অর্থনীতি ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
'X' এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা ঐ দেশের অর্থব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে এবং নোট প্রচলন করে। 'Y' অন্য একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা জনগণের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে এবং ঋণ প্রদান করে থাকে। উভয় প্রতিষ্ঠান দেশের প্রয়োজনে কাজ করলেও তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ভিন্ন।
- ক)(1)
অর্থের প্রচলন গতি কী?
- খ)(2)
কেন মানুষের অর্থের চাহিদা সৃষ্টি হয়?
- গ)(3)
X ও Y কী ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উভয় প্রতিষ্ঠান দেশের প্রয়োজনে কাজ করলেও তাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ভিন্ন”- উক্তিটির সত্যতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গড়ে যতবার হাতবদল হয় বা লেনদেনের কাজে ব্যবহৃত হয়, তাকে অর্থের প্রচলন গতি (Velocity of Money) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষ দৈনন্দিন লেনদেন সম্পাদন, ভবিষ্যৎ অপ্রত্যাশিত ব্যয় নির্বাহ এবং মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে নগদ অর্থ ধরে রাখতে চায়; এজন্য অর্থের চাহিদা সৃষ্টি হয়।
অর্থনীতিবিদ কেইনসের মতে, মানুষ মূলত তিনটি উদ্দেশ্যে নগদ অর্থ ধরে রাখতে পছন্দ করে:
১. লেনদেনজনিত উদ্দেশ্য (Transactions motive),
২. দূরদর্শী বা সতর্কতামূলক উদ্দেশ্য (Precautionary motive), এবং
৩. ফটকা কারবারি উদ্দেশ্য (Speculative motive)।
এই প্রয়োজনগুলো পূরণের জন্যই মূলত সমাজে অর্থের চাহিদা দেখা দেয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'X' হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং 'Y' হলো বাণিজ্যিক ব্যাংক।
ব্যাখ্যা:
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, 'X' এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা দেশের সামগ্রিক অর্থব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে এবং নতুন কাগজী নোট ও মুদ্রা প্রচলন করে। আমরা জানি, যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেশের মুদ্রা বাজারের অভিভাবক হিসেবে মুদ্রা ও ঋণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং দেশের পক্ষে এককভাবে নোট ইস্যু করে, তা হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক (যেমন- বাংলাদেশ ব্যাংক)। অতএব, 'X' হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।অন্যদিকে, 'Y' জনগণের কাছ থেকে বিভিন্ন আমানত হিসেবে সঞ্চয় গ্রহণ করে এবং সেই অর্থ থেকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের ঋণ প্রদান করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধীনে যে ব্যাংকগুলো মূলত আমানত সংগ্রহ এবং ঋণ প্রদানকে প্রধান পেশা হিসেবে গ্রহণ করে, সেগুলোকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলা হয়। সুতরাং 'Y' হলো বাণিজ্যিক ব্যাংক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উভয় প্রতিষ্ঠান দেশের প্রয়োজনে কাজ করলেও তাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ভিন্ন”- উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ। নিম্নে এর যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ভিন্নতা:
- কেন্দ্রীয় ব্যাংক (X)-এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সামগ্রিক জনকল্যাণ সাধন, দেশের মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো বাণিজ্যিক বা মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয় না।
- অপরদিকে, বাণিজ্যিক ব্যাংক (Y)-এর মূল ও প্রধান উদ্দেশ্য হলো সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করা। তারা স্বল্প সুদে আমানত সংগ্রহ করে এবং অধিক সুদে ঋণ প্রদান করে এই দুই সুদের হারের ব্যবধান থেকে মুনাফা লাভ করে।
২. কাজের পরিধি ও চরিত্র:
- কেন্দ্রীয় ব্যাংক একক এবং দেশের মুদ্রা ও ব্যাংক ব্যবস্থার শীর্ষ অভিভাবক। এটি সরকারের ব্যাংক এবং অন্যান্য সকল ব্যাংকের ব্যাংকার হিসেবে কাজ করে।
- বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীনে কাজ করে এবং সরাসরি সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীদের সাথে আর্থিক লেনদেন বজায় রাখে।
৩. দেশের প্রয়োজনে অবদান:
উভয়ের উদ্দেশ্য ভিন্ন হলেও উভয়েই দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি প্রণয়ন, তারল্য ও ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে স্থিতিশীল পরিবেশ দেয়, আর বাণিজ্যিক ব্যাংক মূলধন গঠন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।অতএব, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাজের উদ্দেশ্য—একটি জনকল্যাণমুখী ও অন্যটি মুনাফামুখী হওয়ায় উদ্দীপকের বক্তব্যটি সুস্পষ্টভাবে সত্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও