পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
সদ্য স্বাধীন একটি রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাষাভাষী জনগণ তাদের মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানালে শাসকগোষ্ঠী তাতে কর্ণপাত করেনি। ফলে জনগণের ক্ষোভ বাড়তে থাকে। শুরু হয় আন্দোলন। আন্দোলনের এক পর্যায়ে শাসকগোষ্ঠী ছাত্র-জনতার উপর গুলি বর্ষণ করলে অনেকে শহিদ হন।ফলে আন্দোলন আরো বেগবান হয়। দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় শাসকগোষ্ঠী ।
- ক)(1)
কার নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয়?
- খ)(2)
যুক্তফ্রন্ট সম্পর্কে কী জান? লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোন ঘটনাটির সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উক্ত আন্দোলন ঐ ভাষাভাষী জনগণের উপর পরবর্তী আন্দোলন সংগ্রামে প্রেরণা যুগিয়েছে"- তোমার মতামত ব্যক্ত করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তফ্রন্ট হলো ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক বিরোধী দলীয় ঐক্যজোট। ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর মূলত মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-প্রজা পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল সমন্বয়ে এ জোট গঠিত হয়। যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক ছিল 'নৌকা' এবং তাদের নির্বাচনি মেনিফেস্টো ছিল ঐতিহাসিক '২১ দফা'। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে বিপুল বিজয় লাভ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনাটির সাথে আমার পঠিত ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর মোট জনসংখ্যার ৫৬ শতাংশের মাতৃভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠী এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলে এবং মাতৃভাষা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনে নামে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, সদ্য স্বাধীন একটি রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠের মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি শাসকগোষ্ঠী উপেক্ষা করায় আন্দোলন শুরু হয়। একপর্যায়ে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশ মিছিলে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে। ফলে বরকত, রফিক, সালাম, জব্বারসহ অনেকে শহিদ হন। শহিদদের আত্মত্যাগের ফলে আন্দোলন তীব্র গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত শাসকগোষ্ঠী বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। উদ্দীপকের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট তাই সরাসরি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উক্ত আন্দোলন ঐ ভাষাভাষী জনগণের উপর পরবর্তী আন্দোলন সংগ্রামে প্রেরণা যুগিয়েছিল"— এ উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।
১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন ছিল মূলত বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম সার্থক বহিঃপ্রকাশ। এই আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালিরা প্রথম বুঝতে পারে যে তাদের ওপর কেবল সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হচ্ছে না, বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবেও নিষ্পেষিত করা হচ্ছে। ভাষা আন্দোলনের বিজয় বাঙালিদের আত্মমর্যাদাবোধ বৃদ্ধি করে এবং নিজেদের অধিকার আদায়ের সাহস জোগায়।
ভাষা আন্দোলনের চেতনার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীকালে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা এবং ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। প্রতিটি আন্দোলনে ভাষা আন্দোলনের শহিদদের রক্ত ও আত্মত্যাগ বাঙালিদের সংগ্রামী প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। অবশেষে এই ধারাবাহিক জাতীয়তাবাদী চেতনার পথ ধরেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতি সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জন করে।
সুতরাং, একথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল এবং পরবর্তী প্রতিটি জাতীয় অধিকার আদায় ও মুক্তি সংগ্রামের প্রধান চালিকাশক্তি ও প্রেরণা জুগিয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও