ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

নিচের চিত্রটি লক্ষ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

  1. ক)

    বিধিবদ্ধ কোম্পানি কী ?

    (1)
  2. খ)

    কোম্পানি ঋণপত্র কেন ইস্যু করে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় পর্যায়ে কী কী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের চিত্রটি 'বৃহদায়তন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত:- এ বিষয়ে তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দেশের আইনসভা বা পার্লামেন্টের বিশেষ আইন অথবা রাষ্ট্রপ্রধানের বিশেষ অধ্যাদেশ বলে গঠিত ও পরিচালিত কোম্পানিকে বিধিবদ্ধ কোম্পানি (Statutory Company) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসায় অর্থায়ন এবং মূলধনের ঘাটতি পূরণের উদ্দেশ্যে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি জনগণের নিকট থেকে ঋণ গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে ঋণপত্র (Debenture) ইস্যু করে।

    কোম্পানি যখন শেয়ার ইস্যু করে মালিকানা হাতছাড়া করতে চায় না, কিন্তু বড় আকারের তহবিলের প্রয়োজন হয়, তখন কোম্পানি নির্দিষ্ট সুদের হারে জামানতসহ বা জামানতবিহীন ঋণপত্র বিক্রি করে। এতে কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ পরিচালকদের হাতেই অক্ষুণ্ণ থাকে এবং কোম্পানি তুলনামূলক কম খরচে প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহ করতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রে প্রদর্শিত দ্বিতীয় পর্যায়টি হলো 'দলিলপত্র প্রণয়ন পর্যায়'। কোম্পানি গঠনের এই পর্যায়ে মূলত দুটি প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল তৈরি করতে হয়:

    ১. স্মারকলিপি বা পরিমেল বন্ধ (Memorandum of Association): এটি কোম্পানির মূল সনদ বা সংবিধান। এতে কোম্পানির নাম, নিবন্ধিত কার্যালয়ের ঠিকানা, উদ্দেশ্য, শেয়ার মূলধনের পরিমাণ, শেয়ারহোল্ডারদের দায় এবং সম্মতি সংক্রান্ত ধারা লিপিবদ্ধ থাকে। এই দলিলটি কোম্পানির কার্যপরিধি ও ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করে।

    ২. পরিমেল নিয়মাবলি (Articles of Association): এটি কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পরিচালনা সংক্রান্ত দলিল। এতে পরিচালকদের সংখ্যা, তাঁদের ক্ষমতা ও কর্তব্য, সভা আহ্বানের নিয়মাবলি, ভোটদানের নিয়ম, লভ্যাংশ বণ্টন পদ্ধতি ইত্যাদি অভ্যন্তরীণ নিয়ম-কানুন বিস্তারিতভাবে বিধিবদ্ধ থাকে।

    উদ্যোক্তারা আইন অনুযায়ী অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল প্রণয়ন ও স্বাক্ষর সম্পন্ন করেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রটিতে যৌথ মূলধনী কোম্পানি (বিশেষত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি) গঠনের পর্যায়সমূহ প্রদর্শিত হয়েছে। এই ব্যবসায় সংগঠনটি 'বৃহদায়তন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত'—উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

    এর সপক্ষে নিম্নোক্ত কারণসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বিপুল মূলধন সংগ্রহ: বৃহদায়তন ব্যবসায় পরিচালনার জন্য প্রচুর মূলধনের প্রয়োজন হয়। কোম্পানি সংগঠন শেয়ার ও ঋণপত্র ইস্যুর মাধ্যমে সাধারণ জনসাধারণের কাছ থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় একত্রিত করে বিশাল মূলধন তহবিল গড়ে তুলতে পারে, যা একমালিকানা বা অংশীদারি ব্যবসায়ের পক্ষে সম্ভব নয়।

    ২. সীমিত দায় ও শেয়ার হস্তান্তরযোগ্যতা: পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের দায় শেয়ারের অভিহিত মূল্য পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে এবং শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য। ফলে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিমুক্ত মনে করে বৃহদায়তন বিনিয়োগে আগ্রহী হন।

    ৩. চিরন্তন অস্তিত্ব: আইনগত কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তার কারণে কোনো সদস্যের মৃত্যু, দেউলিয়া বা পদত্যাগে কোম্পানির অস্তিত্ব বিলোপ পায় না। বৃহদায়তন প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের জন্য এটি অপরিহার্য।

    ৪. দক্ষ ও পেশাদার ব্যবস্থাপনা: বিশাল তহবিল থাকায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠান উচ্চ বেতন দিয়ে দক্ষ ও পেশাদার ব্যবস্থাপক নিয়োগ করতে পারে, যা বৃহদায়তন ব্যবসায়ের সফল পরিচালনার চাবিকাঠি।

    ৫. বৃহদায়তন উৎপাদনের সুবিধা: কোম্পানি সংগঠন বড় আকারে পণ্য উৎপাদন ও বিপণন করে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ব্যয়সংকোচনের (Economies of scale) সুযোগ লাভ করতে পারে।

    অতএব, উদ্দীপকের প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গঠিত যৌথ মূলধনী কোম্পানিই আধুনিক যুগের বৃহদায়তন ব্যবসায়ের জন্য সর্বাধিক উপযোগী সংগঠন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন