অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ 'সিডর'-এর কারণে বাগেরহাট ও সাতক্ষীরাসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয় এবং জলাবদ্ধতাসহ লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়। তাই বিশেষজ্ঞগণ লবণাক্ত ও জলাবদ্ধ অঞ্চলের জন্য বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তি আবিষ্কার করেন। যার সাহায্যে এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে উত্তোরণের পথ উন্মুক্ত হয়।
- ক)(1)
কৃষিপণ্য বিপণন কী?
- খ)(2)
কৃষি ঋণের উৎসগুলো কী কী?
- গ)(3)
অনুচ্ছেদের আলোকে বাংলাদেশে বৈশ্বিক উষ্ণতা ও কৃষি প্রযুক্তিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বিদ্যমান সংকট উত্তরণে তোমার সুপারিশ প্রদান করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষিপণ্য উৎপাদন ক্ষেত্র থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত যাবতীয় কার্যবলীর সমষ্টিকে কৃষিপণ্য বিপণন বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষি ঋণের উৎসগুলোকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১. প্রাতিষ্ঠানিক উৎস: বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক, সমবায় সমিতি এবং গ্রামীণ ব্যাংক ইত্যাদি।
২. অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস: আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, গ্রাম্য মহাজন, ধনী কৃষক, ব্যবসায়ী ও বেপারি ইত্যাদি। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব কৃষি ও কৃষি প্রযুক্তির ওপর দৃশ্যমান হয়। উদ্দীপকে সিডরের প্রভাবে সৃষ্ট প্লাবন, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং মৃত্তিকা ও পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির ঘটনা জলবায়ু পরিবর্তনেরই ফলাফল।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে (যেমন- বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা) লবণাক্ত পানি প্রবেশ করছে। সাধারণ জাতের ফসল লবণাক্ততা ও অতিরিক্ত জলাবদ্ধতায় টিকে থাকতে পারে না, ফলে ফসলহানি ঘটে। এই সংকট মোকাবিলায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির উদ্ভাবন ঘটছে। গবেষক ও কৃষি বিজ্ঞানীরা জলবায়ু সহনশীল শস্যজাত, যেমন—লবণাক্ততা সহনশীল জাত (ব্রি ধান-৪৭, বিনা ধান-৮ ও ১০ ইত্যাদি) এবং জলাবদ্ধতা সহনশীল ভাসমান সবজি চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছেন। অর্থাৎ, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও অভিযোজন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততাজনিত সংকট উত্তরণে নিম্নরূপ বাস্তবমুখী সুপারিশসমূহ গ্রহণ করা যেতে পারে:
১. সহনশীল জাতের সম্প্রসারণ: লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতা সহনশীল উচ্চফলনশীল জাতের উদ্ভাবন এবং কৃষকদের মাঝে তা সহজলভ্য করা।
২. অভিযোজন প্রযুক্তির প্রসার: উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ত পানিরোধক বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে জলমগ্ন জমিতে ভাসমান বেডে শাকসবজি ও চারা চাষের (ধাপ চাষ) প্রসার ঘটানো।
৩. সুপেয় ও সেচ পানির ব্যবস্থাপনা: বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ (Rainwater harvesting) এবং খাল খনন করে মিঠা পানি সংরক্ষণ ও সেচ কাজে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা।
৪. কৃষি ঋণের প্রাপ্যতা ও প্রণোদনা: ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহজে এবং স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ ও কৃষি উপকরণ সহায়তা প্রদান করা।
৫. প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা: জলবায়ু উপযোগী কৃষি পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং কৃষি কর্মকর্তাদের সরাসরি পরামর্শ সম্প্রসারণ করা।
এসব পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যমান প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত সংকট মোকাবিলা করে কৃষির টেকসই উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও