‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

ধর্মীয় ইস্যুকে প্রধান করে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। স্বাধীন হওয়া একটি রাষ্ট্রের দুটি প্রদেশের মাঝে অচিরেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি হয়। ফলে একটি প্রদেশের জনগণের মধ্যে হতাশার জন্ম হয়। পরবর্তীতে একজন সম্মোহনী নেতা ঐ প্রদেশের, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি লক্ষ্য রেখে কিছু কর্মসূচি উপস্থাপন করেন।

  1. ক)

    যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক কী ছিল?

    (1)
  2. খ)

    ভাষা আন্দোলন কেন হয়েছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত সম্মোহনী নেতার উত্থাপিত কর্মসূচি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন কর্মসূচিকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকে উল্লেখিত কর্মসূচির আলোকেই স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছে।"- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক ছিল 'নৌকা'।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ (৫৬%) মানুষের মাতৃভাষা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে এবং পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া একপেশে উর্দু নীতির বিরুদ্ধে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর মাধ্যমে বাঙালি জাতি তাদের ভাষার অধিকার ও স্বাতন্ত্র্যবোধ রক্ষা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত সম্মোহনী নেতার উত্থাপিত কর্মসূচিটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ঐতিহাসিক 'ছয়দফা কর্মসূচি'-কে ইঙ্গিত করে।

    ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ধর্মের দোহাই দিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হলেও শুরু থেকেই পূর্ব পাকিস্তান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে চরম বৈষম্যের শিকার হয়। এই বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ হিসেবে ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ছয়দফা দাবি পেশ করেন।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, ধর্মীয় ভিত্তিতে স্বাধীন হওয়া একটি দেশের দুটি প্রদেশের মধ্যে বৈষম্য দেখা দেয় এবং সেই প্রেক্ষাপটে এক সম্মোহনী নেতা জনগণের অধিকার রক্ষায় কর্মসূচি দেন। এখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর উত্থাপিত ছয়দফা কর্মসূচির কথাই প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত কর্মসূচি অর্থাৎ ১৯৬৬ সালের 'ছয়দফা কর্মসূচি'-র আলোকেই স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছিল—উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    ছয়দফা কর্মসূচিকে বাঙালির 'ম্যাগনা কার্টা' বা মুক্তিসনদ বলা হয়। এতে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন, পৃথক মুদ্রা বা ব্যাংকিং ব্যবস্থা, রাজস্ব ক্ষমতা এবং আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের দাবি জানানো হয়। এই দাবিসমূহ বাঙালি জাতির মধ্যে স্বাধিকারের প্রবল চেতনা জাগ্রত করে এবং রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ করে।

    ছয়দফার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে, যা ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের জন্ম দেয়। এই পটভূমিতে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে গণহত্যা শুরু করলে বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পরিশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। অতএব, ছয়দফার স্বাধিকার আন্দোলনের ধারাবাহিক পরিণতিই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন