেধাবী, সৃজনশীল কিংবা সাময়িক মানসিক সমস্যাগ্রস্ত শিশুরাও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন। কিন্তু তারা শারীরিকভাবে বা গঠনগতভাবে অকার্যকর বা প্রতিবন্ধী নয়। অর্থাৎ, সব প্রতিবন্ধী শিশুই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, কিন্তু সব বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু প্রতিবন্ধী নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছক- 'A' শ্রবণ প্রতিবন্ধিতাকে নির্দেশ করে। শ্রবণেন্দ্রিয় বা কানের কার্যক্ষমতা আংশিক বা সম্পূর্ণ নষ্ট হলে তাকে শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা বলা হয়।
শ্রবণমাত্রার তারতম্য বা তীব্রতা (ডেসিবল) অনুযায়ী শ্রবণ প্রতিবন্ধিতাকে সাধারণত চার ভাগে ভাগ করা যায়:
১. মৃদু শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (২৬ - ৪০ ডেসিবল): দূর থেকে বা অস্পষ্ট কথা শুনতে অসুবিধা হয়।
২. মাঝারি শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (৪১ - ৫৫ ডেসিবল): স্বাভাবিক কথোপকথন স্পষ্টভাবে শুনতে সমস্যা হয়।
৩. গুরুতর শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (৫৬ - ৭০ ডেসিবল): উচ্চৈঃস্বরে কথা না বললে শুনতে পায় না, সাধারণত শ্রবণযন্ত্রের প্রয়োজন হয়।
৪. চরম বা গভীর শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা (৭১ ডেসিবল বা তদূর্ধ্ব): স্বাভাবিক বা উচ্চ শব্দ শুনতেও অক্ষম হয়, এদের জন্য ইশারা ভাষা ও বিশেষ শিক্ষার প্রয়োজন হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ছক- 'A' শ্রবণ প্রতিবন্ধী এবং ছক- 'B' বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুকে নির্দেশ করে। এদের শিক্ষাব্যবস্থার তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের (ছক- 'A') শিক্ষাব্যবস্থা:
- এদের বুদ্ধি সাধারণত স্বাভাবিক থাকে, কেবল শ্রবণ ও বাচনিক সমস্যা থাকে।
- এদের শিক্ষাদানে ইশারা ভাষা (Sign Language), ঠোঁটের নড়াচড়া পাঠ (Lip Reading), এবং শ্রুতি সহায়ক যন্ত্র (Hearing Aid) ব্যবহার করা হয়।
- এদের জন্য দৃষ্টি নির্ভর শিক্ষা উপকরণ (চিত্র, চার্ট, ভিডিও ইত্যাদি) প্রধান মাধ্যম। এদেরকে একীভূত শিক্ষার মাধ্যমে সাধারণ বিদ্যালয়েও পড়াশোনা করানো সম্ভব।
২. বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের (ছক- 'B') শিক্ষাব্যবস্থা:
- এদের বুদ্ধ্যঙ্ক স্বাভাবিকের চেয়ে কম (৭০-এর নিচে) হওয়ায় সাধারণ শিক্ষাক্রম অনুধাবন করতে পারে না।
- এদের শিক্ষাব্যবস্থাকে বুদ্ধ্যঙ্ক অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়: শিক্ষণযোগ্য (Educable), প্রশিক্ষণযোগ্য (Trainable), এবং রক্ষণাবেক্ষণযোগ্য (Custodial)।
- এদের পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে আত্মনির্ভরশীলতা, দৈনন্দিন জীবনযাপনের মৌলিক দক্ষতা (যেমন— পোশাক পরা, খাওয়াদাওয়া) এবং সহজ বৃত্তিমূলক কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
- এদের জন্য বিশেষায়িত বিদ্যালয়ে পুনরাবৃত্তিমূলক ও ধীরগতির শিখনপদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর।
সুতরাং, শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য যোগাযোগভিত্তিক ও সংকেতনির্ভর শিক্ষাপদ্ধতি উপযুক্ত হলেও বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে জীবনদক্ষতা ও বৃত্তিমূলক বিশেষায়িত শিক্ষাব্যবস্থা অধিক প্রয়োজন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও