অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ। এদেশের জনগণ দেশের উন্নয়নে বন্ধপরিকর। এদেশের প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে জনগণ ক্রমান্বয়ে বেশি হারে উৎপাদন করছে। অনেকক্ষেত্রেই প্রয়োজনের বেশি উৎপাদন হচ্ছে। এই উদ্বৃত্ত উৎপাদন রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে। সে আয়ের সাহায্যে উৎপাদনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি করা হচ্ছে। এভাবে বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সাথে সাথে কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় হ্রাস ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অধিকতর সম্প্রসারণ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। অবশ্য সরকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেমন- EPZ স্থাপন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগকারীদের সহায়তা প্রদান ইত্যাদি।

  1. ক)

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কী?

    (1)
  2. খ)

    "উদ্বৃত্ত দ্রব্য রপ্তানি, ঘাটতি দ্রব্য আমদানি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লক্ষ্য" ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের সরকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দুই বা ততোধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মধ্যে বিধিবদ্ধ নিয়মকানুনের অধীনে দ্রব্য ও সেবামূল্যের যে ক্রয়-বিক্রয় সংঘটিত হয়, তাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল ভিত্তি হলো তুলনামূলক ব্যয়ের পার্থক্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের অসম বণ্টন।

    কোনো দেশ তার নিজস্ব চাহিদার চেয়ে যে পণ্যটি তুলনামূলক কম খরচে বেশি উৎপাদন করতে পারে, সেই উদ্বৃত্ত অংশ অন্য দেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। বিপরীতভাবে, যেসব পণ্য দেশে উৎপাদন করা ব্যয়বহুল বা সম্ভব নয়, তা বিদেশ থেকে আমদানি করে অভ্যন্তরীণ ঘাটতি পূরণ করে। এজন্যই উদ্বৃত্ত দ্রব্য রপ্তানি ও ঘাটতি দ্রব্য আমদানি করাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান লক্ষ্য বিবেচনা করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে উদ্বৃত্ত উৎপাদন করছে এবং তা রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। সেই অর্জিত মুদ্রা দিয়ে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও শিল্পকারখানার কাঁচামাল আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে।

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ফলে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, নতুন নতুন প্রযুক্তির আগমন ঘটছে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া বৃহদায়তন উৎপাদনের সুযোগ পাওয়ার ফলে উৎপাদন ব্যয় কমছে ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা উন্নয়নশীল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে অপরিহার্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের সরকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে উদ্দীপকে উল্লেখিত পদক্ষেপসহ বহুমুখী নীতি ও কৌশল গ্রহণ করেছে।

    উদ্দীপক ও বাস্তবতা অনুসারে সরকারের প্রধান পদক্ষেপসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. ইপিজেড (EPZ) ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা: রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধাসহ সারাদেশে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা এবং ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) স্থাপন করা হচ্ছে।
    ২. বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও প্রণোদনা: দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি, ট্যাক্স হলিডে এবং নগদ আর্থিক ভর্তুকি প্রদান করা হচ্ছে।
    ৩. বন্দর ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন: গভীর সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দরগুলোর আধুনিকায়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম দ্রুততর করা হয়েছে।
    ৪. রপ্তানি পণ্য ও বাজারের বহুমুখীকরণ: তৈরি পোশাকের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, চামড়া, ওষুধ ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানিতে উৎসাহ দেওয়া এবং নতুন নতুন দেশের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    পরিশেষে বলা যায়, সরকারের এসব কৌশলগত পদক্ষেপ দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বহুমুখীকরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা পালন করছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন