‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

ক' রাষ্ট্রের এক অংশের জনগণ তাদের মাতৃভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা প্রতিষ্ঠার জন্য দাবি করে আসছিল। তখনকার শাসকগোষ্ঠী কোনোক্রমেই উক্ত দাবি মানতে রাজি ছিল না। অবশেষে ঐ অঞ্চলের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী মাতৃভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়। ছাত্র-শ্রমিক-জনতা স্লোগানে স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে রাখে। শাসকগোষ্ঠী এ দাবি মেনে না নিয়ে শান্তিপ্রিয় নিরীহ জনগণের উপর গুলি চালিয়ে তাদের হতাহত করে। অবশেষে তীব্র গণআন্দোলনের মুখে শাসকগোষ্ঠী দাবি মানতে বাধ্য হয়।

  1. ক)

    স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র কী?

    (1)
  2. খ)

    'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' কেন আয়োজন করা হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আন্দোলনের মিল রয়েছে?

    (3)
  4. ঘ)

    বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে উদ্দীপকে উল্লিখিত আন্দোলনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হলো ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত একটি ঐতিহাসিক বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র, যা দেশপ্রেমমূলক গান, সংবাদ ও চরমপত্রের মতো অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর নির্যাতন, গণহত্যা এবং ভারতে আশ্রয় নেওয়া কোটি শরণার্থীর দুর্দশার চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা এবং শরণার্থীদের জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' আয়োজন করা হয়েছিল। বিশ্বখ্যাত সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর ও বিটলস ব্যান্ডের জর্জ হ্যারিসনের উদ্যোগে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এই ঐতিহাসিক কনসার্টটি অনুষ্ঠিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের ১৯৫২ সালের 'ভাষা আন্দোলন'-এর মিল রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, একটি রাষ্ট্রের এক অংশের জনগণ মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানায়, কিন্তু তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী তা প্রত্যাখ্যান করে। একপর্যায়ে ছাত্র-জনতা রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুললে শাসকগোষ্ঠী নিরীহ মানুষের ওপর গুলি চালায় এবং তীব্র গণআন্দোলনের মুখে দাবি মানতে বাধ্য হয়।

    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির মাতৃভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার অপচেষ্টা চালানো হয়। এর প্রতিবাদে বাঙালি ছাত্র-জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করা হলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায় এবং সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। তীব্র রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর অবশেষে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট এই ভাষা আন্দোলনের সাথেই সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি এবং বিকাশের প্রথম সোপান ছিল উদ্দীপকে উল্লিখিত ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন।

    দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টি হলেও শুরু থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে এই শোষণ প্রকাশ পায়। কিন্তু বাঙালিরা রক্ত দিয়ে ভাষার অধিকার আদায়ের মাধ্যমে উপলব্ধি করে যে, কেবল ধর্মীয় ঐক্য একটি জাতির পরিচয় হতে পারে না; ভাষা ও সংস্কৃতিই হলো তাদের মূল সত্তা।

    ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালিরা প্রথম নিজেদের স্বাধিকার ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়। এটি বাঙালির মনে ধর্মনিরপেক্ষ, প্রগতিশীল ও ঐক্যবদ্ধ জাতিসত্তা বা বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটায়। এই জাতীয়তাবাদী চেতনার পথ ধরেই পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬ দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন এবং পরিশেষে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়। সুতরাং, বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে ও স্বাধীনতা অর্জনের ভিত্তি রচনায় ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন