সাহিত্য পাঠ • তাহারেই পড়ে মনে • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

“বহুদিন পরে মনে পড়ে আজি পল্লীমায়ের কোল,ঝাউশাখে সেথা বনলতা বাঁধি, হরষে খেয়েছি দোল,কুলের কাঁটার আঘাত সহিয়া কাঁচাপাকা কুল খেয়ে,অমতের স্বাদ যেন লভিয়াছি গাঁয়ের দুলালী মেয়ে।”

  1. ক)

    'পাথার' শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    “কুহেলি উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী।”— পক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ভাববস্তুর সাথে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার ভাববস্তুর বৈসাদৃশ্য আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলসূর প্রতিফলিত হয়েছে কি? তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'পাথার' শব্দের অর্থ সমুদ্র বা মহাসমুদ্র (বিস্তীর্ণ জলরাশি)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “কুহেলি উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী”— পঙ্ক্তিটির মাধ্যমে শীতের বিদায়ের রূপকে কবির অন্তরের উদাসীনতা ও রিক্ততাকে নির্দেশ করা হয়েছে।

    'কুহেলি উত্তরী' শব্দের অর্থ কুয়াশার চাদর। মাঘ মাসের শেষে শীত কুয়াশার চাদর গায়ে দিয়ে যেন সন্ন্যাসীর মতো নিঃশব্দে চলে যায়। প্রকৃতির এই রিক্ততা কবি সুফিয়া কামালের ব্যক্তিজীবনের সাথে মিলে গেছে। তাঁর প্রিয়তম স্বামীর মৃত্যুর পর কবিমন এক পরম সন্ন্যাসীর মতো উদাসীন ও রিক্ত রূপ ধারণ করেছে, যা বসন্তের সজীবতার মধ্যেও শীতের নিঃসঙ্গতাকে বহন করে চলছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ভাববস্তুর সাথে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার ভাববস্তুর বৈসাদৃশ্য মূলত শৈশবের স্মৃতিময় আনন্দ বনাম প্রিয়জন হারানোর বিষাদময় স্মৃতির মধ্যে নিহিত।

    উদ্দীপকে পল্লীপ্রকৃতির কোলে কাটানো আনন্দময় শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করা হয়েছে। গ্রামের প্রকৃতির সহজ-সরল রূপ, বনলতায় দোল খাওয়া কিংবা কুল খাওয়ার অনাবিল আনন্দের স্মৃতি বক্তার মনে পরম তৃপ্তি ও অমূল্য অনুভূতির সঞ্চার করে। এখানে অতীত স্মৃতি মনের মধ্যে সুখ ও মাধুর্য বয়ে আনে।

    অন্যদিকে, 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্য ও বসন্তের আগমন সত্ত্বেও কবির মনে শুধুই হাহাকার ও রিক্ততা বিরাজ করে। কবির প্রিয়জনের বিয়োগব্যথা তাঁর অন্তরকে কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের মতো হিমশীতল ও উদাসীন করে রেখেছে। বসন্তের ফুলেল সৌন্দর্য কবিকে স্পর্শ করতে পারে না; অতীতের স্মৃতি তাঁর কাছে বেদনার উৎস।

    অতএব, উদ্দীপকে যেখানে প্রকৃতির স্মৃতি সুখ ও পুলকের উৎস, কবিতায় সেখানে অতীত স্মৃতি প্রিয়জন হারানোর তীব্র বিষাদ ও হাহাকারের কারণ। এই ভাবগত অবস্থানেই দুই রচনার স্পষ্ট বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    না, উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলসুর প্রতিফলিত হয়নি।

    উদ্দীপকে পল্লীর প্রকৃতি ও শৈশবের নির্মল সুখের রোমন্থনই মুখ্য হয়ে উঠেছে। গ্রামীণ জীবনের ফেলে আসা দিনগুলোর আনন্দ, ঝাউগাছে বনলতা বেঁধে দোল খাওয়া এবং কুলের কাঁটার আঘাত সহ্য করে কাঁচাপাকা কুল খাওয়ার সুখস্মৃতি বক্তাকে আনন্দিত করে। এতে জীবনের উচ্ছ্বাস ও স্মৃতির তৃপ্তি ফুটে উঠেছে।

    অন্যদিকে, সুফিয়া কামালের 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলসুর হলো প্রিয়জন হারানোর গভীর বিষাদ, রিক্ততা এবং কবিমনের একাকীত্ব। বসন্তের নবীন আগমন চারিদিকে আনন্দের আবহ সৃষ্টি করলেও কবি তা উপভোগ করতে পারেন না। কারণ তাঁর সাহিত্যসাধনার মূল অনুপ্রেরণাদাতা ও প্রিয়তম স্বামীর অকালমৃত্যুর শোক কবির হৃদয়কে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধ কবির অন্তর থেকে শোকের অন্ধকার দূর করতে পারে না। ফলে বসন্তের বন্দনা তাঁর কাছে অর্থহীন মনে হয়।

    সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকটি স্মৃতিকাতরতার মাধ্যমে অনাবিল আনন্দের প্রকাশ ঘটিয়েছে, পক্ষান্তরে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূল ভিত্তি হলো গভীর শোক, রিক্ততাবোধ ও প্রিয়স্মৃতির বিচ্ছেদবেদনা। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলসুরটি প্রতিফলিত হয়নি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন