জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
সাজু দীর্ঘদিন একটি তামাক কারখানায় কাজ করে। সম্প্রতি তাঁর শ্বসনতন্ত্রে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিয়েছে।
- ক)(1)
ট্রাকিয়া কী?
- খ)(2)
আমাদের হাঁচির উদ্রেক হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের তন্ত্রটির গঠনগত এককের বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
সাজুর কী কী ধরনের জটিলতা হতে পারে? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বরযন্ত্রের নিচের অংশ থেকে শুরু করে পঞ্চম বক্ষদেশীয় কশেরুকা পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ১২ সেমি দীর্ঘ ও ২-২.৫ সেমি ব্যাসযুক্ত তরুণাস্থিময় নালিকে ট্রাকিয়া বা শ্বাসনালি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নাসাগহ্বরের মিউকাস পর্দায় কোনো বহিরাগত কণা (যেমন—ধূলিকণা, পরাগরেণু, ঝাঁঝালো গ্যাস বা জীবাণু) প্রবেশ করলে বা উদ্দীপনা সৃষ্টি করলে নাসাপথ পরিষ্কার রাখার উদ্দেশ্যে স্বয়ংক্রিয় প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Reflex action) হিসেবে ফুসফুস থেকে তীব্র বেগে বাতাস নাসাপথ ও মুখ দিয়ে সজোরে বের হয়ে আসে। এ কারণে হাঁচির উদ্রেক হয়। এটি মূলত শ্বসনতন্ত্রের একটি আত্মরক্ষামূলক প্রতিবর্তী ক্রিয়া।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত তন্ত্রটি হলো শ্বসনতন্ত্র, যার গঠনগত ও কার্যগত একক হলো ফুসফুসের অ্যালভিওলাস (Alveolus)।
অ্যালভিওলাসের গঠন নিম্নরূপ:
১. আকৃতি ও সংখ্যা: অ্যালভিওলাসগুলো দেখতে অতি সূক্ষ্ম গোল থলির মতো বা মৌচাকের প্রকোষ্ঠের ন্যায়। মানব ফুসফুসে প্রায় ৭০ কোটি (৭০০ মিলিয়ন) অ্যালভিওলাস থাকে।
২. প্রাচীর: এর প্রাচীর অত্যন্ত পাতলা (প্রায় ০.১-০.৫ মাইক্রোমিটার) এবং এটি একস্তরবিশিষ্ট চ্যাপ্টা স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াল কোষে গঠিত। প্রাচীরের বাইরে কোলাজেন ও স্থিতিস্থাপক তন্তু থাকে।
৩. রক্তজালক: প্রতিটি অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ঘন রক্তজালক (কৈশিক জালিকা) দ্বারা বেষ্টিত থাকে। এই কৈশিক জালিকাগুলো পালমোনারি ধমনি থেকে উৎপন্ন হয়ে পালমোনারি শিরায় মিলিত হয়।
৪. সারফ্যাকট্যান্ট: অ্যালভিওলাসের প্রাচীরের কিছু বিশেষ কোষ (টাইপ-২ নিউমোসাইট) 'সারফ্যাকট্যান্ট' নামক ফসফোলিপিড ও প্রোটিন মিশ্রিত ডিটারজেন্ট-সদৃশ পদার্থ ক্ষরণ করে। এটি পৃষ্ঠটান হ্রাস করে অ্যালভিওলাসকে সংকুচিত হয়ে যাওয়া (ভেসে থাকা অবস্থায় চুপসে যাওয়া) থেকে রক্ষা করে।
৫. ম্যাক্রোফেজ: অ্যালভিওলাসের প্রাচীরে রোগজীবাণু ও ধূলিকণা ভক্ষণ করার জন্য ফ্যাগোসাইটিক ম্যাক্রোফেজ উপস্থিত থাকে।
এই অ্যালভিওলাসের পাতলা প্রাচীর ও কৈশিক জালিকার মাধ্যমে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় O2 ও CO2-এর বায়বীয় আদান-প্রদান ঘটে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাজু দীর্ঘদিন তামাক কারখানায় কাজ করায় তার শ্বসনতন্ত্রে তামাকের ক্ষতিকর ধূলিকণা ও নিকোটিনসহ বিভিন্ন বিষাক্ত উপাদানের কারণে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ বিষয়ে আমার মতামত নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস (Chronic Bronchitis): তামাকের ধূলিকণা শ্বাসনালির সিলিয়া ধ্বংস করে এবং শ্লেষ্মা উৎপাদনকারী গবলেট কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি করে। ফলে শ্বাসনালিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং শ্লেষ্মা জমে শ্বাসকষ্ট ও দীর্ঘস্থায়ী কাশির উদ্রেক ঘটে।
২. এমফাইসিমা (Emphysema): তামাকের বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের প্রাচীরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ও ফেটে যায়। ফলে ফুসফুসের কার্যকরী শ্বসন পৃষ্ঠতল হ্রাস পায়, যা তীব্র শ্বাসকষ্ট ও ক্লান্তি তৈরি করে।
৩. সিওপিডি (COPD - Chronic Obstructive Pulmonary Disease): দীর্ঘদিন ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস ও এমফাইসিমা একত্রে দীর্ঘস্থায়ীভাবে শ্বাসনালির পথ সরু করে দেয়, যা সিওপিডি-তে রূপ নেয় এবং রোগীকে অক্সিজেন-নির্ভর করে তোলে।
৪. ফুসফুসের ক্যানসার (Lung Cancer): তামাকের মধ্যে বহু কার্সিনোজেন (যেমন—টার, বেনজোপাইরিন, পলিনাম-২১০ ইত্যাদি) থাকে। তামাক প্রক্রিয়াকরণের ধূলিকণা ও রাসায়নিক উপাদান সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করে জিনগত মিউটেশন ঘটিয়ে ফুসফুসের কোষে অনিয়ন্ত্রিত বিভাজনের মাধ্যমে টিউমার তথা ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে।
৫. অ্যাজমা ও অন্যান্য অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া: তামাকের গুঁড়া ফুসফুসে গিয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে উদ্দীপিত করে অতিরিক্ত মিউকাস তৈরি করে এবং ব্রঙ্কিওল সংকুচিত করে হাঁপানির প্রকোপ বাড়িয়ে দেয়।সুতরাং, তামাক কারখানার অনিরাপদ পরিবেশে দীর্ঘদিন কাজ করার কারণে সাজুর ফুসফুসের কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়ে ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস, এমফাইসিমা বা ফুসফুসের ক্যানসারের মতো জীবনঘাতী জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও