পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, রংপুর • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, রংপুর টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব নাসরিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে আইন বিভাগে পড়াশোনা শেষ করে সহকারী জজ হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি 'নারী নির্যাতন দমন' আদালতে বিভিন্ন মামলা নিষ্পত্তি করেন।
- ক)(1)
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি কী?
- খ)(2)
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের জনাব নাসরিন সরকারের কোন বিভাগে কর্মরত উচ্চ বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার উপায়সমূহ ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকের বিভাগটির ভূমিকা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সরকারের তিনটি প্রধান অঙ্গ—আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের ক্ষমতাকে সম্পূর্ণ পৃথক রেখে নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে পরিচালনা করার নীতিকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে শাসন ব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক সরকারগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হয় এবং উভয়েই নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়, তাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলে। যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সাধারণত একটি লিখিত ও অনমনীয় সংবিধান থাকে এবং কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতার স্পষ্ট বিভাজন বজায় থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের জনাব নাসরিন সরকারের বিচার বিভাগে কর্মরত। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার উপায়সমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. বিচারক নিয়োগের সুষ্ঠু পদ্ধতি: রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে মেধা, সততা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগ দিতে হবে।
২. চাকরির নিশ্চয়তা ও স্থায়ী মেয়াদ: বিচারকদের সহজে বা প্রশাসনিক ইচ্ছামাফিক অপসারণ করা যাবে না। কেবল সুনির্দিষ্ট নিয়ম বা জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমেই অপসারণের বিধান থাকতে হবে।
৩. পর্যাপ্ত বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা: বিচারকদের উপযুক্ত ও আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা প্রদান করতে হবে, যাতে তারা আর্থিক প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে রায় দিতে পারেন।
৪. শাসন বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ: বিচার বিভাগকে শাসন ও আইন বিভাগের প্রভাব বা কর্তৃত্ব থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ স্বাধীন রাখা আবশ্যক। বিচার প্রশাসন ও ম্যাজিস্ট্রেসি বিচার বিভাগের অধীনেই পরিচালিত হওয়া উচিত। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকে বর্ণিত বিভাগটি অর্থাৎ বিচার বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিসীম।
আইনের শাসন বলতে বোঝায়—আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান, বিনা বিচারে কাউকে শাস্তি না দেওয়া এবং আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার সবার থাকা। বিচার বিভাগ হলো আইনের শাসনের প্রধান অভিভাবক ও অতন্দ্র প্রহরী।
প্রথমত, বিচার বিভাগ নাগরিকের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করে। রাষ্ট্রের শাসন বিভাগ বা আইন বিভাগ কোনো আইন বা পদক্ষেপের মাধ্যমে মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করলে বিচার বিভাগ তা বাতিল ঘোষণা করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, বিচার বিভাগ সংবিধানের অভিভাবক ও ব্যাখ্যাকারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। সংবিধানবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ড রোধ করে বিচার বিভাগ আইনের শাসন বজায় রাখে।
তৃতীয়ত, বিচার বিভাগ দুর্বল ও সবলের মধ্যে সমতা এনে নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করে। অপরাধীকে শাস্তি প্রদান এবং নির্যাতিতকে ন্যায়বিচার দেওয়ার মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা করে। উদ্দীপকের জনাব নাসরিন 'নারী নির্যাতন দমন' আদালতে কাজ করে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করছেন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করছেন।
সুতরাং, একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ ছাড়া কার্যকর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্পূর্ণ অসম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও