জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
মুখছিদ্র → E → অন্ননালি → পাকস্থলি → F → G
- ক)(1)
স্থূলতা কী?
- খ)(2)
আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
মানবদেহে উদ্দীপকে G এর ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে F অঙ্গে প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের চূড়ান্ত পরিপাক প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শরীরে অতিরিক্ত চর্বি বা মেদ জমার কারণে দেহের ওজন আদর্শ ওজনের চেয়ে স্বাভাবিকের তুলনায় অত্যধিক বৃদ্ধি পাওয়াকে স্থূলতা (Obesity) বলে (BMI ৩০ বা তার বেশি হলে তাকে স্থূলতা বলা হয়)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স হলো অগ্ন্যাশয়ের অন্তঃক্ষরা অংশ, যা বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থিত কোষগুচ্ছ নিয়ে গঠিত। এতে চার ধরনের প্রধান কোষ থাকে— আলফা কোষ (যা গ্লুকাগন ক্ষরণ করে), বিটা কোষ (যা ইনসুলিন ক্ষরণ করে), ডেল্টা কোষ (সোমাটোস্ট্যাটিন ক্ষরণ করে) এবং পিপি কোষ (প্যানক্রিয়াটিক পলিপেপটাইড ক্ষরণ করে)। এরা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পৌষ্টিকনালির প্রবাহচিত্র অনুযায়ী পাকস্থলির পর F হলো ক্ষুদ্রান্ত্র এবং G হলো বৃহদান্ত্র (Large intestine)। মানবদেহে বৃহদান্ত্রের (G) ভূমিকা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. পানি ও খনিজ লবণ শোষণ: ক্ষুদ্রান্ত্রে খাদ্যের পরিপাক ও শোষণ শেষে অপাচ্য তরল অংশ বৃহদান্ত্রে প্রবেশ করে। বৃহদান্ত্রের কোলন এই অংশ থেকে প্রচুর পরিমাণ পানি ও অজৈব লবণ পুনঃশোষণ করে দেহকে পানিশূন্যতার হাত থেকে রক্ষা করে।
২. মল গঠন ও নিষ্কাশন: অপাচ্য ও অশোষিত বর্জ্য পদার্থ বৃহদান্ত্রে জমা হয়ে পানির পরিমাণ কমে আধা-কঠিন মলে রূপান্তরিত হয় এবং সাময়িকভাবে মলাশয়ে জমা থাকে, যা পরবর্তীতে মলদ্বারের মাধ্যমে দেহ থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়।
৩. উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা ও ভিটামিন সংশ্লেষ: বৃহদান্ত্রে কলোনি গঠন করে থাকা বিভিন্ন উপকারী সিম্বায়োটিক ব্যাকটেরিয়া অপাচ্য খাদ্যকে পচনে সহায়তা করে এবং ভিটামিন-কে, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স (বায়োটিন, ফোলিক অ্যাসিড) সংশ্লেষ করে দেহে শোষণ করতে সাহায্য করে।
৪. মিউকাস ক্ষরণ: বৃহদান্ত্রের গবলেট কোষ থেকে ক্ষরিত মিউকাস মলকে পিচ্ছিল করে সহজে নিঃসরণে সহায়তা করে এবং বৃহদান্ত্রের প্রাচীরকে ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে F অঙ্গটি হলো ক্ষুদ্রান্ত্র (Small intestine)। ক্ষুদ্রান্ত্রে অগ্ন্যাশয় রস ও অন্ত্ররসের (আন্ত্রিক রস) বিভিন্ন প্রোটিওলাইটিক এনজাইমের ক্রিয়ায় প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের চূড়ান্ত পরিপাক সম্পন্ন হয়ে তা শোষণযোগ্য অ্যামিনো অ্যাসিডে পরিণত হয়। নিচে এই প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অগ্ন্যাশয় রসের এনজাইম দ্বারা পরিপাক:
পাকস্থলি থেকে আসা আংশিক পরিপাককৃত প্রোটিন, প্রোটিওজ ও পেপটোনের ওপর অগ্ন্যাশয় রসের এনজাইমগুলো ক্রিয়া করে:- ট্রিপসিন: ট্রিপসিনোজেন থেকে এন্টারোকাইনেজের সাহায্যে সক্রিয় হয়ে প্রোটিন ও পেপটোনকে ভেঙে পেপটাইড ও ক্ষুদ্র পেপটাইডে পরিণত করে।
- কাইমোট্রিপসিন: প্রোটিওজ ও পেপটোনকে ভেঙে ক্ষুদ্র পেপটাইড বা পলিপেপটাইডে রূপান্তরিত করে।
- কার্বক্সিপেপটাইডেজ: পলিপেপটাইডের প্রান্তীয় পেপটাইড বন্ধন ভেঙে মুক্ত অ্যামিনো অ্যাসিড ও সরল পেপটাইড তৈরি করে।
- কোলাজিনেজ ও ইলাস্টেজ: যথাক্রমে মাংসের কোলাজেন ও ইলাস্টিন তন্তুকে ভেঙে পেপটাইডে পরিণত করে।
২. আন্ত্রিক রসের (Intestinal juice) এনজাইম দ্বারা চূড়ান্ত পরিপাক:
অগ্ন্যাশয় রসের ক্রিয়ার পর অবশিষ্ট পলিপেপটাইড ও ডাইপেপটাইডগুলোর ওপর আন্ত্রিক রসের এনজাইম কাজ করে:- অ্যামিনোপেপটাইডেজ: পলিপেপটাইডের অ্যামিনো প্রান্ত ভেঙে সরল পেপটাইড ও অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরি করে।
- ট্রাইপেপটাইডেজ: ট্রাইপেপটাইডকে আর্দ্রবিশ্লেষিত করে অ্যামিনো অ্যাসিড ও ডাইপেপটাইডে রূপান্তর করে।
- ডাইপেপটাইডেজ: ডাইপেপটাইডকে ভেঙে সম্পূর্ণভাবে দুটি একক অ্যামিনো অ্যাসিডে পরিণত করে।
এভাবে ক্ষুদ্রান্ত্রে (F) বিভিন্ন প্রোটিওলাইটিক এনজাইমের যৌথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জটিল প্রোটিন সম্পূর্ণভাবে ভেঙে এর সরল ও শোষণযোগ্য একক 'অ্যামিনো অ্যাসিড'-এ পরিণত হয়ে চূড়ান্ত পরিপাক সম্পন্ন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও