জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

A = প্যাঁচানো, দ্বিসূত্রক নিউক্লিক এসিডB = অ্যামাইনো এসিড বহনকারী একসূত্রক নিউক্লিক এসিড

  1. ক)

    জিনোম কী?

    (1)
  2. খ)

    রাইবোজোমকে প্রোটিন তৈরির কারখানা বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক 'B'-তে নির্দেশিত নিউক্লিক এসিডের গঠন বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে নির্দেশিত 'A' নিউক্লিক এসিডের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো জীবের একটি হ্যাপ্লয়েড ক্রোমোজোম সেটে বিদ্যমান জিনের বা বংশগত তথ্যের সমষ্টিকে জিনোম বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাইবোজোম হলো কোষে অবস্থিত ঝিল্লিবিহীন অঙ্গাণু যা প্রোটিন সংশ্লেষণের প্রধান স্থান হিসেবে কাজ করে। এমআরএনএ-তে থাকা সংকেত অনুযায়ী বিভিন্ন অ্যামাইনো এসিড পেপটাইড বন্ধন দ্বারা যুক্ত হয়ে প্রোটিন তৈরির কাজ রাইবোজোমের ভেতরেই সম্পন্ন হয়। তাই রাইবোজোমকে কোষের প্রোটিন তৈরির কারখানা বা 'Protein Factory' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'B' নিউক্লিক এসিডটি হলো tRNA (ট্রান্সফার আরএনএ)। ক্লোভার লিফ (Clover-leaf) মডেল অনুযায়ী tRNA-এর গঠন নিচে বর্ণনা করা হলো:
    ১. একসূত্রক পলিনিউক্লিওটাইড: এটি প্রায় ৭৫-৯০টি রাইবোনিউক্লিওটাইড দিয়ে গঠিত একটি একসূত্রক শিকল।
    ২. বাহু বা লুপসমূহ: সূত্রটি ভাঁজ হয়ে কয়েকটি ফাঁস বা লুপ এবং ফাঁসহীন বাহু তৈরি করে। প্রধান বাহুগুলো হলো:

    • অ্যামাইনো এসিড গ্রাহক বাহু (Acceptor arm): এর ৩'-প্রান্তে সবসময় -CCA অনুক্রম থাকে, যার সাথে নির্দিষ্ট অ্যামাইনো এসিড যুক্ত হয় এবং ৫'-প্রান্তে গুয়ানিন (G) থাকে।
    • অ্যান্টিকোডন ফাঁশ (Anticodon loop): এই লুপের শীর্ষে ৩টি ক্ষারক নিয়ে গঠিত অ্যান্টিকোডন থাকে, যা mRNA-এর নির্দিষ্ট কোডনের সম্পূরক হিসেবে যুক্ত হয়।
    • ডি-ফাঁশ (D-loop): এটি ডাইহাইড্রোইউরিডিন সমৃদ্ধ লুপ, যা অ্যামাইনোঅ্যাসাইল সিন্থেটেজ এনজাইমের সাথে সংযোগে সাহায্য করে।
    • টি-সাই-সি ফাঁশ (TΨC loop): এটি রাইবোজোমের সাথে tRNA-এর সংযোগে সহায়তা করে।
    • অতিরিক্ত বা পরিবর্তনশীল ফাঁশ (Variable loop): এটি অ্যান্টিকোডন ও TΨC বাহুর মাঝে অবস্থান করে।
      ৩. ক্ষারক জোড়: কিছু অংশে হাইড্রোজেন বন্ধন থাকায় এটি দেখতে অনেকটা ত্রিমাত্রিক ক্লোভার পাতার মতো দেখায়।
  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত 'A' নিউক্লিক এসিডটি হলো ডিএনএ (DNA)। জীবদেহে DNA-এর গুরুত্ব অপরিসীম:
    ১. বংশগতির আণবিক ভিত্তি: DNA জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে পিতা-মাতা থেকে বৈশিষ্ট্য বংশপরম্পরায় সন্তানে সঞ্চারিত করে।
    ২. জীবনের নীলনকশা (Blueprint): জীবের দৈহিক গঠন, সার্বিক বৃদ্ধি ও সকল জৈবনিক ক্রিয়াকলাপের নির্দেশক হিসেবে কাজ করে।
    ৩. প্রোটিন সংশ্লেষণ নিয়ন্ত্রণ: DNA ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়ায় mRNA সৃষ্টির মাধ্যমে কোষের যাবতীয় এনজাইম ও গাঠনিক প্রোটিন তৈরির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
    ৪. কোষ বিভাজন ও রেপ্লিকেশন: DNA হুবহু অনুলিপন বা রেপ্লিকেশন ঘটিয়ে কোষ বিভাজনে সমান তথ্য নতুন কোষে সরবরাহ করে প্রজাতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করে।
    ৫. মিউটেশন ও বিবর্তন: DNA-এর রাসায়নিক গঠনে আকস্মিক পরিবর্তনের (মিউটেশন) ফলে জীবের মধ্যে বৈচিত্র্য দেখা দেয়, যা জৈব বিবর্তনের কাঁচামাল হিসেবে কাজ করে।
    ৬. ক্রাইম শনাক্তকরণ ও পিতৃত্ব নির্ণয়: ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিং পদ্ধতির মাধ্যমে অপরাধী শনাক্তকরণ, পিতৃত্ব-মাতৃত্ব বিরোধ নিষ্পত্তি এবং শ্রেণিবিন্যাসে DNA ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
    অতএব, জীবদেহের অস্তিত্ব, বংশগতি এবং সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় DNA-এর ভূমিকা মৌলিক ও অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন