ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব 'ক' পৌরসভার নির্বাচিত চেয়ারম্যান। মেয়াদের প্রথম দিকে তিনি জনগণের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। কিন্তু মেয়াদের শেষের দিকে পৌরসভার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে আপনজনকে নিয়োগ দিয়ে। তিনি সমালোচনার পাত্রে পরিণত হন। বিরোধীপক্ষ তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ছাড়াও আরও অনেক অভিযোগ করতে থাকে। জনাব 'ক' সব। অভিযোগ তদন্ত করে দেখবেন এবং প্রকৃত অপরাধীর শান্তি দেবেন- এই। মর্মে আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। কিন্তু পৌরসভার সচিবের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি সফল হতে পারেননি। ফলে পৌরসভায় স্থায়ী অরাজকতা ও অশান্তি সৃষ্টি হয়।
- ক)(1)
'যুন্নুরাইন' অর্থ কী?
- খ)(2)
হযরত ওসমান (রা) কীভাবে খলিফা নির্বাচিত হন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সচিবের সাথে খলিফা ওসমান (রা)-এর প্রশাসনের কোন চরিত্রের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে আনীত অভিযোগের আলোকে খলিফা ওসমান (রা)- এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ পর্যালোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'যুন্নুরাইন' শব্দের অর্থ হলো 'দুই জ্যোতির অধিকারী' বা 'দুটি আলোর অধিকারী'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হযরত উমর (রা.) শাহাদাতবরণের পূর্বে পরবর্তী খলিফা নির্বাচনের জন্য ছয় সদস্যের একটি নির্বাচক পরিষদ বা শুরা গঠন করে যান। এই কমিটির সদস্য ছিলেন—হযরত উসমান (রা.), হযরত আলী (রা.), হযরত তালহা (রা.), হযরত জুবায়ের (রা.), হযরত সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.) এবং হযরত আব্দুর রহমান বিন আউফ (রা.)। সদস্যদের মধ্যে মতৈক্য সৃষ্টির দায়িত্ব পালন করেন আব্দুর রহমান বিন আউফ (রা.)। তিনি জনমত ও কমিটির অন্যান্য সদস্যদের পরামর্শের ভিত্তিতে হযরত উসমান (রা.)-এর পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং সকলের বায়াত গ্রহণের মাধ্যমে ৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দে হযরত উসমান (রা.) খলিফা নির্বাচিত হন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের পৌরসভার সচিবের সাথে খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর প্রশাসনের প্রধান সচিব 'মারওয়ান বিন হাকাম'-এর চরিত্রের হুবহু মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, পৌরসভার চেয়ারম্যান জনাব 'ক' জনগণের অসন্তোষ ও অভিযোগের মুখে তদন্ত ও ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সচিবের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হয় এবং স্থায়ী অশান্তির সৃষ্টি হয়।
খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর খিলাফতের শেষভাগে যখন বিদ্রোহী প্রতিনিধিরা তাঁর কাছে অভিযোগ নিয়ে আসে, তখন তিনি তাদের অভিযোগ শুনে সন্তুষ্ট করেন এবং তাদের দাবি মেনে নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। বিদ্রোহীরা সন্তুষ্ট হয়ে মদিনা ত্যাগ করে ফিরে যাচ্ছিল। কিন্তু খলিফার চক্রান্তকারী ও উচ্চাভিলাষী সচিব মারওয়ান খলিফার অজ্ঞাতসারে তাঁর সিলমোহর ব্যবহার করে বিদ্রোহীদের হত্যা করার নির্দেশ দিয়ে একটি গোপন চিঠি মিশরের গভর্নরের কাছে পাঠায়। পথিমধ্যে এই চিঠি বিদ্রোহীদের হাতে ধরা পড়লে তারা চরম ক্ষুব্ধ হয়ে পুনরায় মদিনায় ফিরে আসে এবং খলিফার বাসভবন অবরোধ করে পরিশেষে তাঁকে নির্মমভাবে শহীদ করে। সুতরাং উদ্দীপকের সচিবের বিশ্বাসঘাতকতা মারওয়ানের কর্মকাণ্ডের অনুরূপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব 'ক'-এর বিরুদ্ধে মেয়াদের শেষভাগে স্বজনপ্রীতি ও অযোগ্য আত্মীয়দের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর একটি প্রধান দিককে নির্দেশ করে।
হযরত উসমান (রা.)-এর খিলাফতের শেষ ছয় বছরে তৎকালীন কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও বিদ্রোহীরা তাঁর বিরুদ্ধে প্রধানত উমাইয়া বংশপ্রীতি বা স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আনে। তাদের অভিযোগ ছিল—তিনি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশের (যেমন মিশর, কুফা, বসরা) শাসনকর্তা পদ থেকে বিজ্ঞ সাহাবিদের সরিয়ে নিজ বংশের লোকজনকে নিয়োগ দিয়েছেন, বায়তুল মাল থেকে আত্মীয়দের অর্থ সাহায্য করেছেন এবং সচিব মারওয়ানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করেছেন।
তবে এই অভিযোগগুলোর ঐতিহাসিক পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এগুলোর অধিকাংশই ছিল অতিরঞ্জিত, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রথমত, তিনি যাঁদের প্রাদেশিক শাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন (যেমন মুয়াবিয়া, আব্দুল্লাহ বিন সা'দ), তাঁরা অধিকাংশই অত্যন্ত যোগ্য ও দক্ষ ছিলেন এবং তাঁদের অনেকের নিয়োগ পূর্ববর্তী খলিফাদের আমলেই হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, হযরত উসমান (রা.) অত্যন্ত ধনী ও দানশীল ব্যক্তি ছিলেন; তিনি বায়তুল মালের অর্থ নিজের বা আত্মীয়দের পেছনে খরচ করেননি, বরং ব্যক্তিগত তহবিল থেকেই নিজ আত্মীয়-স্বজনকে সাহায্য করতেন। খলিফা হিসেবে তিনি কোনো বেতনও গ্রহণ করতেন না। তৃতীয়ত, তাঁর অমায়িক ভদ্রতা, সরলতা ও বার্ধক্যের সুযোগ নিয়ে তাঁর সচিব মারওয়ান কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছিল, যার দায় খলিফার ওপর অন্যায়ভাবে চাপানো হয়।
পরিশেষে বলা যায়, জনাব 'ক'-এর মতো হযরত উসমান (রা.)-এর বিরুদ্ধেও স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছিল, কিন্তু নিরপেক্ষ ঐতিহাসিক বিশ্লেষণে প্রমাণিত হয় যে তাঁর সততা ও ন্যায়নিষ্ঠা ছিল প্রশ্নাতীত এবং অভিযোগগুলো ছিল ষড়যন্ত্রকারীদের কূটকৌশল মাত্র।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও