গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

মৌমিতার বয়স ৬ মাস। সে খুব দ্রুত ওজন ও উচ্চতায় বাড়ছে। মৌমিতার খালা তার মাকে বললেন, "মৌমিতার প্রতি অধিক যত্নশীল হও। কেননা শৈশবের বিকাশ অনেক সংকটময়।"

  1. ক)

    বর্ধনের সংজ্ঞা দাও।

    (1)
  2. খ)

    পরিপক্বতা ও শিক্ষণ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত— ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মৌমিতা তার জীবনের কোন সময়কাল অতিক্রম করছে? এই সময়কালের দৈহিক বিকাশ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মৌমিতার খালার উক্তির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আকার, ওজন ও পরিমাপের পরিমাণগত বা বাহ্যিক পরিবর্তনকে বর্ধন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরিপক্বতা হলো বয়স বাড়ার সাথে সাথে শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক ক্রমবিকাশ বা সক্ষমতা অর্জন, আর শিক্ষণ হলো পরিবেশ ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আচরণের অপেক্ষাকৃত স্থায়ী পরিবর্তন।

    শিশুর কোনো অঙ্গ নির্দিষ্ট কাজ করার মতো পরিপক্ব না হলে তাকে কেবল প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শেখানো যায় না। যেমন— পায়ের পেশি পরিপক্ব হওয়ার আগেই শিশুকে হাঁটা শেখানো সম্ভব নয়। আবার পরিপক্বতা অর্জিত হলেও উপযুক্ত শিক্ষণ ও অনুশীলনের অভাবে দক্ষতা প্রকাশ পায় না। তাই পরিপক্বতা ও শিক্ষণ একে অপরের পরিপূরক ও পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মৌমিতার বয়স ৬ মাস, ফলে সে তার জীবনের "অতি শৈশব" বা "টডলারহুড/ইনফ্যান্সি" (Infancy/Babyhood) পর্যায় অতিক্রম করছে।

    এই সময়কালের দৈহিক বিকাশ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধি: জীবনের প্রথম বছরে শিশুর ওজন ও উচ্চতা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পায়। সাধারণত ৫-৬ মাসে শিশুর জন্মকালীন ওজন দ্বিগুণ হয়।
    ২. শারীরিক অনুপাত ও দাঁত ওঠা: এ বয়সে শিশুর মাথার তুলনায় ধড় ও হাত-পায়ের অনুপাত পরিবর্তিত হতে থাকে এবং ৬-৭ মাস বয়স থেকে দুধদাঁত গজাতে শুরু করে।
    ৩. পেশির নিয়ন্ত্রণ ও নড়াচড়া: এ সময় শিশু মাথা সোজা রাখা, পাশ ফেরা, কোনো অবলম্বন ছাড়া বা অবলম্বনসহ বসতে শেখা এবং হাত দিয়ে কোনো বস্তু ধরার মতো শারীরিক ও চালকমূলক দক্ষতা অর্জন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মৌমিতার খালার করা উক্তিটি— "মৌমিতার প্রতি অধিক যত্নশীল হও। কেননা শৈশবের বিকাশ অনেক সংকটময়"— অত্যন্ত যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    মানবজীবনের সামগ্রিক বিকাশের ভিত্তি রচিত হয় শৈশবে। বিশেষ করে অতি শৈশবে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি যেমন দ্রুত হয়, তেমনি তার মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশও দ্রুত ঘটে। এই পর্যায়ে কোনো ঘাটতি তৈরি হলে তা পরবর্তী জীবনের বিকাশে স্থায়ী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

    উক্তিটির যথার্থতার কারণসমূহ:
    ১. অপুষ্টি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি: ৬ মাস বয়সের পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি পরিপূরক খাদ্যের প্রয়োজন হয়। এ সময় সঠিক পুষ্টির অভাব ঘটলে শিশুর শারীরিক বর্ধন ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
    ২. সংবেদনশীল সময়: শৈশবকাল হলো রোগব্যাধির ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল। অসচেতনতার কারণে ইনফেকশন বা অসুখ হলে শিশুর বিকাশ থমকে যেতে পারে।
    ৩. আবেগীয় ও সামাজিক ভিত্তি: এ বয়সেই শিশু বাবা-মা ও অভিভাবকের সাথে স্নেহ-ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়। উপযুক্ত যত্ন ও নিরাপত্তার অভাব ঘটলে শিশুর মানসিক বিকাশে সংকট দেখা দেয়।

    সুতরাং, শৈশবের কোনো ভুল বা অবহেলা শিশুর ভবিষ্যৎ জীবনে দীর্ঘমেয়াদি সংকট বয়ে আনতে পারে বলেই মৌমিতার খালার অতিরিক্ত যত্নশীল হওয়ার তাগিদ সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত ও যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন