জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
স্টিলি কী?
- খ)(2)
সমদ্বিপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলতে কি বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের উদ্ভিদটির গ্যামিটোফাইটিক অংশের বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের উদ্ভিদটি হেটারোমরফিক জীবনচক্র প্রদর্শন করে- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পেরিসাইকল বা পরিচক্র থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত ভাস্কুলার বান্ডলসহ সমস্ত অঞ্চলকে স্টিলি (stele) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে সংযুক্ত ভাস্কুলার বান্ডলে জাইলেম মাঝখানে অবস্থান করে এবং এর উভয় পাশে (বাইরে ও ভেতরে) ফ্লোয়েম এবং জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝে দু'টি ক্যাম্বিয়াম বলয় বিদ্যমান থাকে, তাকে সমদ্বিপার্শ্বীয় (bicollateral) ভাস্কুলার বান্ডল বলে। উদাহরণস্বরূপ লাউ, কুমড়া ইত্যাদি উদ্ভিদের কাণ্ডে এ ধরনের ভাস্কুলার বান্ডল দেখা যায়। এ বান্ডল সর্বদা মুক্ত প্রকৃতির হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে প্রদর্শিত উদ্ভিদটি হলো টেরিডোফাইটা পর্বের ফার্ন উদ্ভিদ (Pteris)।
Pteris-এর গ্যামিটোফাইটিক অংশের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. গঠন ও আকৃতি: Pteris-এর হ্যাপ্লয়েড রেণু (spore) অঙ্কুরিত হয়ে যে স্বাধীন ও সবুজ গ্যামিটোফাইট তৈরি করে তাকে প্রোথ্যালাস (prothallus) বলে। এটি হৃদপিণ্ডাকার, চ্যাপ্টা এবং সবুজ বর্ণের।
২. অগ্রস্থ খাঁজ ও রাইজয়েড: প্রোথ্যালাসের সামনের দিকে একটি খাঁজ থাকে যাকে অগ্রস্থ খাঁজ বলে। এর অঙ্কীয় (ventral) দেশ থেকে বহু এককোষী রোম বা রাইজয়েড বের হয় যা উদ্ভিদের মাটির সাথে আটকে থাকতে এবং পানি ও খনিজ লবণ শোষণে সাহায্য করে।
৩. জননাঙ্গ: প্রোথ্যালাস সহবাসী (monoecious), অর্থাৎ একই উদ্ভিদে পুংজননাঙ্গ (অ্যান্থেরিডিয়াম) এবং স্ত্রীজননাঙ্গ (আর্কিগোনিয়াম) উৎপন্ন হয়।- আর্কিগোনিয়াম: প্রোথ্যালাসের অঙ্কীয় তলে অগ্রস্থ খাঁজের ঠিক নিচে ফ্লাস্ক আকৃতির আর্কিগোনিয়াম তৈরি হয়, যার ভেতরে একটি ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়।
- অ্যান্থেরিডিয়াম: প্রোথ্যালাসের অঙ্কীয় তলের পেছনের দিকে রাইজয়েডের ফাঁকে ফাঁকে গোলাকার অ্যান্থেরিডিয়াম গঠিত হয়, যা থেকে বহু ফ্ল্যাজেলাযুক্ত শুক্রাণু তৈরি হয়।
এভাবে Pteris-এর গ্যামিটোফাইটিক দশা একটি স্বভোজী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রোথ্যালাস হিসেবে অবস্থান করে জনন কাজ সম্পন্ন করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের উদ্ভিদটি হলো Pteris (ফার্ন)। যে জীবনচক্রে স্পোরোফাইটিক (রেণুধর, ২n) এবং গ্যামিটোফাইটিক (লিঙ্গধর, n) জনু দুটি আকৃতিগতভাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের হয়, তাকে হেটারোমরফিক (heteromorphic) জনুক্রম বা জীবনচক্র বলে।
Pteris-এর জীবনচক্র হেটারোমরফিক হওয়ার কারণসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. দুটি স্পষ্ট ও ভিন্ন জনু: Pteris-এর জীবনচক্রে দুটি সুস্পষ্ট পর্যায় রয়েছে—একটি ডিপ্লয়েড (2n) স্পোরোফাইট এবং অপরটি হ্যাপ্লয়েড (n) গ্যামিটোফাইট।
২. অঙ্গসংস্থানিক ভিন্নতা:- স্পোরোফাইট পর্যায়: প্রধান উদ্ভিদদেহটি ডিপ্লয়েড (2n) এবং এটি মূল, কাণ্ড (রাইজোম) ও পাতায় (ফ্রন্ড) বিভক্ত। এটি দীর্ঘজীবী, আকারে বেশ বড় এবং বহুকোষী জটিল ভাস্কুলার কলাযুক্ত।
- গ্যামিটোফাইট পর্যায়: রেণু অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে সৃষ্ট প্রোথ্যালাসটি হ্যাপ্লয়েড (n), হৃদপিণ্ডাকার, অত্যন্ত ক্ষুদ্র, থ্যালয়েড (মূল-কাণ্ড-পাতায় বিভক্ত নয়) এবং ভাস্কুলার কলাবিহীন।
৩. পর্যায়ক্রমিক আবর্তন: স্পোরোফাইট উদ্ভিদের সোরাসের ভেতর স্পোর মাতৃকোষে মায়োসিস বিভাজনের ফলে হ্যাপ্লয়েড স্পোর উৎপন্ন হয়ে গ্যামিটোফাইট জনু শুরু হয়। গ্যামিটোফাইট উদ্ভিদে আর্কিগোনিয়াম ও অ্যান্থেরিডিয়ামে যথাক্রমে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু তৈরি হয়। এদের মিলনে জাইগোট (2n) গঠিত হয়, যা অঙ্কুরিত হয়ে পুনরায় স্পোরোফাইট সৃষ্টি করে।
যেহেতু Pteris-এর স্পোরোফাইট এবং গ্যামিটোফাইট উভয় জনুর গঠন, আকার ও প্রজনন প্রকৃতি একে অপর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা বা ভিন্নরূপী, তাই এটি যথার্থভাবেই একটি হেটারোমরফিক জীবনচক্র প্রদর্শন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও