সাহিত্য পাঠ • স্বদেশ • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
মুখে দেয় জল, সুধায় কুশল, শিরে দেয় মোর হাত, দাঁড়ায়ে নিঝুম, চোখে নাই ঘুম, মুখে নাই তার ভাত ।বলে বার বার, 'কর্তা, তোমার কোন ভয় নাই, শুন- যাবে দেশে ফিরে, মা ঠাকুরাণীরে দেখিতে পাইবে পুন ।'লভিয়া আরাম আমি উঠিলাম, তাহারে ধরিল জ্বরে, নিল সে আমার কালব্যাধিভার আপনার দেহ পরে।
- ক)(1)
'বিলাসী' গল্পে মৃত্যুঞ্জয় কোন ক্লাসে পড়ত?
- খ)(2)
“স্বদেশের মঙ্গলের জন্য সমস্ত অকাতরে সহ্য করিয়া তাহাকে হিড়হিড় করিয়া টানিয়া লইয়া চলিলাম।”—ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ভৃত্যের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ‘বিলাসী' গল্পের কোন চরিত্রের মিল পাওয়া যায়? বুঝিয়ে লেখ।
- ঘ)(4)
''উদ্দীপকের পরিণতি থেকে 'বিলাসী' গল্পের পরিণতি ভয়াবহ।”—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বিলাসী' গল্পে মৃত্যুঞ্জয় থার্ড ক্লাসে (বর্তমান অষ্টম শ্রেণি) পড়ত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি দ্বারা মৃত্যুঞ্জয়কে স্নেচ্ছ সাপুড়ের জাত থেকে ফিরিয়ে এনে জাত রক্ষা করার নামে নিষ্ঠুর নির্যাতনের মধ্য দিয়ে সমাজপতিদের স্বজাতিপ্রীতির নির্লজ্জ ভণ্ডামিকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।
মৃত্যুঞ্জয় যখন কঠিন রোগে শয্যাশায়ী ছিল, তখন সমাজের কোনো জ্ঞাতি-ভাই বা স্বজাতি তার খোঁজ নেয়নি। বিলাসী নিজের জীবন বাজি রেখে সেবা করে তাকে সুস্থ করে তোলে। পরবর্তীতে মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে গ্রহণ করলে জাত খোয়ানোর অজুহাতে সমাজের মাতব্বররা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা বিলাসীকে প্রহার করে এবং মৃত্যুঞ্জয়কে জোরপূর্বক হিঁচড়ে টেনে নিয়ে যায়। লেখক এই নির্মম ও অমানবিক কর্মকে কটাক্ষ করে 'স্বদেশের মঙ্গলের জন্য' কাজ বলে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ভৃত্যের নিঃস্বার্থ সেবা ও আত্মত্যাগের বৈশিষ্ট্যের সাথে 'বিলাসী' গল্পের বিলাসী চরিত্রের গভীর মিল পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, একজন বিশ্বস্ত ভৃত্য মনিবের চরম অসুস্থতায় বিনিদ্র রজনী জেগে সেবা-শুশ্রূষা করেছে, মাথায় হাত বুলিয়ে অভয় দিয়েছে এবং অবশেষে নিজের জীবনের বিনিময়ে মনিবকে আরোগ্য দান করে নিজেই রোগাক্রান্ত হয়েছে।
'বিলাসী' গল্পেও দেখা যায়, মৃত্যুঞ্জয়ের আত্মীয়-স্বজন যখন তাকে মৃত্যুর মুখে ফেলে রেখেছিল, তখন এক অন্নপাপিনী সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী একাকী দেড় মাস ধরে দিনরাত অক্লান্ত সেবা করে মৃত্যুঞ্জয়কে যমদূতের হাত থেকে ফিরিয়ে এনেছিল। নিজের আরাম-আয়েশ, আহার ও বিশ্রামের পরোয়া না করে সে নিজেকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে মৃত্যুঞ্জয়কে বাঁচিয়ে তোলে। উদ্দীপকের ভৃত্যের ন্যায় বিলাসীও ছিল নিঃস্বার্থ সেবা, গভীর মমতা এবং চরম আত্মোৎসর্গের মূর্ত প্রতীক। তাই উদ্দীপকের ভৃত্যের সেবাপরায়ণতা ও আত্মত্যাগের বৈশিষ্ট্যের সাথে বিলাসী চরিত্রের সুস্পষ্ট মিল রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
''উদ্দীপকের পরিণতি থেকে 'বিলাসী' গল্পের পরিণতি ভয়াবহ।''—মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও যৌক্তিক।
উদ্দীপকে মনিবের রোগমুক্তি হলেও ভৃত্যটি নিজে রোগে আক্রান্ত হয়েছে। সেখানে একটি আত্মত্যাগের ঘটনা ঘটলেও এতে সামাজিক কোনো অবিচার, নিপীড়ন কিংবা মৃত্যুর মতো চূড়ান্ত ট্র্যাজেডি বর্ণিত হয়নি; শুধুমাত্র ভৃত্যের রোগাক্রান্ত হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
কিন্তু 'বিলাসী' গল্পের পরিণতি ছিল অত্যন্ত করুণ, নৃশংস ও ভয়াবহ। বিলাসী শুধু সেবা করেই ক্ষান্ত হয়নি, মৃত্যুঞ্জয়ের সঙ্গে প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সমাজচ্যুত হয়েছিল। পরবর্তীতে মৃত্যুঞ্জয় সাপের কামড়ে তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করে। প্রিয়তম স্বামীর মৃত্যুর পর গ্রামের তথাকথিত সমাজপতিদের নিষ্ঠুর আচরণ এবং চরম একাকীত্বে বিলাসী বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে। যে সমাজ মৃত্যুঞ্জয়ের অসুস্থতায় পাশে ছিল না, সেই সমাজই বিলাসীকে কোনো মানবিক আশ্রয় দেয়নি, বরং মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। মৃত্যুঞ্জয়ের অকালমৃত্যু এবং সমাজ-নির্যাতিত বিলাসীর বিষপানে আত্মাহুতির এই জোড়া ট্র্যাজেডি পুরো পরিবেশকে শোকাচ্ছন্ন ও ভয়াবহ করে তোলে।
উদ্দীপকে সেবা করতে গিয়ে কেবল জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার কথা বলা হলেও 'বিলাসী' গল্পে দুই-দুটি অমূল্য প্রাণের মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক অবসান ঘটেছে। তাই নিঃসংশয়ে বলা যায়, উদ্দীপকের পরিণতি থেকে 'বিলাসী' গল্পের পরিণতি বহুলাংশে ভয়াবহ ও মর্মান্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও