জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
(i) CO2+H2O⟶A+O2+H2O \mathrm{CO}{2}+\mathrm{H}{2} \mathrm{O} \longrightarrow \mathrm{A}+\mathrm{O}{2}+\mathrm{H}{2} \mathrm{O}
(ii) C6H12O6+O2⟶CO2+H2O+E \mathrm{C}{6} \mathrm{H}{12} \mathrm{O}{6}+\mathrm{O}{2} \longrightarrow \mathrm{CO}{2}+\mathrm{H}{2} \mathrm{O}+\mathrm{E}
- ক)(1)
খনিজ পুষ্টি কী?
- খ)(2)
C3C_3 এবং C4C_4 উদ্ভিদ বলতে কী বুঝ ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম বিক্রিয়াটির 'A' বস্তুটি জীবজগতে কী ভূমিকা রাখে?
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পদ্ধতি দুটি উদ্ভিদের জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজন—বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ভিদ তার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য মাটি থেকে যেসকল অজৈব পুষ্টি উপাদান বা খনিজ লবণ শোষণ করে, সেগুলোকে খনিজ পুষ্টি বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব উদ্ভিদে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) বিজারণের ক্যালভিন চক্রে প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৩-ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড (৩-কার্বনবিশিষ্ট) উৎপন্ন হয়, তাদেরকে C3 উদ্ভিদ বলে (যেমন: ধান, গম, আম ইত্যাদি)।
অন্যদিকে, যেসব উদ্ভিদে CO2 বিজারণের হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্রে প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৪-কার্বনবিশিষ্ট অক্সালোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড উৎপন্ন হয়, তাদেরকে C4 উদ্ভিদ বলে (যেমন: ভুট্টা, আখ, মুথা ঘাস ইত্যাদি)। C4 উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণের হার C3 উদ্ভিদ অপেক্ষা বেশি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রথম বিক্রিয়াটি হলো সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া:
6CO2 + 12H2O --(আলো ও ক্লোরোফিল)--> C6H12O6 + 6H2O + 6O2
অতএব, এখানে 'A' বস্তুটি হলো গ্লুকোজ বা শর্করা (C6H12O6)।জীবজগতে শর্করা বা গ্লুকোজের ('A' বস্তুর) ভূমিকা অত্যন্ত ব্যাপক ও অপরিহার্য:
১. খাদ্যের উৎস: সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে যে গ্লুকোজ তৈরি করে, তা থেকে জটিল শর্করা ও উদ্ভিদের সামগ্রিক খাদ্য তৈরি হয়। উদ্ভিদভোজী প্রাণী সরাসরি এবং মাংসাশী প্রাণী পরোক্ষভাবে এই খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল।
২. শক্তির প্রধান উৎস: জীবের সকল জৈবনিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির মূল উৎস হলো গ্লুকোজ। শ্বসন প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ জারিত হয়ে জীবের বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় শক্তি (ATP) তৈরি করে।
৩. জৈবযৌগ সংশ্লেষণ: গ্লুকোজ উদ্ভিদদেহের সেলুলোজ, স্টার্চ, প্রোটিন, লিপিড ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গাঠনিক উপাদান তৈরির প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অতএব, 'A' তথা গ্লুকোজ জীবজগতের অস্তিত্ব রক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত (i) নং পদ্ধতিটি হলো 'সালোকসংশ্লেষণ' এবং (ii) নং পদ্ধতিটি হলো 'শ্বসন'। এই দুটি পদ্ধতিই উদ্ভিদের বেঁচে থাকা এবং জীবন ধারণের জন্য একে অপরের পরিপূরক ও অত্যাবশ্যক। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. খাদ্য উৎপাদন ও সালোকসংশ্লেষণ: উদ্ভিদ স্বভোজী জীব। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদ সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে। এই খাদ্য না পেলে উদ্ভিদের বৃদ্ধি, কোষ বিভাজন এবং শারীরবৃত্তীয় অন্যান্য ক্রিয়াকলাপ বন্ধ হয়ে যেত।
২. শক্তি উৎপাদন ও শ্বসন: সালোকসংশ্লেষণে খাদ্য তৈরি হলেও তা সরাসরি ব্যবহৃত হতে পারে না। শ্বসন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন খাদ্য জারিত হয়ে এটিপি (ATP) বা ব্যবহারযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এই শক্তি ব্যবহার করে উদ্ভিদ মাটি থেকে খনিজ লবণ শোষণ, প্রোটোপ্লাজমের সজীবতা রক্ষা, ক্ষয়পূরণ এবং বৃদ্ধি সম্পন্ন করে।
৩. গ্যাসীয় বিনিময় ও ভারসাম্য রক্ষা: সালোকসংশ্লেষণে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত CO2 নির্গত হয় শ্বসন প্রক্রিয়া থেকে। আবার শ্বসনের জন্য প্রয়োজনীয় O2 তৈরি হয় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায়। উদ্ভিদদেহে এবং পরিবেশে গ্যাসীয় ভারসাম্য রক্ষায় প্রক্রিয়া দুটি পরস্পর নির্ভরশীল।
৪. একে অপরের পরিপূরক: সালোকসংশ্লেষণ ছাড়া খাদ্য তৈরি হবে না, ফলে শ্বসনের কাঁচামাল থাকবে না। আবার শ্বসন না হলে খাদ্য জারিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন হবে না, ফলে উদ্ভিদ মারা যাবে।
সুতরাং, উদ্ভিদের জীবন ধারণ, বৃদ্ধি এবং সার্বিক শারীরবৃত্তীয় ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য উল্লিখিত সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন পদ্ধতি দুটি সমানভাবে অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও