যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
যুক্তি-১: সানির রক্তের রং হয় লাল।আদির রক্তের রং হয় লাল।রানীর রক্তের রং হয় লাল।∴\therefore সকল মানুষের রক্তের রং হয় লাল।যুক্তি-২: এ পর্যন্ত যত তেঁতুল খেয়েছি সবই টক। অতএব সকল তেঁতুল হয় টক।
- ক)(1)
সাদৃশ্যানুমান কাকে বলে?
- খ)(2)
পূর্ণাঙ্গ আরোহকে প্রকৃত আরোহ বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে যুক্তি-১ এ কোন ধরনের আরোহ অনুমানের প্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
পাঠ্যবইয়ের আলোকে যুক্তি-১ ও যুক্তি-২ এর পার্থক্য লেখ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুটি বস্তুর মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে সাদৃশ্য বা মিল লক্ষ্য করে যদি তাদের একটিতে কোনো বিশেষ গুণের উপস্থিতি দেখে অপরটিতেও সেই গুণের উপস্থিতি অনুমান করা হয়, তবে তাকে সাদৃশ্যানুমান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পূর্ণাঙ্গ আরোহে একটি সার্বিক যুক্তিবাক্যের অন্তর্গত প্রতিটি বিশেষ দৃষ্টান্ত পরীক্ষা করে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। যুক্তিবিদদের মতে, এতে আরোহমূলক লম্ফ না থাকা সত্ত্বেও একে আরোহ বলা হয় কারণ এটি বিশেষ থেকে সার্বিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয় এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে বস্তুগত সত্যতা প্রতিষ্ঠা করে। তবে মূলধারার যুক্তিবিদ্যায় (যেমন মিলের মতে) এটিকে অপ্রকৃত আরোহ বলা হলেও অনেক যুক্তিবিদ একে নিশ্চিত জ্ঞানের উৎস হিসেবে প্রকৃত বিবেচনা করেন। প্রশ্নানুসারে, এটি প্রতিটি দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে বাস্তব ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত সংশ্লেষক সত্য উপস্থাপন করে বলেই অনেকে একে আরোহের অন্তর্ভুক্ত মনে করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের যুক্তি-১ এ 'বৈজ্ঞানিক আরোহ' অনুমানের প্রকাশ ঘটেছে।\n\nপ্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি বিশেষ ঘটনার অভিজ্ঞতার সাহায্যে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করার প্রক্রিয়াকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে।\n\nউদ্দীপকের যুক্তি-১ এ সানি, আদি ও রানীর মতো কতিপয় বিশেষ মানুষের রক্তের রং লাল পর্যবেক্ষণ করে 'সকল মানুষের রক্তের রং হয় লাল'—এই সার্বিক সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে। মানুষের দৈহিক গঠন ও রক্তে হিমোগ্লোবিনের উপস্থিতির মধ্যে একটি অন্তর্নিহিত কার্যকারণ সম্পর্ক বিদ্যমান। এখানে পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক সত্যের (কার্যকারণ সম্পর্ক) ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যা বৈজ্ঞানিক আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের যুক্তি-১ হলো 'বৈজ্ঞানিক আরোহ' এবং যুক্তি-২ হলো 'অবৈজ্ঞানিক আরোহ'। এদের মধ্যকার প্রধান পার্থক্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:\n\n১. কার্যকারণ সম্পর্ক: যুক্তি-১ (বৈজ্ঞানিক আরোহ) প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির পাশাপাশি কার্যকারণ নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত। মানুষের রক্তের লাল রঙের পেছনে হিমোগ্লোবিনের কারণ বিদ্যমান। পক্ষান্তরে, যুক্তি-২ (অবৈজ্ঞানিক আরোহ)-এ তেঁতুল টক হওয়ার পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক বা কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা না করে কেবল সাধারণ অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।\n\n২. অভিজ্ঞতার প্রকৃতি: বৈজ্ঞানিক আরোহে বিশেষ দৃষ্টান্তসমূহ সুনিয়ন্ত্রিত পর্যবেক্ষণ ও অনুকূল-প্রতিকূল দৃষ্টান্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহে কেবল অবাধ ও একানুবর্তী অভিজ্ঞতার (এ পর্যন্ত যত দেখেছি সবই টক, কোনো ব্যতিক্রম দেখিনি) ওপর নির্ভর করা হয়।\n\n৩. সিদ্ধান্তের নিশ্চিততা: বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত, কারণ তা কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে। পক্ষান্তরে, অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য, কারণ ভবিষ্যতে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত (যেমন মিষ্টি তেঁতুল) পাওয়া গেলেই সিদ্ধান্তটি ভুল প্রমাণিত হতে পারে।\n\n৪. বৈজ্ঞানিক মূল্য: বৈজ্ঞানিক আরোহে আরোহমূলক লম্ফের ঝুঁকি কার্যকারণ সম্পর্কের দ্বারা দূর করা হয়, ফলে এটি বৈজ্ঞানিক দিক থেকে অত্যন্ত মূল্যবান। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহে কোনো কার্যকারণ প্রমাণ না থাকায় তা সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার সমপর্যায়ের এবং এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি দুর্বল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও